মালদহে ‘প্রতিজ্ঞা অভিযান’-এর সূচনা, উচ্চশিক্ষা-পেশা নির্বাচনে পড়ুয়াদের পাশে জেলা প্রশাসন

দৈনিক জনকণ্ঠ, এম নাজমুস সাহাদাত, মালদহ: উচ্চমাধ্যমিকের পর কোন বিষয়ে পড়াশোনা করবেন, কোন পেশাকে বেছে নেবেন কিংবা ভবিষ্যৎ গড়ার সঠিক পথ কোনটি – এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বহু ছাত্র-ছাত্রীই বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। সেই অনিশ্চয়তা দূর করে পড়ুয়াদের সঠিক দিশা দেখাতে অভিনব উদ্যোগ নিল মালদহ জেলা প্রশাসন। সোমবার পুরাতন মালদহের নারায়ণপুরের এক বেসরকারি স্কুলে আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা হল জেলা প্রশাসনের নতুন প্রকল্প ‘প্রতিজ্ঞা অভিযান’-এর।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মালদহের জেলাশাসক রাজনবীর সিং কাপুর, অতিরিক্ত জেলাশাসক (শিক্ষা) ভাস্কর মজুমদার, বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষা অনুপা ভাদুড়ি, শিক্ষক-শিক্ষিকা, প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিক এবং বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী। এদিন প্রকল্পের নিজস্ব লোগোরও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। জেলাশাসক জানান, মালদহের বিশ্ববিখ্যাত আমকে জেলার পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরতেই ‘প্রতিজ্ঞা অভিযান’-এর লোগোতে আমের প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, দ্বাদশ শ্রেণি উত্তীর্ণ হওয়ার পর অনেক পড়ুয়াই উচ্চশিক্ষা, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, চাকরি কিংবা অন্যান্য কর্মজীবনের সুযোগ সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সেই সমস্যার সমাধান করতেই জেলা প্রশাসনের এই বিশেষ উদ্যোগ।
তিনি আরো জানান, ‘প্রতিজ্ঞা অভিযান’-এর আওতায় জেলার বিভিন্ন স্কুলে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে ক্যারিয়ার কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকরা সরাসরি স্কুলে গিয়ে পড়ুয়াদের সঙ্গে মত বিনিময় করবেন। পাশাপাশি প্রতিটি বিদ্যালয়ের সঙ্গে একজন করে প্রশাসনিক আধিকারিককে যুক্ত করা হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন সুযোগ, সরকারি ও বেসরকারি চাকরি, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা হওয়ার সম্ভাবনা-সহ নানা বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেবেন। জেলাশাসক এও বলেন, “প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীর স্বপ্ন আলাদা। কেউ চিকিৎসক হতে চায়, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ আবার প্রশাসনিক পরিষেবা, গবেষণা, ব্যবসা বা অন্য কোনও ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হতে চায়। সেই স্বপ্নপূরণের পথে সঠিক তথ্য ও পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘প্রতিজ্ঞা অভিযান’-এর মাধ্যমে পড়ুয়াদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষা অনুপা ভাদুড়ি বলেন, জেলার এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সূচনা তাঁদের বিদ্যালয়ে হওয়ায় তাঁরা গর্বিত। তাঁর মতে, বর্তমানে জয়েন্ট এন্ট্রান্স বা নিটের বাইরেও উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের অসংখ্য সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু সেই সুযোগ সম্পর্কে অনেক পড়ুয়াই পর্যাপ্ত ধারণা পায় না। প্রশাসনের উদ্যোগে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে নিয়মিত পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হলে ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেদের আগ্রহ, যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতের পথ বেছে নিতে আত্মবিশ্বাসী হবে। শিক্ষাবিদদের মতে, বর্তমান সময়ে শুধু ভাল ফল করাই যথেষ্ট নয়; সঠিক পরিকল্পনা ও লক্ষ্য নির্ধারণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সেই দিক থেকে ‘প্রতিজ্ঞা অভিযান’ জেলার ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ গঠনে সময়োপযোগী এবং কার্যকর উদ্যোগ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই আশা করা হচ্ছে।












































































































