সুথারের অতিমানবিক পারফরম্যান্স,গল-এ প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজে এগোলো ভারত

আসাদ আলি, দৈনিক জনকণ্ঠঃ
শেষ দিনের শুরুতে জয়ের জন্য ভারতকে তুলতে হত ছ’টি উইকেট। শ্রীলঙ্কার সামনে জয়ের জন্য বাকি ছিল ২৮৮ রান। ম্যাচের পাল্লা ভারতের দিকে ভারী হলেও লড়াই তখনও বাকি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মানব সুথারের ঘূর্ণিতে ভেঙে পড়ল শ্রীলঙ্কার প্রতিরোধ। গলে প্রথম টেস্ট ১৬৫ রানে জিতে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত।
ম্যাচের শুরু থেকেই ভারত তৈরি করেছিল জয়ের ভিত। প্রথম ইনিংসে দেবদত্ত পাড়িক্কলের ১৬৭ এবং লোকেশ রাহুলের ৮২ রানের সৌজন্যে ৪৬২ রান তোলে তারা। জবাবে সোনাল দিনুশার শতরানের পরেও শ্রীলঙ্কা থামে ২৮৪ রানে। ভারত পায় ১৭৮ রানের লিড। দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রুত রান তুলে শ্রীলঙ্কার সামনে ৩৭২ রানের লক্ষ্য রাখে ভারত। ঋষভ পন্থের ৬৬ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংস সেই রান তোলার গতি বাড়িয়ে দেয়। চতুর্থ দিনের শেষে শ্রীলঙ্কা ৮৪ রানে চার উইকেট হারিয়েছিল। শেষ দিনে তাই ম্যাচে ফেরার জন্য তাদের প্রয়োজন ছিল বড় জুটি।
সেই কাজটাই কিছুটা করেছিলেন দিনুশা ও ধনঞ্জয়া ডি’সিলভা। দু’জনের প্রতিরোধে এক সময় ভারতকে অপেক্ষা করতে হচ্ছিল। ধনঞ্জয়া ৫৯ রান করে ফিরে গেলেও দিনুশা লড়াই চালিয়ে যান। কিন্তু জাডেজা তাঁর সঙ্গীকে ফেরানোর পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করে নেয় ভারত। তার পরেই শুরু সুথারের আসল দাপট। দিনুশাকে ৮৪ রানে ফেরানোর পর শ্রীলঙ্কার ইনিংসে আর কোনও প্রতিরোধ গড়ে ওঠেনি। মাত্র ১০ বলের মধ্যে চারটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের দরজা পুরোপুরি বন্ধ করে দেন সুথার। শেষ পর্যন্ত ২০৬ রানে গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। প্রথম ইনিংসে ৪-৭৬ নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে সুথারের শিকার ৬-৫৫; ম্যাচে মোট ১০ উইকেট। গলের জয়ে তাঁর অবদান তাই আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। রবীন্দ্র জাডেজার কার্যকর স্পেলও ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এগিয়ে রাখে। ব্যাট হাতে পাড়িক্কলের বড় ইনিংস, রাহুলের ধৈর্য, পন্থের আগ্রাসন আর শেষে সুথারের ঘূর্ণি – সব মিলিয়ে চার দিনের লড়াইয়ে এই সমন্বয়ই পার্থক্য গড়ে দিল। গলের কঠিন পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কাকে শেষ পর্যন্ত ১৬৫ রানে হারিয়ে সিরিজের শুরুটা দারুণ করল ভারত।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত ৪৬২ ও ১৯৩; শ্রীলঙ্কা ২৮৪ ও ২০৬।
ভারত জয়ী ১৬৫ রানে। সিরিজে ১-০ এগিয়ে ভারত।





















































































































