গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, গ্রেফতার ৫ অভিযুক্ত
দৈনিক জনকণ্ঠ, প্রীতিময় সরখেল, ধূপগুড়িঃ ধূপগুড়ি শহরে রাস্তার ধারে গাড়ি রেখে নিশ্চিন্তে বাড়িতে ঘুমোচ্ছেন? তাহলে এখনই সতর্ক হওয়ার সময়। কারণ, চোখের পলকেই গাড়ির ব্যাটারি কিংবা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে যেতে পারে। সম্প্রতি ধূপগুড়ি শহরে একাধিক গাড়ির ব্যাটারি চুরির ঘটনায় ব্যবসায়ী ও গাড়ির মালিকদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে টানা তদন্তে বড় সাফল্য পেল ধূপগুড়ি থানার পুলিশ। প্রথমে তিনজনকে গ্রেফতার করার পর তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও দুই অভিযুক্তের খোঁজ মেলে। সব মিলিয়ে এই চুরি চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে চুরি যাওয়া মোট ১৫টি গাড়ির ব্যাটারি।
কিছুদিন আগে ধূপগুড়ির সুটকিহাটি এলাকায় বিশ্বকর্মা ধর্মকাটার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়ির ব্যাটারি চুরি করে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। এরপর স্টেশন মোড় সংলগ্ন একটি পেট্রল পাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরও কয়েকটি গাড়ি থেকেও ব্যাটারি চুরির ঘটনা ঘটে। কোনো ব্যাটারির দাম ৩৫ হাজার টাকা, কোনোটি ২২ হাজার টাকা, আবার কোনোটি ১৪ হাজার টাকা। লক্ষ লক্ষ টাকার ব্যাটারি চুরি হয়ে যাওয়ায় রীতিমতো আতঙ্কে পড়েন ব্যবসায়ী ও গাড়ির মালিকরা।
চুরির ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই তদন্তে নামে ধূপগুড়ি থানার পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বৃষ্টিভেজা গভীর রাতে মুখ ঢাকা অবস্থায় তিন থেকে চারজন যুবক একের পর এক গাড়ির কাছে গিয়ে জানালা ভেঙে কিংবা দরজা খুলে গাড়ির ভিতরে প্রবেশ করছে। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাটারি খুলে নিয়ে দৌড়ে ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। সেই সিসিটিভি ফুটেজকেই তদন্তের প্রধান সূত্র হিসেবে ব্যবহার করে পুলিশ।
বুধবার রাতে ধূপগুড়ি ও বানারহাট এলাকা থেকে গোপাল কর্মকার (২৮), মহাদেব কর্মকার (২০) এবং সুজিত রায় (২০)-কে গ্রেফতার করে ধূপগুড়ি থানার পুলিশ। ধৃতদের আদালতে পেশ করলে পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর হয়। এর পরেই তদন্তে নেমে শুক্রবার রাতে ময়নাগুড়ি দেবিনগর এলাকা থেকে স্বপন মন্ডল (৫০)ও গৌরাঙ্গ রায় (৪৭) নামে দুজন কে গ্রেপ্তার করে ধূপগুড়ি থানায় নিয়ে আসেন পুলিশ। উদ্ধার করা হয় ১৫ টি গাড়ির ব্যাটারি।
রিমান্ডে এনে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতদের কাছ থেকে আরও দুই অভিযুক্তের নাম জানতে পারে তদন্তকারী দল। এরপর অভিযান চালিয়ে ময়নাগুড়ি থানার দেবীনগর এলাকা থেকে আরও দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় চুরি হওয়া ১৫টি গাড়ির ব্যাটারি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ব্যাটারিগুলি ধূপগুড়ি শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি করা হয়েছিল।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ধৃতরা দীর্ঘদিন ধরে গাড়ির ব্যাটারি, টায়ারসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চুরি করে বিক্রি করার সঙ্গে জড়িত ছিল। তদন্তকারীদের ধারণা, গাড়ির যন্ত্রাংশ সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিরাই এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত। কারণ খুব অল্প সময়ের মধ্যে গাড়ির দরজা খুলে বা জানালা ভেঙে ব্যাটারি খুলে নিয়ে পালিয়ে যাওয়া সাধারণ মানুষের পক্ষে সহজ নয়। পুলিশ এখন ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে। উদ্ধার হওয়া ব্যাটারিগুলির প্রকৃত মালিকদের শনাক্ত করার কাজও শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে ধূপগুড়ি শহরে একাধিক চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা সামনে এসেছে। শহরের ঐতিহ্যবাহী মায়েরথান কালীমন্দির থেকেও কয়েক লক্ষ টাকার সোনা-রুপোর গয়না চুরি হলেও এখনও পর্যন্ত সেই ঘটনার কিনারা করতে পারেনি পুলিশ। এছাড়া কেপমারি, চেন ছিনতাই-সহ একাধিক অপরাধে উদ্বেগ বেড়েছে শহরবাসীর। তারই মধ্যে গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার এবং ১৫টি চুরি যাওয়া ব্যাটারি উদ্ধারকে ধূপগুড়ি থানার পুলিশের একটি বড় সাফল্য বলেই মনে করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তদন্তকারীদের দাবি, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।








