ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে শিক্ষকের ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের’ অভিযোগে উত্তাল স্কুল

দৈনিক জনকণ্ঠ, মহঃ মফিজুর রহমান, উত্তর ২৪ পরগনা: এক ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে শিক্ষকের ‘অবৈধ সম্পর্ক’ রয়েছে—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙা থানার মছলন্দপুর গ্রামের নকপুল জুনিয়র বেসিক স্কুলে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই মঙ্গলবার স্কুল চত্বরে অভিযুক্ত শিক্ষক বিভাস সরকারকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান একাংশ অভিভাবক। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কুলের পরিবেশেও তৈরি হয় চাপা উত্তেজনা।
অভিভাবকদের অভিযোগ, স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে বিভাস সরকারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তাঁদের দাবি, স্কুলের ভিতরেও দু’জনকে একাধিকবার ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা গিয়েছে। শুধু স্কুলেই নয়, রাস্তাঘাটেও তাঁদের একসঙ্গে ঘোরাফেরা করতে দেখেছেন বলে দাবি কয়েকজন অভিভাবকের। এই বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিভাবকদের মধ্যে আলোচনা চলছিল বলে তাঁদের দাবি। শেষ পর্যন্ত তা প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে স্কুল চত্বরে।অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু অভিযোগ তুলেছেন অভিভাবকদের একাংশ। তাঁদের দাবি, ওই শিক্ষক নির্দিষ্ট এক ছাত্রীকে ব্যক্তিগত ভাবে পড়ান। পরীক্ষার সময় তাকে প্রশ্নের উত্তর বলে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। ফলে একই শ্রেণির অন্য পড়ুয়াদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের। শিক্ষক নিয়মিত সময়ে স্কুলে আসেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিভাবকদের দাবি, অধিকাংশ দিনই সকাল ১১টার অনেক পরে স্কুলে পৌঁছন তিনি।
যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন বিভাস সরকার। তাঁর পাল্টা দাবি, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে থাকা এক অভিভাবিকা তাঁকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং বাড়িতে যাওয়ার কথাও বলেছিলেন। তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ওই অভিভাবিকা অন্যদের জড়ো করে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন বলে দাবি শিক্ষকের। তবে শিক্ষকের এই অভিযোগও সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট অভিভাবিকা। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘আমি কেন তাঁকে প্রেমের প্রস্তাব দিতে যাব? কিংবা তাঁকে বাড়িতে ডাকতেই বা যাব কেন?’’ শিক্ষকের তোলা অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ দিতে না পারলে আইনি পদক্ষেপের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
ঘটনার বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘‘আজ অভিভাবকদের একাংশ আমার কাছে কিছু অভিযোগ জানিয়েছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।’’
অভিযোগের সত্যতা এখনও যাচাই হয়নি। তবে শিক্ষক ও অভিভাবকের পরস্পরবিরোধী দাবিকে ঘিরে মছলন্দপুর গ্রামে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা।






















































































































