বনকর্মীদের তৎপরতায় বাঁচল বাজপাখির প্রাণ

দৈনিক জনকণ্ঠ, হাসান লস্কর, কুলতলী, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: দক্ষিণ ২৪ পরগনার দেউলবাড়ি দেবীপুর অঞ্চলের দক্ষিণ দুর্গাপুর এলাকায় শিকল দিয়ে বাঁধা অবস্থায় একটি বিরল প্রজাতির বাজপাখি উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বনদপ্তরের তৎপরতায় ওই বন্যপাখিটিকে উদ্ধার করে নিরাপদ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বনকর্মীদের উদ্যোগে পাখিটির চিকিৎসা ও শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে পুনরায় উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ দুর্গাপুর এলাকায় এক যুবকের কাছে একটি বন্য বাজপাখি শিকলবন্দি অবস্থায় রয়েছে— এমন খবর পৌঁছয় বারুইপুর রেঞ্জের পিয়ালী বিটের বনকর্মীদের কাছে। খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন বনকর্মী আবু জাফর মোল্লা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহকর্মী গোপাল। এরপর স্থানীয়দের সহযোগিতায় শিকলবন্দি পাখিটিকে উদ্ধার করা হয়।উদ্ধারের সময় পাখিটিকে অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় দেখা যায়। বন্যপ্রাণীকে এভাবে শিকল দিয়ে আটকে রাখার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে— কেন ওই যুবক একটি বন্য বাজপাখিকে বন্দি করে রেখেছিলেন? পাখিটিকে পোষ মানানোর উদ্দেশ্য ছিল, নাকি অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
বনকর্মীদের বক্তব্য, বন্যপ্রাণীকে ইচ্ছেমতো বন্দি করে রাখা আইনত নিষিদ্ধ। বন্যপাখি প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং তাদের স্বাভাবিক বিচরণ ও জীবনযাপনের অধিকার রয়েছে। তাই কোনও বন্যপ্রাণী অসুস্থ, আহত বা বিপদে পড়লে তাকে নিজের কাছে আটকে না রেখে বনদপ্তরকে খবর দেওয়াই উচিত।উদ্ধার হওয়া বাজপাখিটির মেডিকেল পরীক্ষা করা হবে। তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের পর সম্পূর্ণ সুস্থ থাকলে উপযুক্ত জঙ্গল এলাকায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। বনকর্মীদের এই তৎপরতায় একটি বন্যপ্রাণী আবার মুক্ত আকাশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেল। একই সঙ্গে ঘটনাটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তাও সামনে নিয়ে এসেছে।বনদপ্তরের এই উদ্যোগে খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের আশা, ভবিষ্যতে বন্যপ্রাণীকে বন্দি করে রাখার মতো ঘটনা রুখতে আরও কঠোর নজরদারি ও সচেতনতা তৈরি হবে।





















































































































