গোবিন্দপুর রেল দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণ তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী, দিলেন চাকরির আশ্বাস
উম্মার সেখ, এজাজ আহম্মেদ, মুর্শিদাবাদ: অভিশপ্ত ১৭ জুলাই শুক্রবার, চারিদিকে হাহাকার, চিৎকার, দিশেহারা মানুষ। ফুল ফোটার আগেই সাত সকালে ঝরে গেল কয়েকটি নিষ্পাপ প্রাণ। বহরমপুর থানার কর্ণসুবর্ণের গোবিন্দপুর রেলগেটে নিমতিতা-কাটোয়া ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারান মোট পাঁচ জন, যাদের মধ্যে চারজন স্কুলপড়ুয়া ও একজন সাধারণ পথচারী ছিলেন। দুর্ঘটনার পরই রেল ও রাজ্য সরকারের তরফে আর্থিক ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের বহরমপুর থানার গোবিন্দপুর গ্রামে স্বয়ং উপস্থিত থেকে নিহতদের পরিবারের হাতে রাজ্য সরকারের ক্ষতিপূরণের পাঁচ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং শোকাহত পরিবারগুলির সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান।
সভামঞ্চ থেকে সংক্ষিপ্ত ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় গেটম্যানের গাফিলতির কথা উল্লেখ করে বলেন, যে গেটম্যানের গাফিলতিতে ফুলের মতো শিশুদের মৃত্যু হল তার আইনত চূড়ান্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। চেক নেওয়ার সময় মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে তাঁর স্বামীর জন্য একটি চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কাতর আবেদন জানান মৃত ঈশানুরের মা আজিজা খাতুন। তাঁর এই আবেদনে সাড়া দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুধু তাঁর স্বামীর জন্যই নয়, বাকি তিনজন পরিযায়ী শ্রমিককেও সিভিক ভলান্টিয়ার পদে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি কর্ণসুবর্ণ রেলগেটের সুরক্ষা বৃদ্ধির জন্য জেলাশাসক রেলের সঙ্গে কথা বলবেন এবং প্রয়োজনে তিনি নিজে রেলমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান।
সূত্রের খবর, রেলের তরফে ইতিমধ্যেই গোবিন্দপুর-কর্ণসুবর্ণ রেলগেটে আন্ডারপাস তৈরির প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। কর্ণসুবর্ণ থেকে মুখ্যমন্ত্রী সোজা চলে যান মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। দুর্ঘটনায় নিহত তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ঈশানুর রহমানের (৮) বাবা আফজালুর রহমান আরব মুলুকে কর্মরত অবস্থায় ছেলের মৃত্যুসংবাদ পান ফোনে। অফিস কর্তৃপক্ষের কাছে ছুটি চাইলে তা অনুমোদন না পাওয়ায় তিনি বিদেশের চাকরি একেবারে ছেড়ে দিয়ে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। একইভাবে মৃত তামান্না পারভিনের (৭) বাবা ইসরাফিল শেখও পাসপোর্ট জটিলতা কাটিয়ে পাকাপাকিভাবে গ্রামে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মুম্বইয়ে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কর্মরত মৃত ফারহানা বেগমের (৫) বাবা মাকারুল হক ও মৃত জেসিকা শবনমের (৮) বাবা শহিদ আলি খবর পেয়ে বিমানে দ্রুত গ্রামে ফিরলেও কেউই মেয়ের শেষ মুখ দেখতে পারেননি, ততক্ষণে সমাহিত করা হয়ে গিয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী চার পরিযায়ী শ্রমিককে সিভিক ভলান্টিয়ার পদে নিয়োগের আশ্বাস দিয়েছেন।
আজিজা খাতুন জানান, মুখ্যমন্ত্রীর হাত জড়িয়ে ধরলে তিনি সান্ত্বনা দিয়ে পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং স্বামীর চাকরির অনুরোধে ১৫ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেন। নথিপত্র জমা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে আজিজা খাতুন খুশি প্রকাশ করে বলেন, স্বামী চাকরি পেলে আর বিদেশে কষ্ট করে পড়ে থাকতে হবে না তাঁকে।








