শঙ্করপুর ট্রলার দুর্ঘটনায় নিহত মৎস্যজীবীদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা সহায়তা মুখ্যমন্ত্রীর
দৈনিক জনকণ্ঠ, জুলফিকার আলি, ২৬ জুলাই: পূর্ব মেদিনীপুরের শঙ্করপুর থেকে মৎস্য শিকারে গিয়ে প্রাণ হারানো ১২ জন মৎস্যজীবীর পরিবারের হাতে পাঁচ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য তুলে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার বিকেলে রামনগর-১ ব্লক অফিসে আয়োজিত এক বিশেষ সহায়তা অনুষ্ঠানে এই অর্থ তুলে দেওয়া হয় ।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ট্রলার দুর্ঘটনায় পূর্ব মেদিনীপুরের পাশাপাশি হাওড়া ও নদিয়া জেলার মৎস্যজীবীরাও প্রাণ হারিয়েছেন । নিহতদের প্রতিটি পরিবারকে সরকারি চাকরি দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি। যোগ্য সদস্যদের হোমগার্ড, সিভিক ভলান্টিয়ার বা স্থানীয় প্রশাসনিক অফিসে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে । ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য সরকার নানাবিধ পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। উপকূলীয় সুরক্ষা জোরদারের অংশ হিসেবে রাজ্য সরকার স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এসডিআরএফ)-কে পুনর্গঠন করছে। দীঘায় একটি ৫০ সদস্যের দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল (কুইক রেসপন্স টিম) মোতায়েন করা হবে, যা খেজুরি, হিজলি থেকে উদয়পুর পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালাবে ।
উপকূলীয় থানা থাকলেও সেখানে আধুনিক সাজসরঞ্জাম ও দক্ষ পুলিশের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি পূর্ববর্তী সরকারের উপর অভিযোগ এনে বলেন, উপকূলীয় পুলিশিংয়ে যথেষ্ট ঘাটতি ছিল এবং জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার কাজে বিলম্ব হয়েছে । অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় রাজ্য অনেক পিছিয়ে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পুনর্বাসন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে নাবালক শিশুদের ‘মিশন বাত্সল্য’ প্রকল্পের অধীনে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত মাসিক ৪,০০০ টাকা বৃত্তি, বিধবাদের ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের আওতায় মাসিক ৩,০০০ টাকা সহায়তা এবং গৃহহীন পরিবারদের প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ঘর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি শঙ্করপুর থেকে ১৫ জন মৎস্যজীবী বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গেলে তাদের ট্রলার দুর্ঘটনায় পড়ে। এ পর্যন্ত ১১টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে ।








