উল্টোরথের রশিতে প্রথম টান গুপ্তিপাড়ায়, ভক্তসমাগমে মুখর ৩৬ ফুটের ঐতিহ্যের রথযাত্রা
দৈনিক জনকণ্ঠ, আব্দুল গফফার, হুগলি: হুগলির বলাগড়ের গুপ্তিপাড়ায় ঐতিহ্যবাহী বৃন্দাবন জিউর উল্টো রথ উপলক্ষ্যে শুক্রবার দুপুরে রথের রশিতে প্রথম টান পড়তেই ভক্তদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। দুপুর প্রায় ১২টা নাগাদ মাসির বাড়ি থেকে যাত্রা শুরু করে রথ, যা এক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ফিরে আসে বৃন্দাবন জিউ মন্দিরে।
বাংলার অন্যতম প্রাচীন ও প্রসিদ্ধ রথযাত্রাগুলির মধ্যে গুপ্তিপাড়ার রথযাত্রা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ইতিহাস অনুযায়ী, ১৭৪০ সালে এই রথযাত্রা উৎসবের সূচনা হয়। প্রায় ২৮৬ বছরের ঐতিহ্য বহন করে চলেছে বৃন্দাবন জিউর এই রথ, যা বৃন্দাবন জিউ রথ নামেই অধিক পরিচিত। সারা বছর জগন্নাথদেব, বলরাম ও সুভদ্রা বৃন্দাবন জিউ মন্দিরে বিরাজ করেন। রথযাত্রার দিন তাঁরা রথে চড়ে গোসাঁইগঞ্জ-বড়বাজারে অবস্থিত মাসির বাড়িতে যান। উল্টো রথের দিন সেখান থেকেই দেবতাদের পুনরায় বৃন্দাবন জিউ মন্দিরে ফিরিয়ে আনা হয়। সকাল থেকেই মাসির বাড়ি মন্দিরে বিশেষ পূজাপাঠ ও ধর্মীয় আচার পালিত হয়। বছরের অধিকাংশ সময় বৃন্দাবনচন্দ্র মঠের পাশে টিনের আবরণে সংরক্ষিত থাকে ঐতিহাসিক এই রথ। চারতলা বিশিষ্ট রথটির উচ্চতা প্রায় ৩৬ ফুট এবং দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ প্রায় ৩৪ ফুট। একসময় রথে ১২টি চূড়া থাকলেও বর্তমানে রয়েছে ৯টি।
গুপ্তিপাড়ার রথযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ ভাণ্ডার লুট। উল্টোরথের আগের দিন প্রাচীন রীতি মেনে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এবারের ভাণ্ডার লুটে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। উৎসব উপলক্ষ্যে নিরাপত্তায় ছিল কড়া নজরদারি। হুগলি গ্রামীণ পুলিশের বিভিন্ন থানার ওসিদের নেতৃত্বে বিপুল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে গোটা এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হয়।
রথযাত্রাকে ঘিরে গুপ্তিপাড়ায় বসেছে বিশাল মেলা। হুগলি ছাড়াও পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগণা-সহ বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার ভক্ত ও দর্শনার্থী সমবেত হন। রথের রশিতে টান দিতে এবং ঐতিহ্যের সাক্ষী হতে মানুষের ঢলে দিনভর গমগম করে উৎসব প্রাঙ্গণ।








