পাটচাষে আর লাভ নেই! দরপতনে দিশেহারা কৃষকরা

দৈনিক জনকণ্ঠ, উৎপল রায়, জলপাইগুড়ি: পাটের বাজারে নজিরবিহীন মূল্যপতনে চরম সংকটে পড়েছেন বিস্তীর্ণ এলাকার পাটচাষিরা। উৎপাদন খরচ লাগামছাড়া হারে বাড়লেও বাজারে পাটের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়েছে। কৃষক সংগঠনগুলির অভিযোগ, মাত্র দু’মাসের ব্যবধানে মন প্রতি পাটের দাম প্রায় ১৭ হাজার টাকা থেকে নেমে ৭ হাজার টাকার আশপাশে চলে এসেছে। ফলে উৎপাদন খরচ তো উঠছেই না, উল্টে চাষিরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়ছেন। কৃষকদের দাবি, সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ, কৃষিযন্ত্রের ভাড়া, শ্রমিকের মজুরি এবং পরিবহণ খরচ — প্রতিটি ক্ষেত্রেই গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য হারে ব্যয় বেড়েছে। বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে পাট উৎপাদনের পরও বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে কম দামে ফসল বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন ঋণের বোঝা বাড়ছে, অন্যদিকে আগামী মরশুমে অনেকেই পাটচাষ ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভাবছেন। পাটচাষি সুব্রত রায়ের অভিযোগ, কৃষকদের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসলের এমন মূল্যপতনের পরেও রাজ্য ও কেন্দ্র — দুই সরকারেরই কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। তাঁর কথায়, “পাটের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে পাটচাষ আরও সংকুচিত হবে।
এর সরাসরি প্রভাব পড়বে গ্রামীণ অর্থনীতি, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং পাটশিল্পের উপর।” এই পরিস্থিতিতে সরকারি হস্তক্ষেপের দাবিতে সরব হয়েছে কৃষক সভা। সংগঠনের জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক প্রাণগোপাল ভাওয়াল বলেন, “পাটচাষিদের লাভজনক ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি পর্যাপ্ত পরিমাণে পাট কেনার ব্যবস্থা করতে হবে। দালাল ও মজুতদার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পাটচাষিদের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তা ঘোষণা এবং বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।” তিনি আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গ কৃষিপ্রধান রাজ্য। তাই পাটচাষিদের স্বার্থ রক্ষা করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব। বর্তমান সংকটকে গুরুত্ব দিয়ে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং কৃষকদের ন্যায্য অধিকার ও সম্মান নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। পাটচাষিদের আশঙ্কা, দ্রুত বাজারে হস্তক্ষেপ না করা হলে আগামী দিনে পাটচাষ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। তার প্রভাব শুধু কৃষকদের উপরই নয়, পাটনির্ভর শিল্প, শ্রমসংস্থান এবং সমগ্র গ্রামীণ অর্থনীতির উপর পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। এখন সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন জেলার হাজার হাজার পাটচাষি।









































































































