১ আগস্ট ইস্টবেঙ্গলের ১০৭-তম প্রতিষ্ঠা দিবস

মুহাম্মদ শাহবাজ, কলকাতা: চিরাচরিত প্রথা ও ঐতিহ্য বজায় রেখে আগামী ১ আগস্ট নিজেদের ১০৭-তম প্রতিষ্ঠা দিবস উদ্যাপন করতে চলেছে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব। শতবর্ষ প্রাচীন এই ক্লাব কর্তৃপক্ষের তরফে দিনটিকে স্মরণীয় করে তুলতে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত একাধিক বর্ণাঢ্য কর্মসূচির কথা ঘোষণা করা হয়েছে। ক্লাব সূত্রের খবর, ১ আগস্ট সকাল সাড়ে ১১টায় ঐতিহ্যবাহী ইস্টবেঙ্গল ক্লাব তাঁবুতে প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, প্রদীপ প্রজ্বলন ও ক্লাব পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে। এরপর বিকেল ৫টায় নজরুল মঞ্চে আয়োজিত হবে প্রতিষ্ঠা দিবসের মূল অনুষ্ঠান, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ।
প্রতিষ্ঠা দিবসের মূল মঞ্চ থেকেই ক্রীড়া, সমাজ ও শিল্পকলার একাধিক গুণী ব্যক্তিত্বকে সম্মানিত করবে লাল-হলুদ কর্তৃপক্ষ। এ বছর ক্লাবের সর্বোচ্চ ‘ভারত গৌরব’ সম্মান প্রদান করা হবে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও গবেষক সঞ্জীব সান্যাল এবং সুরকার প্রীতম চক্রবর্তীকে। পাশাপাশি চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে ‘সুপার অ্যাচিভার অ্যাওয়ার্ড’ এবং পরিচালক কৌশিক গাঙ্গুলীকে ‘এক্সিলেন্স ইন মুভি অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হবে। উদীয়মান ক্রীড়াবিদ হিসেবে ‘প্রাইড অফ বেঙ্গল’ সম্মান পাচ্ছেন ফুটবলার সুলঞ্জনা রাউল।
এছাড়া প্রাক্তন অধিনায়ক বলাই মুখার্জিকে নসা সেন নামাঙ্কিত লাইফ টাইম অ্যাওয়ার্ড এবং তরুণ দে-কে ব্যোমকেশ বসু নামাঙ্কিত লাইফ টাইম অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত করা হবে। বর্ষসেরা কোচের সম্মান পাচ্ছেন বিনো জর্জ। ফুটবলে বনোয়ারীলাল নামাঙ্কিত ‘ফুটবলার অফ দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হয়েছেন যৌথভাবে আনোয়ার আলি ও সাথী দেবনাথ এবং সেরা উদীয়মান ফুটবলারের পুরস্কার পাচ্ছেন এডমুন্ড লালরিনডিকা। ক্রিকেটে ‘ক্রিকেটার অফ দ্য ইয়ার’ হচ্ছেন ঋতম পোড়েল। সেরা সাংবাদিকদের তালিকায় অজয় বসু অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছেন বিক্রান্ত গুপ্তা এবং চিত্র সাংবাদিক হিসেবে শঙ্কর নাগ দাস। রেফারিদের মধ্যে ভোলানাথ দত্ত ও পীযূষ রায়কে সম্মানিত করা হবে। সমর্থকদের প্রতিনিধি হিসেবে স্বপন বল নামাঙ্কিত পুরস্কার পাবেন মনোময় ভট্টাচার্য, ঋজু দাস, কল্পনা চক্রবর্তী ও শ্যামল মজুমদার।
উল্লেখ্য, ১৯২০ সালের ১ আগস্ট সুরেশ চন্দ্র চৌধুরী, শৈলেশ বসু ও নসা সেনের হাত ধরে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। ১৯৪২ সালে প্রথম লিগ জয় থেকে শুরু করে বর্তমানে রেকর্ড ৩৯ বার কলকাতা লিগ, ২৩ বার আইএফএ শিল্ড, ১৫ বার ডুরান্ড কাপ এবং ২০০৩ সালে ঐতিহাসিক আসিয়ান কাপ জয়ের নজির রয়েছে এই ক্লাবের ঝুলিতে। বর্তমানে ইমামি গ্রুপের সাথে যৌথ অংশীদারিত্বে পরিচালিত এই ক্লাবের প্রতিষ্ঠা দিবসে প্রাক্তন ও বর্তমান সদস্য-সমর্থকদের উপস্থিতিতে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরির প্রত্যাশা করছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।






































































































