সময়ের ক্যানভাসে স্বপ্নের তুলি, নিউ জার্সিতে ফেরান তোরেসের মহাকাব্যিক অমরত্ব

দৈনিক জনকণ্ঠ ডেস্ক:
কিছু রাত শুধু কেটে যাওয়ার জন্য আসে না; কিছু রাত আসে রূপকথা হয়ে ইতিহাস লিখতে, নক্ষত্রের মতো অমরত্ব পেতে।
ফুটবলের অবিরাম পথচলায় কিছু মুহূর্ত তৈরি হয়, যা সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে মহাকাব্যের স্থান নেয়। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম সাক্ষী রইল তেমনই এক রূপকথার। দীর্ঘ লড়াই, দীর্ঘশ্বাস আর হাজারো ধুকপুকানির পর যখন ঘড়ির কাঁটা অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে পৌঁছাল—ঠিক তখনই স্প্যানিশ ফিনিক্স পাখির মতো ডানা মেললেন ফেরান তোরেস।
তাঁর সেই এক নিপুণ, মহাকাব্যিক ফিনিশে জাল কাঁপল; আর একই সাথে কেঁপে উঠল পুরো ফুটবল বিশ্ব। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ১-০ গোলের এই জয়ে ‘লা রোজা’ স্পেনের হাতে দ্বিতীয়বারের মতো শোভা পেল পরম আরাধ্য বিশ্বকাপ ট্রফি।
তবে কালকের মহাকাব্যের নায়ক, বার্সেলোনার সবুজ গালিচায় যে নামটা এতদিন নীরব আস্থার প্রতীক হয়ে তৈরি হচ্ছিল, সেই ফেরান তোরেস এদিন স্পেনের জাতীয় ইতিহাসের পাতায় সোনালী অক্ষরে নিজের নাম লিখিয়ে নিলেন। চাপের মুখেও নিজেকে শান্ত রেখে, কোটি স্প্যানিশ হৃদয়ের স্পন্দনকে আনন্দের উল্লাসে পরিণত করলেন। বিশ্বমঞ্চের সবচেয়ে বড় আলোয় আজকের এই গোল তাঁকে ফুটবল দেবতার বরপুত্র বানিয়ে দিল।
পরিবর্তিত হয়ে নেমে নীল-সাদার বেদনাবিধুর বিদায়ের গল্প লিখলেন তোরেস। আলবিসেলেস্তে ও লিওনেল মেসির জন্য উপহার দিলেন এক নির্মম পরিণতি। জয়ের খুব কাছে এসেও শেষ রক্ষা হলো না; স্পেনের তোরেসের ওই এক বিচ্ছুরিত স্ফুলিঙ্গের সামনে নত হতে হলো ডিফেন্ডিং বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ফুটবলের মহাকাব্যে প্রতিটা পরাজয় যেমন এক বিষাদগাঁথা, তেমনি প্রতিটা জয় এক নতুন সূর্যোদয়। আর ২০২৬-এর এই মহাজাগতিক রাতে সেই নতুন সূর্যের নাম— ফেরান তোরেস।




















































































































