BREAKING:
পরাজিত মহামেডান, সাদাকালো শিবিরকে হারিয়ে দুরন্ত জয় পিয়ারলেসের সুন্দরবনের জলবায়ু বিপন্নতা নিয়ে কাকদ্বীপে মিডিয়া ওয়ার্কশপ NEET-২০২৬ উত্তীর্ণ কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা ফারাক্কায় সোনাল দিনুশার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচ বাঁচাল শ্রীলঙ্কা,সিরিজ সেরা পাড়িক্কল ব্যান্ডেলে এখন থেকে জমবে ‘কারিম’স’-এর আসর, দিল্লির স্বাদ এবার হাতের নাগালে রাখির বন্ধনে সম্প্রীতির বার্তা, দৃষ্টিহীন ও বিশেষভাবে সক্ষমদের মুখে হাসি সম্পত্তি জালিয়াতি মামলায় পুলিশি অ্যাকশন: গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী, আইনি পদক্ষেপে স্বস্তি বৃদ্ধা মণিকা চক্রবর্তীর চূড়াভান্ডারে পালাবদলের বোর্ড, প্রধান কল্পনা  উপপ্রধান অনিতা! আবির-মিষ্টিতে উচ্ছ্বাস কর্মী-সমর্থকদের দেগঙ্গায় আট দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টে মাদকবিরোধী সচেতনতার বার্তা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর দৌড়,যা মৈই ছাড়া নামেই খ্যাত দ্বিতীয় টেস্টে আজ মুখোমুখি ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা,থাকছে বৃষ্টির ভ্রুকুটি। চড়া দামের খাঁড়া; ভারতের ক্রিকেট টাইটেল স্পনসরশিপ নিয়ে জটিলতায় বিসিসিআই একদিনে পড়লো ১৮ উইকেটে। হেডিংলিতে লজ্জার হার,ইংরেজ পেসারদের কাছে মুখ থুবড়ে পড়লো পাক ব্যাটিং। প্রতিশোধ বনাম শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই: ডুরান্ড ফাইনালে মহারণের অপেক্ষায় যুবভারতী রাজীব গান্ধীর জন্মদিনে ফুটবল প্রতিযোগিতা ও কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা বকেয়া বেতনের জট কাটেনি, পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে অস্থায়ী কর্মীরা কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন পুরপ্রধান, আদালতে জামিন সম্পত্তির লোভে বাবাকে খুন, চন্দননগর আদালতে যাবজ্জীবন ছেলে-বৌমার ভারত-ব্রাজিল মহাদ্বৈরথের প্রস্তুতি তুঙ্গে: যুবভারতী পরিদর্শনে ব্রাজিলের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল টাইব্রেকারে নর্থইস্টকে হারিয়ে ফাইনালে মোহনবাগান! শিরোপার মঞ্চে এবার কলকাতা ডার্বি” হেডিংলিতে পেস-ঝড়ে বিধ্বস্ত পাকিস্তান ১৭১ রানে অল-আউট, প্রথম দিনেই এগিয়ে ইংল্যান্ড চম্পাহাটির বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে জখম অন্তত ৫ শ্রমিক ভোটাধিকার পুনর্বহাল ও নাগরিক পরিষেবা রক্ষার দাবিতে ডায়মন্ড হারবারে মিছিল জয়নগর কুলতলি গ্রামীণ হাসপাতালে বেহাল সরকারি আবাসন মীনা মঞ্চের উদ্যোগে মাদ্রাসায় প্রজেক্ট বিতরণ ডুরান্ড কাপ সেমিফাইনাল সুথারের অতিমানবিক পারফরম্যান্স,গল-এ প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজে এগোলো ভারত দক্ষিণ আফ্রিকাকে হাফ ডজন গোলে উড়িয়ে সেমিফাইনালের আরও কাছে ভারত মাদক, জুয়া-সাট্টা ও নারী নির্যাতন রুখতে বহড়ুতে সচেতনতা সভা জয়নগরে বিজেপি যুব মোর্চার প্রতিবাদ মিছিল প্রবল বৃষ্টিতে জলমগ্ন জয়নগর মজিলপুর, হাঁটু সমান জলে দুর্ভোগ সমাজসেবায় কানাড়া ব্যাঙ্ক, শিক্ষা ও গ্রামোন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নবোদয় সাহিত্য পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন ও স্বাধীনতা দিবস পালন মালদহে চালু আয়ুষ্মান ভারত, স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন দিশার আশাবাদ জুট মিল শ্রমিকদের ব্যাতিক্রমী স্বাধীনতা দিবস উদযাপন নেতাজির অপমানের প্রতিবাদে মালদহে এসএফআইয়ের ‘আজাদি র‍্যালি’ বেলডাঙ্গা হাইস্কুলে SIO-র আয়োজনে বসেআঁকো প্রতিযোগিতা স্বাধীনতা দিবসে অনবদ্য জয় দিয়ে হকি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ভারত আজ কোয়ার্টারের মহারণ! অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস,ডারউইনে ৯ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি ও একজন দিব্যাঙ্গ মানুষের যন্ত্রনা ‘হর ঘর তিরঙ্গা’য় সাইকেল নিয়ে ধূপগুড়ির রাজপথ পরিক্রমা করলেন মহকুমা শাসক শ্রদ্ধা সুব্বা ব্যান্ডেলে এবার খাদ্যরসিকদের জন্য দিল্লির কারিম’স নেতাজিকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে, অনন্ত মহারাজকে ভর্ৎসনা  কার্তিক মহারাজের বনকর্মীদের তৎপরতায় বাঁচল বাজপাখির প্রাণ  অবশেষে সেলিমার দিল্লি যাত্রা, বিধায়কের সহায়তায় মালদহের রেশম চাষের ইতিহাস ও বর্তমান সরকারের উদ্যোগ ওয়েটল্যান্ডে চলল বুলডোজার, ভাঙড়ে বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন বনগাঁ সীমান্তে গ্রেফতার এক পাকিস্তানি ভোট শেষ, তবু খুলল না স্কুল! চার মাস ধরে থমকে পড়াশোনা প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করার দাবি, এসডিওকে স্মারকলিপি গরু শনাক্তে হাটে উত্তেজনা: চোর না ভিকটিম, কেন মামলা না করার সিদ্ধান্ত মালিকের  ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে শিক্ষকের ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের’ অভিযোগে উত্তাল স্কুল চার দিন পানীয় জল নেই ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে, চত্বরজুড়ে আবর্জনার স্তূপ ফালাকাটায় উদ্ধার মা গণ্ডারের মৃতদেহ, তীব্র চাঞ্চল্য   অপেক্ষার অবসান, দীর্ঘদিন পর টেস্ট দলে ফিরলেন সরফরাজ খান ক্রিকেটে আবারও রাজনীতির কালোছায়া লাভলিনা-মীরাবাই-নরেন্দ্র’র গল্প শুনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী সাহালের হ্যাটট্রিকে সিআইএসএফকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে পরের রাউন্ডে মোহনবাগান বড় ধাক্কা ভারতীয় শিবিরে, ছিটকে গেলেন সাই সুদর্শন খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ওয়ার্কলোড সামলাতে বিশেষ পদক্ষেপ থম্পসনের তোপে থরহরি কম্পন বাংলাদেশ শিবিরে, ৫৪ রানে শেষ টাইগাররা ক্যালকাটা পুলিশকে ২-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষে মহামেডান গুজরাট, মুম্বইয়ের পর কি এবার কলকাতা? হার্দিকের সম্ভাব্য নতুন ঠিকানা নিয়ে জোর চর্চা জয়ের লক্ষ্যে ক্যালকাটা পুলিশের মুখোমুখি মহামেডান স্পোর্টিং সিএফএলে আবার অঘটন, এবার ভবানীপুরের কাছে হার বাগানের টানা দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়ার সেরা ক্রিকেটার ট্রাভিস হেড বাইশ গজে আবার মহারণ, এশিয়া কাপে ৫ সেপ্টেম্বর ভারত-পাক মুখোমুখি বৃষ্টিতে ভেসে গেল আয়ারল্যান্ডের বিশ্বকাপের স্বপ্ন, খেলতে হবে বাছাইপর্ব ইস্তাম্বুলে বীরের বেশে সালাহ, ঐতিহাসিক চুক্তিতে শুরু নতুন অধ্যায় ​ক্ষমা চেয়ে পদে বহাল ইনফান্তিনো ২৫ কোটির প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরপর চেক বাউন্স! মহামেডান থেকে ‘বিতাড়িত’ হুমায়ুন, অথৈ জলে ক্লাব সাজিদের ঘূর্নি আর বাবরের ব্যাটে তিন বছর পর বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয় পাকিস্তানের আংরাভাষা ২ নং পঞ্চায়েতে প্রধান-সহ আট তৃণমূল সদস্যের দলত্যাগ মছলন্দপুর রেলগেট থেকেই ভাঙা রাস্তা নতুন ট্রেন, প্ল্যাটফর্ম সংযুক্তিকরণ ও রেল প্রকল্পের দাবিতে সরব যাত্রী ও নাগরিক সংগঠন টানা বৃষ্টিতে ফুলে-ফেঁপে উঠল ময়ূরাক্ষী,  বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পূর্ণবয়স্ক দাঁতাল হাতির মৃত্যু  চন্দনা বাউরীর মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ আশা কর্মীদের বেহাল দশা, পাকা রাস্তার দাবি ধুলিয়ান পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব কড়িয়ালি বনের সৌন্দর্যায়ন ও মিনি-জু হিসেবে গড়ে তোলার দাবি পাটচাষে আর লাভ নেই! দরপতনে দিশেহারা কৃষকরা মোজাফফর আহমেদের ১৩৮তম জন্মবার্ষিকী পালিত তাইপেই ওপেনে ইতিহাস, ১৮ বছর পর ভারতকে খেতাব এনে দিলেন ১৭ বছরের তন্বী ​সীমানার মাইন থেকে গ্লাসগোর সোনা, সেনানায়ক সোমন রানার অদম্য রূপকথা সিএফএল-এ জয়ের ধারা বজায় রাখতে বিএসএসের বিরুদ্ধে নামছে ইস্টবেঙ্গল ডুরান্ডে বড় অঘটন! নবাগত সমলেশ্বরীর কাছে ৩-২ গোলে হারল মহামেডান ডুরান্ডে গোলের বন্যা, সিআইএসএফকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত করল ইস্টবেঙ্গল ২৪ বছর পর আফ্রিকায় বিশ্বকাপ, ৩ দেশ ১২ শহরের নাম চূড়ান্ত করল আইসিসি বিদায় রক্ষণের শিল্পী, প্রয়াত ইতালির বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রাঙ্কো বারেসি স্বপ্ন সত্যি কলকাতায়; পুজোর আগেই যুবভারতীতে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নামছে ভারত নীল ছেড়ে গেরুয়া, হকি বিশ্বকাপের আগে জার্সি বদল ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক ডার্বি জয়ের আত্মতুষ্টি নয়, জয়ের ছন্দে থাকাই চ্যালেঞ্জ মোহনবাগানের ভারতের ধ্রুপদী যোদ্ধার বিদায়, শান্ত নায়ক অজিঙ্ক রাহানের অবসর ঘরের মাঠে সুরুচি-বধ মহামেডানের, তবুও চিন্তার ভাজ কপালে ডার্বি হারের পর জয়ে ফেরার মিশন বিসিসিআই-এর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে তামিম ইকবাল চেন্নাই ছেড়ে ইংল্যান্ডের হেড কোচ ফ্লেমিং, ফের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট

নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও পলাশির বিপর্যয় (৩ জুলাই শাহাদত বার্ষিকী)

প্রকাশিত: ২ জুলাই ২০২৬, সকাল ১১:৩৫ | আপডেট: ২ জুলাই ২০২৬, সকাল ১১:৪০

আলিমুজ্জমান: সিরাজউদ্দৌলা ১৭৫৬ সালের ১৫ এপ্রিল বাংলা-বিহার-উড়িষ্যা সুবা’র শাসনভার হাতে পান। নবাব আলীবর্দী খান প্রয়াত হন ৮০ বছর বয়সে ১৯৫৬ সালের ১২ এপ্রিল। আলীবর্দীর তিন কন্যার মধ্যে সিরাজ-মাতা আমেনা বেগম ছিলেন সবার ছোট। সিরাজ ছিলেন আলীবর্দীর খুবই আদরের নাতি। মৃত্যুর আগে আলীবর্দী, সিরাজকে কিছু উপদেশ দেন। বলেন, ‘তুমি দুশমনদের দমন করবে এবং বন্ধুদের রাজ্যের বড় পদে বসাবে। তোমার সকল শক্তি দিয়ে প্রজাদের উপকার করবে। ঐক্যের জন্য সবসময় কাজ করে যাবে।’ মাতামহ আলীবর্দীর উপদেশ তিনি অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে চেয়েছিলেন। আর সে কারণেই মাত্র এক বছর চৌদ্দ দিন রাজত্ব করার পর তিনি নির্মমভাবে নিহত হন। এক সংকটময় প্রতিকূল অবস্থার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে নবাব  সিরাজউদ্দৌলার সমগ্র শাসনকাল। বাংলায় ক্ষমতা দখল নিয়ে আত্মীয় স্বজনের মধ্যে কলহ চলছিল তিনি মসনদে বসার আগে থেকেই। বিষয়টি সিরাজ ভালভাবেই উপলব্ধি করেছিলেন। তবে এটা তাঁর কাছে নতুন কিছু ছিল না। নবাব হয়ে সিরাজকে একের পর এক দুশমনদের দমন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়েছে। তাছাড়া বর্গী হামলার সময় থেকে সিরাজ নবাব আলীবর্দীর সঙ্গে থেকে সাহায্য করায়, সিরাজের দেশ চালানো বিষয়ে যেমন কিছু অভিজ্ঞতা হয়েছিল, তেমনি আলীবর্দীর কাছে ভবিষ্যৎ নবাব হিসেবে নিজের যোগ্যতাও প্রমাণ করতে সচেষ্ট হয়েছিলেন। এদিকে বাংলায় তখন শুরু হয়েছে ইংরেজ বণিকদের অশুভ পাঁয়তারা। ইংল্যান্ডের রাণী প্রথম এলিজাবেথ ১৬০০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ভারতে ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য একটি সনদ দেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে। ১৬০৮ সালে কোম্পানির দূত ক্যাপ্টেন উইলিয়ম হকিন্স মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের দরবারে আসেন। সে সময় কোম্পানির জন্য তিনি তেমন সুবিধা করতে পারেননি। কারণ, ভারতে তখন পর্তুগিজ বণিকদের বেশ প্রভাব প্রতিপত্তি এবং তাঁদের বিরোধিতাও ছিল ইংরেজদের বিষয়ে। এসব সত্ত্বেও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথম বাণিজ্য কুঠি তৈরির অনুমতি পেয়ে যায় সুরাটে।

আরও পড়ুন:

সেকালে ভারতে ব্যবসা করার জন্য বিদেশি বণিকদের চার ধরনের অনুমতি দেওয়া হত, এগুলো হচ্ছে — ফরমান, হুসব-উল-হুকুম, নিশান ও পরোয়ানা। ফরমান দেওয়ার অধিকার ছিল বাদশাহের। প্রধানমন্ত্রী দিতেন হুসব-উল-হুকুম। প্রাদেশিক শাসন কর্তারা দিতেন পরোয়ানা। ১৬৫০ সালে মোগল সম্রাট শাহজাহানের কাছ থেকে ফরমান আদায় করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। ১৬৫১ সালে হুগলিতে ইংরেজ বণিকরা বাংলায় প্রথম বাণিজ্য কুঠি তৈরি করে। এরপর তারা কয়েকটি বাণিজ্য কুঠি নির্মাণ করে উড়িষ্যার বালেশ্বর ও হরিপুরে এবং বাংলার মেদিনীপুরের কাছে পিপলিতে। ১৭১৭ সালে বাদশাহ ফররুখ শিয়রের কাছ থেকে কোম্পানি একখানা ফরমান আদায়ের ফলে বাংলায় তারা অবাধ বাণিজ্যিক সুবিধা আদায় করতে সমর্থ হয়। ধীরে ধীরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এভাবে তাদের অধিকার বাড়াতে থাকে। সিরাজউদ্দৌলা ১৭৫৬ সালের ১৫ এপ্রিল বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার মসনদে বসার পর ইংরেজদের সঙ্গে তাঁর বিরোধ বাড়তে থাকে। নবাব লক্ষ্য করছিলেন, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও তার কর্মচারীরা তাদেরকে দেয়া সুবিধার চেয়ে অনেক বেশি সুবিধা ভোগ করছে। ফলে ওই বছরের মে মাসে তিনি প্রথম কাশিমবাজার কুঠি আক্রমণ করেন। এর ফলে সেখানে অবস্থানরত ইংরেজরা ঘেরাও হয়ে যায়। অবস্থা বেগতিক দেখে কুঠির কর্মকর্তা উইলিয়াম ওয়াটস নবাবের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে বাধ্য হন। তার আগে নবাবের কাছে খবর ছিল, কলকাতায় ইংরেজরা দুর্গের আয়তন বাড়িয়ে যাচ্ছে ও সমরাস্ত্র মজুদ করে চলেছে। অপরদিকে, ঢাকার দেওয়ান রাজা রাজবল্লভ রাজকোষের প্রচুর টাকা আত্মসাৎ করেন; নবাব আলীবর্দীর জীবনের শেষ দিকে। এজন্য তাঁকে মুর্শিদাবাদে আটকও করা হয়। চতুর রাজবল্লভ বিষয়টি আগে থেকে আঁচ করতে পেরে সমস্ত টাকা-পয়সা ধনরত্ন-সহ ছেলে কৃষ্ণ দাসকে কলকাতা ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গে ইংরেজদের আশ্রয়ে পাঠিয়ে দেন। মসনদে বসে সিরাজউদ্দৌলা, কৃষ্ণ দাসকে ফিরিয়ে দেবার আদেশ দিলেও তারা অগ্রাহ্য করে। এসব কারণেই নবাবের কলকাতা আক্রমণ করা। ইংরেজরা নবাব বাহিনীকে বাধাদানে অসমর্থ হয়। রজার ড্রেক তাঁর পরিষদের সদস্য ও অন্যান্যদের নিয়ে দুর্গ থেকে পালিয়ে জাহাজে নিকটবর্তী ফলতায় আশ্রয় নেন। ২০ জুন ১৭৫৬, নবাব সিরাজউদ্দৌলা কলকাতা দখল করে নেন। কুক লিখেছেন, কলকাতা জয়ের পর নবাব ইংরেজদের ওপর কোনরূপ অত্যাচার করেননি। ঐতিহাসিকরা বলেন, কলকাতা পতনের পর যদি উমিচাঁদ, নবকিষেণ, জগৎশেঠ, রায় দুর্লভ, মানিক চাঁদ প্রমুখ ড্রেক ও তাঁর লোকদের সাহায্য না করতেন, তা হলে ইংরেজদের আত্মসমর্পণ করা ছাড়া উপায় ছিল না।

আরও পড়ুন:

ফৌজদার মানিক চাঁদের ওপর কলকাতার ভার অর্পণ করে নবাব সিরাজউদ্দৌলা মুর্শিদাবাদ প্রত্যাবর্তন করেন। এরপরে তিনি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী শওকাত জঙ্গকে দমনের উদ্দেশ্যে পূর্ণিয়া যাত্রা করেন। ১০ অক্টোবর ১৭৫৬ সালে এক যুদ্ধে নবাব তাঁকে পরাস্ত ও নিহত করেন মিনহারী নামক এক স্থানে। ১৯৫৬ সালের এপ্রিলে ক্ষমতা লাভের পর নবাব সিরাজউদ্দৌলা ১৯৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশি বিপর্যয়ের দিন পর্যন্ত এই চৌদ্দ মাসে একদিনও শান্তিতে ঘুমাবার সময় পাননি। ঘরে-বাইরে একের পর এক ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করে যেতে হয়েছে। মাদ্রাজে রবার্ট ক্লাইভের কাছে মানিক চাঁদের মাধ্যমে কলকাতা হাতছাড়া হওয়ার খবর পৌঁছালে ১৭ ডিসেম্বর ১৭৫৬, ক্লাইভ সহজেই কলকাতা পুনরুদ্ধার করে ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ সুরক্ষিত করেন। মানিক চাঁদ ক্লাইভের বন্ধু হিসেবে তার আশ্রয়ে থেকে যান। বিশিষ্ট ঐতিহাসিক ড. কে.এম. মহসীন সাপ্তাহিক পলাশী ‘পত্রিকায়’ নওয়াব কোম্পানি ও পলাশীর যুদ্ধ’ (২৪ জুলাই ১৯৯২) প্রবন্ধে লিখেছেন, ‘যুবক সিরাজউদ্দৌলা’র যোগ্যতা দক্ষতায় তাঁর (নবাব আলীবর্দীর) আস্থা ছিল বলেই তাকে উত্তরাধিকার মনোনীত করেন এবং দৃঢ়তার সঙ্গে দেশের শত্রুর মোকাবিলা করার নির্দেশ দেন, সিংহাসনে আরোহণের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত নবাব সিরাজউদ্দৌলার কার্যকলাপে কোনো দুর্বলতার পরিচয় পাওয়া যায় না।’ পলাশি যুদ্ধের কিছুদিন আগে ১৭৫৭ সালের ৫ জুন কলকাতায় মসনদ লোভী মীরজাফরের সঙ্গে কোম্পানির একটি গোপন পাকা চুক্তি সম্পাদিত হয়, তাতে উপস্থিত হয়েছিলেন, কোম্পানির প্রতিনিধি ওয়াটস, অন্যতম সেনানায়ক ইয়ার লতিফ, জগৎ শেঠ, আমির চাঁদ প্রমুখ। ঘসেটি বেগম মীরজাফরকে অর্থ জোগানোর প্রতিশ্রুতি দেন। ওয়াটস এই ষড়যন্ত্র সভার কথা ক্লাইভকে জানালেন। নবাব হিসেবে মীরজাফরের নাম মনোনীত করেন ক্লাইভ। কলকাতা ছাড়াও মুর্শিদাবাদে জগৎ শেঠের বাড়িতে গোপন সভা হয়। এই সময় নবাব মুর্শিদাবাদে ছিলেন না। মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র ও রাজা রাজবল্লভ ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন। ষড়যন্ত্র যে হয়েছিল, সে সম্পর্কে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের জীবনীকার রাজীবলোচন লিখেছেন, ‘হিন্দু জমিদার ও প্রধানগণ সিরাজউদ্দৌলাকে সিংহাসনচ্যুত করার জন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিলেন।’

আরও পড়ুন:

ইংরেজদের সঙ্গে গোপন সমঝোতা হয়ে যাবার পর রবার্ট ক্লাইভ ১৩ জুন কলকাতা থেকে পলাশিতে যুদ্ধের জন্য এগিয়ে যান, রাজধানী মুর্শিদাবাদ থেকে পলাশি ১৫ ক্রোশ দক্ষিণে অবস্থিত। ক্লাইভের সঙ্গে ছিল ২৫০ জন ইউরোপীয় সৈন্য, ৫০ জন নাবিক, ১০০ জন আধা-ইউরোপীয় সৈন্য, আটটি কামান, ১৫০ জন গোলন্দাজ এবং ২১০০ জন সিপাহী। অপরদিকে নবাবের ছিল ৩৫ হাজার পদাতিক সৈন্য ও ১৫ হাজার অশ্বারোহীর মধ্যে ৪৫ হাজার সৈন্য ছিল সেনাপতি মীরজাফরের অধীনস্থ। সেদিনে সত‌্যিকার কোন যুদ্ধ ছিল না; ছিল বিরাট বিপর্যয় এবং ইতিহাসের কলঙ্ক! সিরাজউদ্দৌলা যাদের বিশ্বাস ও নির্ভরতা চেয়েছিলেন, তারাই ইংরেজদের হাতে কুচক্রে লিপ্ত হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে চলে যায়। মীরজাফর যদি সিরাজউদ্দৌলার পক্ষে থাকতেন, তাহলে পলাশীর পরাজয় ঘটত না। দেশদ্রোহিতা, ক্ষমতার লোভ এবং অর্থগৃন্ধ্রতা বা অর্থলিপ্সা মীরজাফরকে উন্মাদ করে তুলেছিল। তাই একটি যুদ্ধের সেনাপতি হয়েও তার সৈন্যদেরকে ইংরেজদের আক্রমণের মুখে নিশ্চল করে রেখেছিল। এ অপরাধের ক্ষমা নেই! কী ঘটেছিল যুদ্ধক্ষেত্রে! যুদ্ধ করে চলেছেন মীরমদন। মীরজাফর, ইয়ার লতিফ, রায় দুর্লভ যেন ছবির মতো দাঁড়িয়ে। কী করছেন তারা। মুতাখ্ রীনের ভাষায়, ‘ওহা খড়ে তামাসা দেখ রহে থে।’ পলাশি বিপর্যয়ের পরের ঘটনা সম্পর্কে নিখি‌লনাথ রায় লিখেছেন, বিশ্বাসঘাতক ষড়যন্ত্রকারীগণের কৌশলে যখন পলাশি রণক্ষেত্রে পরাজিত হইয়া যুদ্ধস্থল হইতে পলায়ন করে সিরাজ মুর্শিদাবাদে উপস্থিত হইলেন, তখন তাঁহার  সে চিত্র মনে হইলে করুণায় সে হৃদয় অভিষিক্ত হইয়া ওঠে। তিনি যাহার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেন, সে-ই তাঁহার প্রতি বিমুখ হয়।…’কালবিলম্ব না করে সিরাজউদ্দৌলা, স্ত্রী, কন্যা ও বিশ্বস্ত ভৃত্য গোলাম হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে সাধের হীরাঝি‌ল পিছনে ফেলে স্থলপথে ভগবানগোলা পৌঁছে সেখান থেকে নৌকাযোগে পাড়ি দেন পদ্মা ও মহানন্দার মধ্য দিয়ে পাটনার উদ্দেশে। সিরাজের আশা ছিল, সেখানে পৌঁছতে পারলে ফরাসি সেনাপতি মসিয়ে জীন ল’ ও পাটনার নায়েব নাযিম রামনায়ণের সহায়তায় সৈন্য সংগ্রহপূর্বক বাংলা পুনরুদ্ধার করবেন। কিন্তু হায়! ভাগ্য তাঁকে সে সুযোগ দেয়নি। পাটনা পৌঁছানোর পূর্বে রাজমহলে মীরজাফরের চরদের হাতে ধরা পড়েন ভাগ্যহত সিরাজউদ্দৌলা। অত্যন্ত গোপনে এবং প্রচন্ড অসম্মানজনক ভাবে তাঁকে মুর্শিদাবাদে এনে জাফরাগঞ্জ রাজপ্রাসাদের এক নিভৃত কক্ষে রাখা হয়। অবশেষে ২ জুন গভীর রাত্রে মীরজাফর-পুত্র মীরণের নির্দেশে মোহাম্মদী বেগ অতি নিষ্ঠুরতার সঙ্গে সিরাজকে হত্যা করে।

আরও পড়ুন:

নবাবকে হত্যা করার পর হাতির পিঠে চড়িয়ে নগর প্রদক্ষিণ করানো হয়। এ সম্পর্কে অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় ‘সিরাজউদ্দৌলা’ গ্রন্হে মর্মস্পর্শী বর্ণনা দিয়েছেন, ‘মুর্শিদাবাদের নর-নারী এই রাজহত্যার আক্ষরিক সংবাদে হাহাকার করিয়া উঠিল। তাহাদিগের আকুল আর্তনাদ মুসলমানেরা উচ্চ অবরোধ বেষ্টিত বেগম মহলে প্রবিষ্ট ও সিরাজ জননী আমিনা বেগমের কর্ণগোচর হইল। বিদ্রোহী দল তখন বিজয়োৎসবে উন্মত্ত হইয়া সিরাজের ক্ষত-বিক্ষত দেহ হস্তীপৃষ্ঠে সংস্থাপিত করিয়া নগর প্রদক্ষিণে বাহির হইয়াছিল। রাজপথ লোকে লোকারণ্য হইয়া গেল। সিরাজ জননী হাহাকার করিতে করিতে লজ্জা, ভয় বিসর্জন দিয়া রাজপথে আসিয়া ধূলিবিলুণ্ঠিত হইয়া পড়িলেন। তাহাকে দেখিয়া শববাহক হস্তী সহসা রাজপথে বসিয়া পড়িল। স্নেহময়ী জননী সন্তানের মাংসপিণ্ড বুকে ধরিয়া মূর্ছান্বিত হইয়া পড়িলেন। মীরজাফরের অনুচর কদম হোসেন তখন নানারূপে তাড়না করিয়া সিরাজ-জননী আমিনা বেগমকে পুনরায় অন্তঃপুরে কারারুদ্ধ করিয়া সিরাজের শবদেহ সমাধিস্থ করিবার জন্য ভাগীরথীর পশ্চিম তীরবর্তী আলীবর্দীর সমাধি মন্দিরে উপনীত করিল।’

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder