চার দিন পানীয় জল নেই ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে, চত্বরজুড়ে আবর্জনার স্তূপ

দৈনিক জনকণ্ঠ, ধূপগুড়ি: ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালের হাল যেন ‘নামে বাঘা, কাজে বেঁচা’। টানা চার দিন ধরে পানীয় জল সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অন্তর্বিভাগে ভর্তি দেড়শো রোগী ও তাঁদের পরিজনেরা। প্রতিদিন বহির্বিভাগ মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার রোগী এখানে চিকিৎসা করাতে আসেন, অথচ জলকষ্টে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ।
বাধ্য হয়ে অনেক রোগী ও তাঁদের আত্মীয়রা বাইরে থেকে টাকা দিয়ে জল কিনে খাচ্ছেন। কেউ কেউ রাস্তা পেরিয়ে বাইরে থেকে জল সংগ্রহ করছেন, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। রোগীর আত্মীয় স্বপন দাস বলেন, “সারাদিনে কয়েকবার জল প্রয়োজন, হাসপাতালে এসে জল না পেয়ে উল্টে অসুস্থ হয়ে পড়ছি।” আরও অভিযোগ, হাসপাতাল চত্বরজুড়ে আবর্জনার স্তূপ জমে আছে, যেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং মাছির উপদ্রব বাড়ছে। এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিকিৎসা করাতে এসে রোগীরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার জানিয়েও কোনও স্থায়ী সমাধান মেলেনি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগীরা। তাঁদের দাবি, হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পানীয় জল সরবরাহ বন্ধ রাখা অমার্জনীয় অপরাধ।
কারিগরি ত্রুটির কারণেই জল সরবরাহ বন্ধ বলে জানিয়েছেন ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক দেবদাস মণ্ডল। তিনি বলেন, “লোক ডাকা হয়েছে, কারিগরি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গতকালও চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।” বিকল্পভাবে কয়েকটি ড্রামে জল রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে রোগীরা অস্থায়ী এই ব্যবস্থাকে যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন। তাঁদের দাবি, দ্রুত স্থায়ীভাবে জল সরবরাহ চালু করার পাশাপাশি হাসপাতাল চত্বর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে হবে। পরিচ্ছন্নতা ও পানীয় জলের অভাবে এই হাসপাতাল রোগীদের জন্য হয়ে উঠেছে ‘মৃত্যু ফাঁদ’— এই আশঙ্কায় স্বাস্থ্য দফতরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।


















































































































