ভোট শেষ, তবু খুলল না স্কুল! চার মাস ধরে থমকে পড়াশোনা

দৈনিক জনকণ্ঠ, নাজমুস সাহাদাত, মালদহ: ভোটের সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে মোতায়েন হয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। ভোট মিটে গিয়েছে বহুদিন আগেই। কিন্তু সেই বাহিনীকে ঘিরেই এখনও তালাবন্দি মালদহের একটি স্কুল। দিনের পর দিন শ্রেণিকক্ষ ফাঁকা পড়ে থাকায় কার্যত থমকে গিয়েছে কয়েকশো পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ। প্রায় চার মাস ধরে স্কুলে নিয়মিত পঠন-পাঠন বন্ধ থাকায় উদ্বেগে ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এবং শিক্ষকরা।
ঘটনাটি ইংরেজবাজার ব্লকের দামোদরপুর এলাকার শান্তা দেব্যা হাইস্কুলের। স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, এখানে পড়ুয়ার সংখ্যা প্রায় ৮৫০। তাঁদের একটা বড় অংশই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। অনেকের পরিবারের পক্ষে আলাদা করে গৃহশিক্ষকের ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। ফলে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছ থেকেই নিয়মিত পড়াশোনার সুযোগ পাওয়াই তাঁদের একমাত্র অবলম্বন। সেই স্কুলই দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের পড়ুয়ারা। স্কুল বন্ধ থাকায় শুধু প্রতিদিনের ক্লাসই বন্ধ হয়নি, ব্যাহত হয়েছে শিক্ষাবর্ষের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমও। অন্যান্য স্কুলে দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা হয়ে গেলেও শান্তা দেব্যা হাইস্কুলের পড়ুয়ারা সেই পরীক্ষায় বসতে পারেনি। কারণ, স্কুল ভবনটি এখনও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যবহারে রয়েছে। ফলে কবে পরীক্ষা হবে, কবে নিয়মিত ক্লাস শুরু হবে তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মনোজ মণ্ডল জানান, ভোটের আগেই স্কুলে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে গরমের ছুটির সময় বাহিনী সরে যায়। সেই সুযোগে ১ জুন থেকে স্কুলে ফের পঠন-পাঠন শুরু হয়েছিল। কিন্তু সেই স্বাভাবিক পরিস্থিতি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ১৩ জুন ফের স্কুলে কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে ওঠে। এরপর থেকেই বন্ধ রয়েছে স্কুলের স্বাভাবিক কার্যক্রম। তাঁর কথায়, দীর্ঘ সময় স্কুল বন্ধ থাকায় পড়ুয়াদের শিক্ষাজীবনে বড়সড় প্রভাব পড়ছে। দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষাও নেওয়া যায়নি। পরিস্থিতির দ্রুত সমাধানের জন্য ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে দীর্ঘদিন স্কুলে যেতে না পেরে পড়ুয়াদের মধ্যেও হতাশা তৈরি হয়েছে। অভিভাবকদের আশঙ্কা, এভাবে আরও সময় কেটে গেলে পড়াশোনায় তাঁদের সন্তানরা পিছিয়ে পড়বে। বিশেষ করে যেসব পড়ুয়ার বাড়িতে বিকল্প শিক্ষার ব্যবস্থা নেই, তাঁদের ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি। বিষয়টি নিয়ে মালদহ জেলা পুলিশ সুপার অনুপম সিং জানান, সমস্যাটি তাঁর নজরে এসেছে। ইতিমধ্যেই জেলাশাসকের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জন্য উপযুক্ত বিকল্প জায়গা পাওয়া গেলেই স্কুল থেকে বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এরপর দ্রুত স্কুল চালু করার ব্যবস্থা করা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
ফলে এখন একটাই প্রশ্ন ভোটপর্ব শেষ হওয়ার পরও আর কতদিন স্কুলের দরজা বন্ধ থাকবে? প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন শান্তা দেব্যা হাইস্কুলের প্রায় সাড়ে আটশো পড়ুয়া এবং তাঁদের পরিবার।



























































































































