নিটে ৬২১ নম্বর, অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্ক ৪৮৭৪: চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নপূরণের পথে রায়নার কৃষক-কন্যা বিপাশা

দৈনিক জনকণ্ঠ, এবাদত সেখ, পূর্ব বর্ধমান: ছোটবেলা থেকেই চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না-১ ব্লকের সেহারা গ্রাম পঞ্চায়েতের আউশাড়া গ্রামের কৃষক পরিবারের মেয়ে বিপাশা চৌধুরী। সেই স্বপ্নপূরণের পথে বড় সাফল্য অর্জন করে ২০২৬ সালের নিট (NEET-UG) পরীক্ষায় ৬২১ নম্বর পেয়ে অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্ক ৪৮৭৪ অর্জন করেছেন তিনি। তাঁর এই কৃতিত্বে খুশির হাওয়া বইছে গোটা এলাকাজুড়ে।
তবে এই সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না। ২০২৫ সালে প্রথমবার নিট পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল না পেলেও বিপাশা হতাশ হননি। বরং ব্যর্থতাকে শিক্ষায় পরিণত করে নতুন উদ্যমে প্রস্তুতি শুরু করেন। ব্যক্তিগত কোচিংয়ের সুযোগ না থাকায় অনলাইন ক্লাস, নিয়মিত মক টেস্ট এবং স্ব-অধ্যয়নকেই তিনি সাফল্যের প্রধান হাতিয়ার করে তোলেন। বিপাশার শিক্ষাজীবনের সূচনা আউশাড়া উদগড়া সি.আর.কে. শিক্ষা নিকেতনে। মাধ্যমিকে তিনি ৬৫৬ নম্বর অর্জন করেন। পরে সিমডালি ঠাকুরমনি হাই স্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিকে ৪৬২ নম্বর পান। নিটের প্রস্তুতির জন্য তিনি বর্ধমানের খলতপুর আল-আমিন মিশনের শাখায় ভর্তি হন। সেখানে শিক্ষকদের নিয়মিত দিকনির্দেশনা ও উৎসাহ তাঁর সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
গ্রামের দুর্বল ইন্টারনেট পরিষেবার মধ্যেও প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পড়াশোনা করেছেন বিপাশা। দুর্বল বিষয়গুলিতে বাড়তি সময় দিয়ে ধারাবাহিক অনুশীলন এবং আত্মবিশ্বাস বজায় রেখেই তিনি কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করেন। বিপাশার বাবা বসির চৌধুরী পেশায় কৃষক এবং মা জীবন্নেশা চৌধুরী। সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের মধ্যেও তাঁরা মেয়ের পড়াশোনায় কোনো খামতি রাখেননি। পরিবারের ত্যাগ, শিক্ষকদের সহযোগিতা এবং নিজের কঠোর পরিশ্রমের ফলেই আজ তিনি এই সাফল্যের মুখ দেখেছেন।
বর্তমানে বিপাশার লক্ষ্য একটি সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়ে চিকিৎসক হওয়া। ভবিষ্যতে একজন দক্ষ কার্ডিয়োলজিস্ট হিসেবে মানুষের হৃদরোগের চিকিৎসায় নিজেকে নিয়োজিত করার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। বিপাশার এই সাফল্যে আউশাড়া গ্রামে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেশী, শিক্ষক এবং শুভানুধ্যায়ীরা তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন। তাঁর এই কৃতিত্ব প্রমাণ করে, দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম এবং পরিবারের সমর্থন থাকলে সীমাবদ্ধতা কখনও সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।









































































































