অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতে বিক্ষোভ, সহায়ককে মারধরের অভিযোগ
দৈনিক জনকণ্ঠ, প্রীতিময় সরখেল, ধূপগুড়ি: অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তার টাকা না পাওয়ার অভিযোগে গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে বিক্ষোভ দেখালেন একদল মহিলা। বিক্ষোভ চলাকালীন গ্রাম পঞ্চায়েতের এক সহায়ককে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার উত্তেজনা ছড়ায় ধূপগুড়ি ব্লকের গাদং-২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ধূপগুড়ি থানার পুলিশ।
অভিযোগ, অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন করার পরও এলাকার বহু মহিলা এখনও পর্যন্ত সরকারি আর্থিক সহায়তা পাননি। তাঁদের দাবি, প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিপত্র জমা দেওয়া হলেও বারবার গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে যোগাযোগ করেও কোনো সদুত্তর মেলেনি। দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে এদিন তাঁরা গাদং-২ গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে বিক্ষোভে সামিল হন। বিক্ষোভ চলাকালীন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, গ্রাম পঞ্চায়েতের সহায়ক দেবাশিস কর্মকারের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের বচসা বাধে। এরপর কয়েকজন মহিলা তাঁর জামা টেনে ছিঁড়ে দেন এবং তাঁকে ঘিরে ধস্তাধস্তি ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা কিছু সময়ের জন্য গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ চালান, যার জেরে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে ধূপগুড়ি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশ ও গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে। বিক্ষোভকারী মহিলাদের অভিযোগ, সরকারি কর্মীরা পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছেন। তাঁদের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকদের অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা জমা পড়লেও অন্যান্য বহু যোগ্য আবেদনকারী এখনও পর্যন্ত সেই সুবিধা পাননি। একাধিকবার আবেদন এবং সমস্ত নথিপত্র জমা দেওয়ার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই তাঁরা আন্দোলনের পথে নেমেছেন বলে দাবি করেন।
অন্যদিকে, গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখা হবে। প্রকৃত উপভোক্তারা যাতে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পান, সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ঘটনারও তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে উল্লেখ্য, বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে সরকারি কর্মীদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।








