জয়নগর কুলতলি গ্রামীণ হাসপাতালে বেহাল সরকারি আবাসন

দৈনিক জনকণ্ঠ, উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, কুলতলি: সুন্দরবনের প্রবেশ দ্বার কুলতলি। সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের চিকিৎসার অন্যতম ভরসা জয়নগর কুলতলি গ্রামীণ হাসপাতাল। প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালে আসেন। অথচ সেই হাসপাতাল চত্বরেই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকার জন্য তৈরি সরকারি আবাসন গুলির বেহাল দশা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।হাসপাতাল চত্বরে থাকা মোট ১১টি সরকারি আবাসনের একটিও বর্তমানে বসবাসের উপযোগী নয় বলে অভিযোগ। কোথাও ছাদের চাঙ্গর খসে পড়ছে, কোথাও আবার দীর্ঘদিনের অযত্নে আবাসন গুলির পরিকাঠামো কার্যত ভগ্নদশায় পরিণত হয়েছে।ফলে হাসপাতালের ৬ জনচিকিৎসক, ১২ জন নার্স-সহ অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মীদের বাধ্য হয়ে হাসপাতালের বাইরে ভাড়া বাড়িতে থাকতে হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা কেন্দ্রে চিকিৎসক ও নার্সদের আবাসনের এমন পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে রোগীর আত্মীয় এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। তাঁদের অভিযোগ, জরুরি পরিস্থিতিতে চিকিৎসক বা নার্সের প্রয়োজন হলে তাঁরা হাসপাতাল চত্বরে না থাকায় পরিষেবা পেতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
বিশেষ করে রাতের দিকে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও প্রকট হতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের।স্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীর আত্মীয়দের দাবি,দ্রুত সরকারি আবাসন গুলি সংস্কার করে বসবাসের উপযোগী করে তুলতে হবে। তাঁদের বক্তব্য, হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা যদি হাসপাতাল চত্বরেই থাকতে পারেন,তাহলে জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীদের পরিষেবা আরও দ্রুত দেওয়া সম্ভব হবে।সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনও অনেক জায়গাতেই সহজ নয়। ফলে হাসপাতালের কাছাকাছি চিকিৎসক ও নার্সদের আবাসন থাকা শুধু তাঁদের সুবিধার বিষয় নয়, জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ,দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে আবাসন গুলির এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ছাদ থেকে চাঙ্গর খসে পড়ার মতো ঘটনায় আবাসন গুলিতে বসবাস করা কার্যত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই শুধু সাময়িক মেরামতি নয়, প্রয়োজন হলে পুরনো আবাসন গুলির পরিকাঠামো খতিয়ে দেখে স্থায়ী সংস্কারের ব্যবস্থা করার দাবি উঠেছে। তবে সরকারি আবাসনের এই বেহাল দশা এবং বাইরে ভাড়া বাড়িতে থাকার বিষয়ে কর্মরত কোনও চিকিৎসক বা স্বাস্থ্য কর্মীরা কোনো মন্তব্য করতে রাজী হয়নি। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, সুন্দরবনের প্রত্যন্ত মানুষের চিকিৎসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই হাসপাতালেই যদি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকার মতো উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা কীভাবে আরও শক্তিশালী হবে? তাই দ্রুত সরকারি উদ্যোগে হাসপাতালের আবাসন গুলি সংস্কার করে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বসবাসের উপযোগী করার দাবি তোলা হয়েছে।দ্রুত স্বাস্থ্য দফতরের হস্তক্ষেপ চায় এলাকার মানুষজন।























































































































