কালিয়াচকে শীতবস্ত্র বিতরণ: দুঃস্থদের পাশে সুজাপুরের আব্দুল হান্নান

নতুন পয়গাম, এম নাজমুস সাহাদাত, মালদহ: তীব্র শীতের প্রভাবে নাজেহাল নিম্নবিত্ত ও দিনমজুর শ্রেণীর মানুষের পাশে দাঁড়ালেন মালদা জেলা পরিষদের বিরোধী দলনেতা আব্দুল হান্নান। কালিয়াচকে আয়োজিত এক মানবিক উদ্যোগে এলাকার শতাধিক দুঃস্থ মানুষের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেন তিনি। দুপুর থেকে স্থানীয় এলাকায় শুরু হওয়া এই শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিতে বিপুল ভিড় লক্ষ্য করা যায়। শীতের প্রকোপে সমস্যায় নিম্নবিত্তরা গত কয়েকদিন ধরে মালদা জেলার সর্বত্র তাপমাত্রা পতন ও কুয়াশার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলার গ্রামীণ অঞ্চলে শ্রমজীবী ও বয়স্ক নাগরিকদের শীতবস্ত্রের ঘাটতি যথেষ্ট প্রকট। ঠিক এই পরিস্থিতিতে সুজাপুর বিধানসভার বিভিন্ন এলাকায় অর্থাৎ ১৪ টি অঞ্চলজুড়ে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন বিরোধী দলনেতা আব্দুল হান্নান সাহেব। কম্বল নিতে সকাল থেকেই বিভিন্ন বয়সের নারী, পুরুষ ও প্রবীণ নাগরিকরা লাইনে দাঁড়াতে থাকেন। কম্বল হাতে পেয়ে স্বস্তির হাসি ফুটে ওঠে উপকারভোগীদের মুখে। আয়োজকদের বক্তব্য এই কর্মসূচি সম্পর্কে বিরোধী দলনেতা বলেন, শীতের সময় দুঃস্থ মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েন। তাদের পাশে দাঁড়ানোটাই আমাদের কর্তব্য। তিনি আরও জানান, এবছরের শীতের ঠান্ডা আবহের শুরু থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত এই শিব বস্ত্র বিতরণ সম্পন্ন হল। বিধানসভা জুড়ে প্রায় ১৬০০০ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। উপস্থিত এক প্রবীণ নাগরিক নূর ইসলাম জানান, বয়স হয়েছে, কাজকর্ম করতে পারিনা। শীতে খুব কষ্ট হয়। আজ কম্বল পেয়ে অনেকটা রেহাই মিলল।
এলাকার এক বাসিন্দা নুরফুন বেওয়া বলেন, আমি একজন বিধবা, আমার একখানা
কম্বল নেই। আজ একটা পেলাম, খুব দরকার ছিল। এই ধরনের উদ্যোগকে ‘সময়ের দাবি’ বলে মনে করেন সাধারণ মানুষ। তাঁদের মতে, শীতের কষ্ট মোকাবিলায় আব্দুল হান্নানের উদ্যোগে সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে সহায়তা মিললে বহু দুঃস্থ উপকৃত হয়।
মালদহ জেলার রাজনীতিতে সুজাপুর দীর্ঘদিন ধরেই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তবে এই কর্মসূচিকে মানবিক উদ্যোগ হিসেবেই ব্যাখ্যা করছেন স্থানীয়রা। জানা যায়, কালিয়াচকের বহু পরিবার দিনমজুরি বা ক্ষুদ্র ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। নদী তীরবর্তী ও গ্রামীণ অঞ্চলে শীতের প্রকোপ বেশি। ফলে শীতবস্ত্রের মতো সাধারণ সহায়তাও বাস্তবিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্মসূচির বিস্তারিত বিরোধী দলনেতার এই শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিতে দক্ষিণ মালদহের সাংসদ ইশা খান চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও আরও অন্যান্য ব্লক ও অঞ্চল নেতৃত্বরা। অনুষ্ঠানে পৌঁছে প্রথমে বয়স্কদের কম্বল দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর সাধারণ উপকারভোগীদের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে কয়েক হাজারেরও বেশি শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। সমাজের কাছে বার্তা মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সমাজসেবীরা। তাঁদের মতে, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে শীতের মতো মৌসুমি দুর্ভোগ মোকাবিলায় অনেকটা এগিয়ে আসা যায়। দিনের শেষে দেখা গেল, কম্বল হাতে নিয়ে বাড়ি ফিরছেন বৃদ্ধ, বিধবা, দিনমজুর, শ্রমজীবী নারীসহ অসহায় মানুষজন। শীতের কামড়ে দুর্ভোগে থাকা মানুষের কাছে এদিনের উদ্যোগ ছিল খানিকটা উষ্ণতার স্পর্শ। বিরোধী দলনেতা নিজেই জানান, মানুষের পাশে থাকাই আমাদের লক্ষ্য। শীতের কষ্ট যতদিন থাকবে, ততদিন এই বিতরণ চলবে। শীতের দাপটে যখন গ্রামীণ মালদহে ঠান্ডায় কাঁপছে বহু পরিবার, তখন কালিয়াচকের এই কর্মসূচি দুঃস্থ মানুষের মনে যে স্বস্তি এনে দিল, তা নিঃসন্দেহে মানবিকতার সুবাস।





















































































































