তাইপেই ওপেনে ইতিহাস, ১৮ বছর পর ভারতকে খেতাব এনে দিলেন ১৭ বছরের তন্বী

মুহম্মদ শাহবাজ-দৈনিক জনকণ্ঠ: ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের নতুন সূর্যোদয়। সাইনা নেওয়াল এবং পিভি সিন্ধুর উত্তরসূরি হিসেবে যাঁকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আশা, সেই ১৭ বছরের তন্বী শর্মা গড়ে ফেললেন ইতিহাস। ভিয়েতনামের শক্তিশালী প্রতিপক্ষ থুই লিন নগুয়েনকে সরাসরি গেমে হারিয়ে তাইপেই ওপেন সুপার ৩০০ খেতাব জিতে নিলেন পঞ্জাবের এই তরুণী। সাইনা নেওয়ালের পর ১৮ বছর পর দ্বিতীয় ভারতীয় মহিলা হিসেবে তাইপেই ওপেন জয়ের নজির গড়লেন তন্বী। ফাইনালে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন তন্বী। ৩৬ মিনিটের লড়াইয়ে মাঝে মধ্যে কিছু ‘আনফোর্সড এরর’ করলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের কাছেই রাখেন তিনি। প্রথম গেমে তন্বীর জোরালো স্ম্যাশ সামলাতে নাজেহাল হন নগুয়েন। মাঝে ব্যবধান কমালেও দ্রুত ছন্দে ফিরে ২১-১৬ ব্যবধানে গেম পকেটে পুরেন তন্বী। দ্বিতীয় গেমের শুরুতে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যান নগুয়েন। তবে বিন্দুমাত্র বিচলিত হননি তন্বী। ঠান্ডা মাথায় দুরন্ত নেট প্লে এবং পাওয়ারফুল অ্যাটাকিং স্ট্রোকের মিশ্রণে ম্যাচে ফেরেন। সময় যত গড়িয়েছে ততই দাপট বেড়েছে তাঁর। শেষ পর্যন্ত ২১-১৬ ব্যবধানেই দ্বিতীয় গেম ও ম্যাচ জিতে খেতাব নিশ্চিত করেন।
গত বছর ইউএস ওপেন সুপার ৩০-র ফাইনালে উঠেও ট্রফি জেতা হয়নি তন্বীর। সেই আক্ষেপ ঘুচল তাইপেইয়ের মাটিতে। এটিই তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম বিডব্লিউএফ ওয়ার্ল্ড ট্যুর সুপার ৩০০ শিরোপা। পঞ্জাবের এই তরুণী বিশ্বের প্রাক্তন এক নম্বর জুনিয়র খেলোয়াড়। প্রথম ভারতীয় হিসেবে জুনিয়র বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে একাধিক পদক এবং এশিয়ান টিম চ্যাম্পিয়নশিপে সোনাজয়ী ভারতীয় মহিলা দলের সদস্যও ছিলেন তিনি। শিরোপা জয়ের পর আবেগঘন মুহূর্ত। মেডেল প্রদান পর্বের শেষে নিজের গলার স্বর্ণপদকটি খুলে কোচ পার্ক তাই-সাং-এর গলায় পরিয়ে দেন তন্বী। সাফল্যের কারিগরকে এভাবে সম্মান জানিয়ে সকলের মন জিতে নেন তিনি। ১৮ বছর পর তাইপেই ওপেনে কোনও ভারতীয় মহিলার খেতাব। শেষ জিতেছিলেন সাইনা নেওয়াল ২০০৮ সালে। এই জয় হয়তো তন্বীর ক্যারিয়ারের শেষ জয় নয়, তবে এই পারফরম্যান্স স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দিল ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের ব্যাটন এখন অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এক জোড়া হাতেই রয়েছে।







































































































