নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র-যুবদের প্রতীকী অনশন

দৈনিক জনকণ্ঠ, মুহাম্মদ শাহবাজ, চাকদহ: নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর-মন্তরে বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, পরিবেশবিদ ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক, আইসা , সিজেপি সহ বিভিন্ন ছাত্র-ছাত্রীদের অনশন কর্মসূচির সংহতিতে এবং সেই অনশন কর্মসূচির ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে চাকদহে ছাত্র-যুবদের একদিনের প্রতীকী অনশন কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
এদিনের অনশন মঞ্চ মুখরিত হয়ে ওঠে প্রতিবাদী বক্তব্য ও গণসংগীতে। সভায় নদীয়া জেলা তথা রাজ্যের বিশিষ্ট পরিবেশ আন্দোলনের কর্মী ও দক্ষিণ বঙ্গ মৎস্যজীবী সমিতির নেতা বিবর্তন ভট্টাচার্য উপস্থিত ছিলেন। আইসা-র রাজ্য সভাপতি রিতম মাজী বলেন, “রাজ্যের প্রায় ৯ হাজার সরকারি স্কুল বন্ধ হয়ে গিয়েছে এবং সারা দেশে এই সংখ্যাটা প্রায় এক কোটির কাছাকাছি। পাশাপাশি সরকারি মদতে বেড়ে উঠছে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সাধারণ পরিবারের ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষার অধিকারের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। আর প্রশ্নফাঁসের মতো দুর্নীতি শিক্ষার অধিকারকে আরও বেশি করে ধনীদের কুক্ষিগত করে ফেলেছে।”
সিপিআই(এমএল)-লিবারেশন -এর পক্ষে কানাই নন্দী, চন্দনা সেনগুপ্ত ও পার্টির নদীয়া জেলা সম্পাদক জয়তু দেশমুখ বিজেপির ফ্যাসিবাদী আক্রমণ ও জনবিরোধী চরিত্র উন্মোচন করে নিট কেলেঙ্কারির পরিপ্রেক্ষিতে অবিলম্বে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন। এছাড়াও বন্দি মুক্তি কমিটির পক্ষে বিজয় সাহা এবং ওয়েলফেয়ার পার্টি অফ ইন্ডিয়া-র পক্ষে তাজেল আলি মন্ডল সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। পশ্চিমবঙ্গ গণশিল্পী পরিষদের পক্ষে নিতীশ রায় সাবলীল বক্তব্যের মাধ্যমে নিট কেলেঙ্কারির তীব্র সমালোচনা করেন। বিপ্লবী যুব অ্যাসোসিয়েশনের নদীয়া জেলা নেতৃত্ব সন্তু ভট্টাচার্য বর্তমান পরিস্থিতিতে ছাত্র-যুব আন্দোলনের নানা দিক তুলে ধরে জানান যে, নিট কেলেঙ্কারির মতো দুর্নীতির মাধ্যমে শিক্ষাক্ষেত্রে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। বিশিষ্ট বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক তমাল চক্রবর্তী। অনশনরত ছাত্র-যুবদের মধ্যে থেকে বক্তব্য রাখেন শুভজিৎ দত্ত ও উৎস।
সাংস্কৃতিক পর্বে সমবেত সংগীত পরিবেশন করে নৈহাটির ‘অগ্নিবীণা’। এছাড়া চাকদহ ‘ইনসাফ মঞ্চ’-এর প্রতিনিধিদের উপস্থিতি কর্মসূচিকে আরও উৎসাহিত করে। রাত্রি প্রায় আটটা পর্যন্ত চলা এই কর্মসূচির শেষে নিতীশ রায়ের গণসংগীতের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক পর্ব সমাপ্ত হয়। এরপর নিতীশ রায় ও সরিৎ চক্রবর্তী হাত থেকে জল ও পানীয় গ্রহণ করে অনশনরত ছাত্র-যুবরা তাঁদের অনশন ভঙ্গ করেন।











































































































