১০০ দিনের কাজ: ফের নাম বদলে কেন্দ্রীয় চমক রাজ্য ও দরিদ্রদের উপর বোঝা চাপানোর অভিযোগ

নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি:
মহাত্মা গান্ধী গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন (মনরেগা) বাতিল করে কেন্দ্রীয় সরকার লোকসভায় একটি নতুন আইন পেশ করতে চলেছে। এই নতুন আইনের নাম ‘বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ) বিল-২০২৫’। বিলটি সংসদের বিজনেস তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরই বিরোধী দলগুলির তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিরোধীদের মূল অভিযোগ, এই আইন মনরেগার অধিকার-ভিত্তিক কাঠামোকে দুর্বল করবে এবং এর আর্থিক দায়ভার কৌশলে রাজ্যগুলির উপর চাপানো হবে।
বিলটির সবচেয়ে বড় সমালোচনার বিষয় হল, এতে মহাত্মা গান্ধীর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং তৃণমূল নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন এই পদক্ষেপকে ‘উদ্দেশ্যহীন’ এবং ‘মহাত্মা গান্ধীকে অপমান’ বলে অভিহিত করেছেন।
এছাড়াও, আইনের আর্থিক দিকটি নিয়েও জোর বিতর্ক চলছে। সিপিএম সাংসদ জন ব্রিট্টাসের অভিযোগ, মনরেগায় অদক্ষ শ্রমের মজুরি বাবদ যে ১০০ শতাংশ অর্থ কেন্দ্র দিত, নতুন বিলে তার ৪০ শতাংশ রাজ্যগুলিকে বহন করতে হবে (উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলি বাদে)। তাঁর দাবি, এটি কেন্দ্রীয় সরকারের ‘কৌশলগত খরচ হস্তান্তর, যার ফলে রাজ্যগুলির উপর প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত বোঝা চাপবে। তিনি মন্তব্য করেন, ‘রামের নামে রাজ্য এবং গরিবদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।’
মনরেগা ছিল চাহিদা-ভিত্তিক আইন, যেখানে কাজ চাইলে মজুরি দিতে কেন্দ্র বাধ্য ছিল। বিরোধীরা অভিযোগ করছেন, নতুন আইনে কেন্দ্র আগে থেকে একটি নির্দিষ্ট বরাদ্দের সীমা বেঁধে দেবে। সেই বরাদ্দ শেষ হয়ে গেলে শ্রমিকের কাজের অধিকার আর কার্যকর থাকবে না।
নতুন আইনে কাজের গ্যারান্টি ১০০ দিনের বদলে ১২৫ দিন করা হলেও, ব্রিট্টাস এই বৃদ্ধিকে লোক-দেখানো বলে আখ্যা দিয়েছেন, কারণ আড়ালে ৬০:৪০ অনুপাতের আর্থিক নিয়ম চাপানো হচ্ছে।
তাছাড়া, নতুন আইনে গ্রামসভা ও পঞ্চায়েতের ক্ষমতা কমিয়ে জিআইএস টুলস এবং কেন্দ্রীয় ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে কাজের পরিকল্পনা ও নিরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যা স্থানীয় চাহিদার ওপর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ বাড়াবে।
অন্যদিকে, গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বিলটির উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেছেন, গ্রামীণ অঞ্চলে সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিবর্তনের কারণে আইনটিকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন। নতুন আইনের লক্ষ্য—’বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে গ্রামীণ উন্নয়ন কাঠামোকে যুক্ত করা।
বিরোধীরা এই আইন প্রত্যাহারের দাবিতে সংসদ ও সংসদের বাইরে জোরালো লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছে।







































































































