২৫ কোটির প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরপর চেক বাউন্স! মহামেডান থেকে ‘বিতাড়িত’ হুমায়ুন, অথৈ জলে ক্লাব

দৈনিক জনকন্ঠ: কথা দিয়েছিলেন ক্লাবের সব আর্থিক সমস্যা মিটিয়ে দেবেন, আর্থিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান করবেন এবং অন্তত ২৫ কোটি টাকা ক্লাবকে এনে দেবেন। কিন্তু যাবতীয় প্রতিশ্রুতির একটাও পূরণ করেননি নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। বরং তাঁর সই করা একটার পর একটা চেক ব্যাংক থেকে বাউন্স করেছে। এহেন পরিস্থিতিতে নওদার বিধায়ককে ক্লাব থেকে এক প্রকার তাড়িয়েই দিল মহামেডান স্পোর্টিং। বৃহস্পতিবার ক্লাবের কার্যকরী কমিটির এক জরুরি বৈঠক বসে। সেখানে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে সভাপতির পদ থেকে হুমায়ুন কবীরকে সরিয়ে দেওয়া হবে।
বাংলায় পালাবদলের পরই ঢেলে সাজানো হয়েছিল মহামেডান ম্যানেজমেন্টকে। দায়িত্ব পেয়েই নওদা ও রেজিনগরের বিধায়ক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি ক্লাবের বকেয়া ১৩ কোটি টাকার দেনা মেটাতে সাহায্য করবেন। সেই প্রতিশ্রুতির বিনিময়েই গত ৬ জুন তিনি সাদা-কালো শিবিরের সভাপতির কুর্সিতে বসেন এবং রেড রোডের ধারের ঐতিহাসিক ক্লাবটিতে সাময়িকভাবে প্রাণ সঞ্চার হয়েছিল। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই হুমায়ুন কবীরের কাজকর্মে ক্রমেই তিতিবিরক্ত হয়ে পড়েন মহামেডান কর্তারা। তিনি তিন মাসে ২৫ কোটি টাকা দেওয়ার কথা বললেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি, উপরন্তু শুরু হয় চেক বাউন্সের পর্ব।
আর্থিক সংকট মেটাতে হুমায়ুন কবীর ক্লাবের নামে মোট দেড় কোটি টাকার চেক দিয়েছিলেন। তিনি ১৭ জুলাই, ২০ জুলাই এবং ৩০ জুলাই ৫০ লক্ষ টাকা করে মোট তিনটি চেক ইস্যু করেছিলেন। কিন্তু ওই তিনটি চেকই ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর বাউন্স করে এবং ক্লাবের কোষাগারে একটি টাকাও ঢোকেনি। ক্লাবের সহ-সভাপতি ওয়াসিম আক্রম পরিষ্কার দাবি করেন যে, সভাপতি যে তিনটি চেক দিয়েছিলেন, তিনটিই ব্যাংক থেকে ফেরত এসেছে। তিনি জানান, হুমায়ুন কবীর যে যে তারিখে চেক জমা দিতে বলেছিলেন, ঠিক সেই দিনেই তা জমা দেওয়া হয়েছিল এবং তখনই ব্যাংক জানায় যে অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত অর্থ নেই।
একবার নয়, টানা তিনবার চেক বাউন্স করার ঘটনায় মহামেডান কর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়তে থাকে। এই আচরণের পর ক্লাবের প্রতি হুমায়ুনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং চেকে সই করে টাকা না মেলার এই অসৎ উদ্দেশ্যটা আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ হওয়ায় গত সোমবার ক্লাবের তরফে তাঁকে আইনি নোটিসও পাঠানো হয়। তারপরেও সময় দেওয়া হয়েছিল নতুন সভাপতিকে, কিন্তু হুমায়ুনের তরফ থেকে ইতিবাচক কোনো সাড়া মেলেনি।
অন্যদিকে হুমায়ুন কবীর অবশ্য যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেন যে, ক্লাবের স্বার্থেই চেকগুলি দেওয়া হয়েছিল এবং কয়েক দিনের মধ্যেই তা ক্লিয়ার হয়ে যেত। তাঁর অভিযোগ ছিল, তাঁর অনুমতি ছাড়াই নির্ধারিত সময়ের আগে তড়িঘড়ি চেক জমা দেওয়া হয়েছিল। ট্রান্সফার ব্যানের বিষয়টি মেটাতে ক্লাব সচিব ইতিমধ্যেই ফিফার কাছে অতিরিক্ত সময় চেয়ে নিয়েছেন জানিয়ে তিনি আশ্বাস দেন যে কয়েক দিনের মধ্যেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
তবে হুমায়ুনের সেই আশ্বাসে আর সময় দিতে রাজি হননি ক্লাব কর্তারা। আজ ৬ আগস্ট, মধুচন্দ্রিমা পর্ব কাটতে না কাটতেই ঠিক ২ মাসের মাথায় অপসারিত হলেন সাদা-কালো শিবিরের প্রেসিডেন্ট। প্রতিশ্রুতিভঙ্গ ও চেক বাউন্সের ঘটনা তাঁর অপসারণের পথকে আরও দ্রুত করল। এর মধ্য দিয়ে মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ইতিহাসে সব চেয়ে কম সময়ের জন্য প্রেসিডেন্ট থাকার নজির গড়লেন হুমায়ুন কবীর। আজই তাঁর দিন শেষ হয়ে গেল মহামেডানে। খালি হওয়া সেই আসনে নতুন সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে গজল জাফরকে, যিনি ২০১৬ সাল নাগাদ ক্লাবের সেক্রেটারি ছিলেন।







































































































