চড়া দামের খাঁড়া; ভারতের ক্রিকেট টাইটেল স্পনসরশিপ নিয়ে জটিলতায় বিসিসিআই

নিজেস্ব প্রতিবেদক : ভারতীয় ক্রিকেট দলের ঘরের মাঠের আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ম্যাচগুলোর জন্য টাইটেল স্পনসর খুঁজে পেতে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড -কে বর্তমানে বেশ বড় ধরনের সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে এবং মূলত স্পন্সরশিপের চড়া ভিত্তিমূল্যের কারণেই এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বিসিসিআইয়ের বর্তমান টাইটেল স্পনসর হিসেবে আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাংক প্রতিটি ম্যাচের জন্য ৪.২ কোটি টাকা করে পরিশোধ করলেও, আসন্ন চক্রের জন্য বোর্ড এই ভিত্তিমূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে প্রতি ম্যাচে প্রায় ৪.৭৫ থেকে ৪.৮৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে। এই চড়া দামের কারণেই মূলত দেশের শীর্ষস্থানীয় কর্পোরেট সংস্থাগুলো এই বিশাল অঙ্কের দরপত্র জমা দিতে পিছপা হচ্ছে এবং বোর্ডের আশানুরূপ আগ্রহ দেখাতে পারছে না। গত ২০শে জুলাই বিসিসিআই এই স্বত্বের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র বা আইটিটি প্রকাশ করেছিল, যেখানে আইটিটি নথি ক্রয়ের শেষ তারিখ ছিল ৪ঠা আগস্ট এবং দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৩ই আগস্ট পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত সেই শেষ তারিখের মধ্যেও বোর্ডের প্রত্যাশা অনুযায়ী কোনো কাঙ্ক্ষিত দরদাতা পাওয়া যায়নি কিংবা যে কয়েকটি বিক্ষিপ্ত প্রস্তাব এসেছে তা বোর্ডের নির্ধারিত আর্থিক লক্ষ্যের তুলনায় অনেক কম ছিল।
ওপেন টেন্ডারিং প্রক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত সাড়া না মেলায় বিসিসিআই এখন বাধ্য হয়ে বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে এবং সম্ভাব্য বড় স্পনসরদের সাথে সরাসরি আলোচনা শুরু করেছে, যে দৌড়ে গুগল জেমিনি, স্পিনি এবং এসবিআই লাইফের মতো নামগুলো অত্যন্ত জোরালোভাবে উঠে এসেছে। এর পাশাপাশি গ্রুপএম, আইটিডব্লিউ এবং স্পোর্টি সলিউশনসের মতো স্বনামধন্য বড় এজেন্সিগুলোও এই প্রক্রিয়ার প্রাথমিক নথি সংগ্রহ করেছিল। এবারের এই স্পনসরশিপ চুক্তিটি গতবারের মতো তিন বছরের পরিবর্তে দুই বছরের জন্য করা হচ্ছে, যার সুনির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হবে ২০২৮ সালের ৩১শে মার্চ। বিসিসিআইয়ের প্রাক্কলন অনুযায়ী, এই দুই বছরের সময়সীমার মধ্যে ভারতীয় দল ঘরের মাঠে প্রায় ৩৫টি আন্তর্জাতিক সशुल्क ম্যাচ খেলবে এবং নতুন নির্ধারিত বেস প্রাইস সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বোর্ড এই খাত থেকে প্রায় ১৭১ কোটি টাকা পর্যন্ত রাজস্ব আয় করতে পারবে বলে আশা করছে। টাইটেল স্পনসরশিপের এই জটিলতার পাশাপাশি বিসিসিআই সহযোগী অংশীদার বা অ্যাসোসিয়েট পার্টনার অধিকারের জন্য রিকোয়েস্ট ফর কোটেশনও প্রকাশ করেছে। নিয়মের কড়াকড়ি অনুযায়ী, যে ব্র্যান্ড বা কোম্পানি শেষ পর্যন্ত টাইটেল স্পনসরশিপের অধিকার অর্জন করবে, তারা পরবর্তীতে সহযোগী অধিকারের জন্য আবেদন করতে পারবে না এবং মূল টাইটেল স্পনসর চূড়ান্ত হওয়ার পরেই কেবল সহযোগী অংশীদারদের নাম চূড়ান্ত করা হবে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই ভারতের ঘরের মাঠের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মৌসুম শুরু হতে চলেছে, তাই তার আগেই বিসিসিআই এই স্পন্সরশিপ সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে উঠতে দ্রুত কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে ক্রিকেট মহলে জোর আলোচনা চলছে।






















































































































