কড়িয়ালি বনের সৌন্দর্যায়ন ও মিনি-জু হিসেবে গড়ে তোলার দাবি

দৈনিক জনকণ্ঠ, হরিশ্চন্দ্রপুর: সবুজে ঘেরা এক স্বপ্নের দেশ। তার নির্মল বায়ু, সবুজ স্নিগ্ধ মনোরম পরিবেশ দেহমনে প্রশান্তির পরশ বুলিয়ে দেয়। মালদহ জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকে অবস্থিত জেলা বন বিভাগের ভালুকারোড রেঞ্জের কড়িয়ালি বনকে এলাকার ফুসফুস বলা হয়। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনার অভাবে এই জঙ্গল তার সৌন্দর্য হারাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, একে ডিয়ার পার্ক, পাখিরালয় ও ক্রমে মিনি-জু হিসেবে গড়ে তোলা হোক। সুন্দর ভৌগোলিক অবস্থান ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা-সহ অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ রয়েছে এই বনের। এই বনকে উপযুক্ত পরিকাঠামো দিলে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই বনের পরিকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারিভাবে পরিকল্পনা করে বনকে ঢেলে সাজালে একটি ভালো ডিয়ার পার্ক থেকে ক্রমে উন্নতমানের মিনি-জু করা যেতে পারে। এর ফলে বনটি যেমন তার প্রকৃত সৌন্দর্য ফিরে পাবে, তেমন এলাকার অর্থনৈতিক মানোন্নয়ন ঘটবে। কিন্তু শুধুমাত্র সরকারি উদাসীনতার কারণে এই বনটি তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ও জৌলুস হারাচ্ছে দিন দিন। জেলার মধ্যে আদিনা ছাড়া এইরকম বিশাল আয়তনের জঙ্গল নেই বলেই দাবি। এর এলাকা সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘিরে হরিণ, নীল গাই, শেয়াল ইত্যাদি বন্যপ্রাণী রাখা যেতে পারে। সেই সঙ্গে বনের মধ্যে জলাশয় তৈরি করে পাখিরালয় তৈরি করারও এটি একটি উপযুক্ত স্থান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিশাল আয়তনের এই বনের কোন সীমানা প্রাচীর নেই। তাই সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘিরে সংরক্ষিত বনাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার দাবি দীর্ঘদিনের। তাঁদের কথায়, একে মিনি জু হিসেবে গড়ে তোলার নানা অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানগত দিক থেকে বিচার করলে খুব ভালো অবস্থানে রয়েছে এই বন। হরিশ্চন্দ্রপুর থেকে ভালুকা বাজারগামী রাজ্য সড়কের গা ঘেঁষে অবস্থিত এই বন। সড়ক পথে জেলা শহর থেকে রতুয়া হয়ে আসা যায়। প্রতিবেশী রাজ্য বিহার সীমান্ত এলাকাও কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। বন থেকে প্রায় এক কিমি দূরে ভালুকা রোড রেল স্টেশন। ফলে রেল ও সড়ক উভয় পথেই যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই উন্নত।
এ প্রসঙ্গে জেলা বনবিভাগের ভালুকারোড ফরেস্ট রেঞ্জ আধিকারিক মনোজিৎ শেঠ বলেন, কড়িয়ালি বন জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চল। এর পরিধি প্রায় ১৩২.৪০৪ হেক্টর এলাকা জুড়ে। যোগাযোগ ব্যবস্থাও উন্নত। এমন এক সুন্দর ও আয়তনে বড় বনকে পরিকল্পনা মাফিক ঢেলে সাজালে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। এলাকার আর্থিক উন্নয়নও ঘটবে।













































































































