বিদায় রক্ষণের শিল্পী, প্রয়াত ইতালির বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রাঙ্কো বারেসি

মুহাম্মদ শাহবাজ, দৈনিক জনকণ্ঠ: বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার, এসি মিলানের চিরস্মরণীয় অধিনায়ক ফ্রাঙ্কো বারেসি প্রয়াত হলেন। দীর্ঘদিন ফুসফুসের জটিলতায় ভোগার পর শুক্রবার, ৩১ জুলাই ৬৬ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। গত বছর ফুসফুসে অস্ত্রোপচারের পর তিনি অনেকটাই জনসমক্ষে আসা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ বিশ্ব ফুটবল। এসি মিলান বিবৃতিতে জানিয়েছে, “বারেসি ছিলেন মিলানের প্রাণ ও আত্মা। তাঁর আদর্শ ও নেতৃত্ব চিরকাল ক্লাবের ডিএনএ-তে খোদাই হয়ে থাকবে।”
১৯৬০ সালের ৮ মে লোম্বার্ডির ত্রাভাগলিয়াতোতে জন্ম বারেসির। ১৯৭৪ সালে এসি মিলানের যুব একাডেমিতে যোগ দেন। ১৯৭৭ সালে ১৭ বছর বয়সে সিনিয়র দলে অভিষেক। মাত্র ২২ বছর বয়সেই পেয়ে যান অধিনায়কের আর্মব্যান্ড। টানা ২০ বছর শুধু মিলানের জার্সিতেই খেলেছেন। ৭১৯টি ম্যাচে মাঠে নেমেছেন, যার মধ্যে ৫৩২টি সেরি ‘এ’ ম্যাচ। ডিফেন্ডার হয়েও ১৬টি গোল করেন। ১৯৮৯-৯০ মরসুমে কোপা ইতালিয়ার সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়েছিলেন।
আরিগো সাচ্চি ও ফাবিও কাপেলোর অধীনে পাওলো মালদিনি, মাউরো তাসোত্তি, আলেসান্দ্রো কোস্তাকুর্তাকে সঙ্গে নিয়ে যে দুর্ভেদ্য রক্ষণ গড়ে তুলেছিলেন, তা আজও ইতালীয় ফুটবলের পাঠ্যবই। তাঁর নেতৃত্বে মিলান জিতেছে ৬টি সেরি ‘এ’, ৩টি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ২টি ইউরোপিয়ান সুপার কাপ ও ২টি ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ। ক্লাবের প্রতি আনুগত্যের স্বীকৃতি হিসেবে মিলান তাঁর ৬ নম্বর জার্সি চিরতরে তুলে রাখে। পরে তাঁকে ক্লাবের সম্মানসূচক সহ-সভাপতি করা হয়। ইতালির হয়ে ৮১টি ম্যাচ খেলেছেন বারেসি। ১৯৮২ সালে বিশ্বকাপজয়ী স্কোয়াডের সদস্য ছিলেন। ১৯৯০ সালে ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল। আর ১৯৯৪-এর ইউএসএ বিশ্বকাপে অধিনায়ক হিসেবে দলকে ফাইনালে তোলেন। চোট কাটিয়ে ফাইনালে ফিরে ব্রাজিলকে রুখেও দেন, কিন্তু শেষমেশ পেনাল্টি শুটআউটে ট্রফি অধরা থেকে যায়।
ডিফেন্সের ‘সুইপার’ ভূমিকাকে নতুন মাত্রা দেওয়া এই মহীরুহ আজ নেই। কিন্তু সান সিরোর গ্যালারি এবং বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে ফ্রাঙ্কো বারেসি চিরভাস্বর হয়ে থাকবেন।







































































































