জাল পরিচয়পত্র-সহ সাগরদিঘীতে ধৃত বাংলাদেশি যুবক

দৈনিক জনকণ্ঠ, জঙ্গিপুর: ভিসার মেয়াদ ফুরিয়েছিল অনেক আগেই। কিন্তু স্বদেশে না ফিরে উল্টে নিজের আসল নাম-পরিচয় ভাঁড়ালেন। জাল নথির সাহায্যে শ্বশুরকেই বানিয়ে দিলেন নিজের ‘বাবা’। জালিয়াতির আশ্রয়ে এ দেশেই পাকাপাকিভাবে সংসার পেতে বসেছিলেন এক বাংলাদেশি নাগরিক। তবে শেষ রক্ষা হল না। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করল সাগরদিঘি থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতের আসল নাম মহম্মদ রকন। তবে এলাকায় তিনি সোহেল বাবু নামেই পরিচিত ছিলেন। বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট এলাকার সদাশিবপুর গ্রামের বাসিন্দা রকন। ৯ বছর আগে বৈধ ভিসা নিয়েই ভারতে এসেছিলেন। সাগরদিঘির গোবরধানডাঙ্গা এলাকায় শুরু করেন শ্রমিকের কাজ। সেখানেই এক স্থানীয় তরুণীকে ভালোবেসে বিয়ে করে ঘর বাঁধেন। বর্তমানে তাঁদের দুই সন্তানও রয়েছে।
তদন্তে প্রকাশ, প্রায় চার বছর আগে তার ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যায়। কিন্তু তিনি বাংলাদেশে ফিরে না গিয়ে বেআইনিভাবে এ দেশেই থেকে যান। ধরা পড়ার হাত থেকে বাঁচতে নিজের প্রকৃত পরিচয় আড়াল করার চক্রান্ত শুরু করেন রকন। অভিযোগ, শ্বশুরমশাই মৃত ফারাজ আলিকে নিজের বাবা হিসেবে দেখিয়ে জালিয়াতির আশ্রয় নেন তিনি। সেই ভুয়ো তথ্যের ভিত্তিতেই আধার কার্ড, ভোটার কার্ড-সহ একাধিক ভারতীয় পরিচয়পত্র বানিয়ে ফেলেন।
সম্প্রতি গোপন সূত্রে পুলিশ খবর পায়, গোবরধানডাঙ্গা এলাকায় নাম ভাঁড়িয়ে এক বেআইনি অনুপ্রবেশকারী বসবাস করছেন। মঙ্গলবার দুপুরে সেখানে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে রকনকে হাতেনাতে পাকড়াও করে সাগরদিঘি থানার পুলিশ। ধৃতকে এ দিনই সুতির আহরণে অবস্থিত হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।
এই চক্রের শিকড় কত দূর ছড়িয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এক তদন্তকারী আধিকারিক জানান, “এক জন বিদেশি নাগরিক কীভাবে স্থানীয় পঞ্চায়েত বা প্রশাসনের নজর এড়িয়ে ভুয়ো নথি তৈরি করলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে স্থানীয় আর কে কে যুক্ত, তাদের সন্ধান চালানো হচ্ছে।”















































































































