প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করার দাবি, এসডিওকে স্মারকলিপি

দৈনিক জনকণ্ঠ, প্রীতিময় সরখেল, ধূপগুড়ি: প্রতিবন্ধী ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে মাসে ৫ হাজার টাকা করা, শিক্ষা ও চিকিৎসাক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা প্রদান এবং সরকারি পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধীদের জন্য আরও সহজ ব্যবস্থা চালুর দাবিতে ধূপগুড়ির মহকুমা শাসকের কাছে স্মারকলিপি দিলেন প্রতিবন্ধী নাগরিকরা। বুধবার মহকুমা শাসকের দপ্তরে এই কর্মসূচিকে ঘিরে শতাধিক প্রতিবন্ধী নাগরিকের উপস্থিতি ছিল। তাঁদের মধ্যে ৭০ জনেরও বেশি ছিলেন শ্রবণপ্রতিবন্ধী।
বর্তমানে মাসে মাত্র ১ হাজার টাকা প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়া হয় বলে দাবি আন্দোলনকারীদের। তাঁদের অভিযোগ, এই সামান্য টাকায় বর্তমান বাজারদরে ওষুধ, চিকিৎসা, যাতায়াত এবং দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানো কার্যত অসম্ভব। অনেক ক্ষেত্রে ভাতা নিয়মিত পাওয়া যায় না বলেও অভিযোগ তাঁদের। তাই ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে অন্তত ৫ হাজার টাকা করা এবং প্রতি মাসে নিয়মিত তা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
তবে তাঁদের দাবি শুধু ভাতা বৃদ্ধিতেই সীমাবদ্ধ নয়। শ্রবণপ্রতিবন্ধী পড়ুয়াদের শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে। স্কুলগুলিতে সংকেত ভাষার দোভাষী নিয়োগের পাশাপাশি উপযুক্ত শিক্ষক রাখার দাবি তুলেছেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, শ্রবণপ্রতিবন্ধী পড়ুয়াদের সঙ্গে শিক্ষকদের যোগাযোগের ক্ষেত্রে সমস্যা হওয়ায় অনেকেই পাঠ বুঝতে পারেন না। এর ফলে পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়তে হয়। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও একই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় তাঁদের। শিক্ষার পাশাপাশি চিকিৎসা এবং প্রশাসনিক পরিষেবাতেও যোগাযোগের সমস্যা দূর করার দাবি জানানো হয়েছে। হাসপাতাল ও থানায় সংকেত ভাষার দোভাষীর ব্যবস্থা করার দাবি তুলেছেন শ্রবণপ্রতিবন্ধীরা। তাঁদের অভিযোগ, চিকিৎসকের কাছে নিজের শারীরিক সমস্যার কথা বোঝানো কিংবা থানায় কোনও অভিযোগ জানাতে গিয়েও ভাষাগত সমস্যার কারণে নানা জটিলতার মুখে পড়তে হয়। তাই সরকারি পরিষেবার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে তাঁদের জন্য দোভাষীর ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে।
সংকেত ভাষার দোভাষী প্রকাশ সাহা বলেন, ‘‘দ্রব্যমূল্য যে হারে বেড়েছে, তাতে ১ হাজার টাকা প্রতিবন্ধী ভাতা দিয়ে বর্তমান সময়ে ন্যূনতম প্রয়োজন মেটানোও কঠিন। তাই ভাতা বাড়িয়ে অন্তত ৫ হাজার টাকা করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি শ্রবণপ্রতিবন্ধীদের শিক্ষার সুযোগ আরও সহজ করতে স্কুলগুলিতে সংকেত ভাষার দোভাষী ও উপযুক্ত শিক্ষক নিয়োগের দাবিও জানানো হয়েছে।’’ এদিন মহকুমা শাসকের দপ্তরে স্মারকলিপি গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি দপ্তরের পক্ষ থেকে উপস্থিত শ্রবণপ্রতিবন্ধীদের প্রত্যেকের হাতে একটি করে জাতীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়। জাতীয় পতাকা হাতে পেয়ে তাঁদের মধ্যে উৎসাহ ও আনন্দের আবহ দেখা যায়।
প্রতিবন্ধী নাগরিকদের বক্তব্য, তাঁদের লড়াই শুধুমাত্র ভাতা বাড়ানোর জন্য নয়। শিক্ষা, চিকিৎসা এবং প্রশাসনিক পরিষেবায় অন্যদের মতো সমান সুযোগ পাওয়ার অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিবন্ধী নাগরিকদের জীবনযাত্রার বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাঁদের দাবিগুলি দ্রুত কার্যকর করার আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।



























































































































