BREAKING:
চরম নির্যাতন ও দারিদ্র্যকে হারিয়ে সোনা, অদম্য ইচ্ছাশক্তির নতুন নাম শর্মিলা ধনকর মোহনবাগান-ইউনাইটেড নাটকীয় ম্যাচে ২ লাল কার্ড! সুহেলের গোলে জয় মোহনবাগানের ডুরান্ডে উড়ন্ত সূচনা মহামেডানের গ্লাসগোর রিং ও বারবেলে ভারতের জয়গাথা ফুটবলের রাজা এবার পর্দায়, নতুন ড্রামা সিরিজে সিআরসেভেন-আঁরি জুটি দিল্লিতে আফগানদের ‘হোম’ সিরিজ অনিশ্চিত, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের হাতে মাছ ধরার ছিপে জড়িয়ে ব্যাধপাড়ার জীবন-জীবিকা বর্ষায় বেহাল ক্যানিং জামতলা রাজ্য সড়ক ডেঙ্গু রুখতে রানাঘাট পৌরসভার অভিনব উদ্যোগ, বিদ্যালয়ে কর্মশালা ও কুইজ প্রতিযোগিতা তৃনমূল নেতার পুকুর থেকে উদ্ধার একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র জাল পরিচয়পত্র-সহ সাগরদিঘীতে ধৃত বাংলাদেশি যুবক ফেনসিডিল পাচারের আগেই সীমান্তে আটক চক্র আবগারি কর্মী সেজে চায়ের দোকানে হানা অনাস্থায় অপসারিত জঙ্গিপুরের পুরপ্রধান ঘরে বসে টাকা নিচ্ছেন তৃণমূল নেতা, মালদহে ‘প্রতিজ্ঞা অভিযান’-এর সূচনা, উচ্চশিক্ষা-পেশা নির্বাচনে পড়ুয়াদের পাশে জেলা প্রশাসন বিপ্লবী কানাইলাল ভট্টাচার্যের ৯৬তম আত্মাহুতি দিবস পালন জয়নগরে  চুঁচুড়ায় পঞ্চায়েত মন্ত্রী, ভিবি-জি রামজী প্রকল্প ও বন্যা মোকাবিলায় বৈঠক ডুরান্ডে নতুন চ্যালেঞ্জ! সোমবার যুবভারতীতে এফসি বেনারস ভাগপতের বিরুদ্ধে নামছে মহামেডান বিশ্বকাপ আউট, ক্লাব ইন: বেজে গেল ক্লাব ফুটবলের দামামা, আগস্টে লড়াই শুরু কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের জয়যাত্রা: মীরাবাই ও ঋষিকান্তের রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স বৈভবের ব্যাটে আগুন! জিম্বাবুয়েকে ৩-০-তে হোয়াইটওয়াশ করে সিরিজ ভারতের ‘জাগ্রত প্রহরী’ প্রকাশে নতুন অধ্যায়, ২২তম সাহিত্য সেতুতে সম্মানিত গুণীজন লোহরপুরের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা নুরুল ইসলাম কাশেমী আর নেই হাবড়ায় ২ চানাচুর কারখানায় খাদ্য সুরক্ষা দফতরের হানা, বাজেয়াপ্ত বিপুল সামগ্রী রায়চকে বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস উদযাপন ও কুলতলীতে আন্তর্জাতিক বাদাবন দিবস পালন শঙ্করপুর ট্রলার দুর্ঘটনায় নিহত মৎস্যজীবীদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা সহায়তা মুখ্যমন্ত্রীর বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সামশেরগঞ্জের বিধায়ক নুর আলম রবীন্দ্র নজরুল জন্ম শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠান ও বিনামূল্যে বিশ্বমানের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পরিষেবা মৎস্য কর্মাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও মারধরের অভিযোগ বারুইপুর থানায় ম্যানগ্রোভ রক্ষায় পর্যটনের ভূমিকা, কান্দি মহকুমা হাসপাতালে চালু ‘মা আহার’, ৫ টাকায় মিলছে মাছ-ভাত অবশেষে গ্রেফতার  উপপ্রধান নির্মল ঘোষ  শ্রাবণের দ্বিতীয় সোমবারে তারকেশ্বরমুখী পুণ্যার্থীদের ঢল, কড়া নিরাপত্তা বার নজির, জগদগুরু কৃপা সেবা মিশনের প্রথম রক্তদান শিবিরে ব্যাপক সাড়া ভয়েস পাবলিক স্কুলে আন্তঃক্যাম্পাস ইলোকিউশন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত সবজি বিক্রেতা থেকে কমনওয়েলথে পদক! ডার্বির রঙ সবুজ মেরুন, সাহালের গোলে ফ্যাকাশে লাল হলুদ ঈশান-ঝড়ে উড়ে গেল জিম্বাবুয়ে, বোলিংয়ে নজর কাড়লেন অভিষেক অপরাজেয় সুফিয়া: বীর জওয়ানদের উৎসর্গ করে ৫ হাজার কিমি পথ জয়ের লক্ষ্যে ১০টি খেলাতেও ১০০টা স্বপ্ন: লভলিনা-নীরজদের হাত ধরে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে ভারত নিজ ভূমে পরবাসী! দিল্লিতে ভারতের বিরুদ্ধেই ‘হোম’ সিরিজ খেলবে আফগানিস্তান গ্লাসগোর গ্যালারিতে ভারতের নতুন অধ্যায়: কমনওয়েলথ গেমসের রোমাঞ্চকর সূচনা ২০২৬ বিশ্বকাপের স্বপ্নের একাদশে মেসি-সহ আর কারা এশিয়ান গেমস ক্রিকেট: সরাসরি নকআউটে ভারত- পাকিস্তান, অপেক্ষায় আফগানিস্তান আজ জিতলেই সিরিজ পকেটে; নজরে বৈভব,মায়াঙ্ক, প্রিন্সরা ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, গ্রেফতার ৫ অভিযুক্ত সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  দীঘা জগন্নাথ মন্দিরে উল্টো রথযাত্রা ঘিরে ভক্তদের ঢল, ভক্তিমুখর পরিবেশে পালিত মহোৎসব উল্টোরথের রশিতে প্রথম টান গুপ্তিপাড়ায়, ভক্তসমাগমে মুখর ৩৬ ফুটের ঐতিহ্যের রথযাত্রা ওন্দায় তৃণমূল নেতাকে ‘ডিম থেরাপি’ ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি, জনগণনার কাজে যুক্ত হলে ‘অন্ ডিউটি ‘ হবে কিনা ধন্দে সরকারি কর্মী ও শিক্ষকরা গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন নীতি আয়োগের তালিকায় নদীয়া: সেপ্টেম্বরেই শুরু মূল্যায়ন, সেরা হলে মিলবে ১০ কোটির বিশেষ ফান্ড গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, মোট পাঁচ অভিযুক্ত গ্রেফতার, উদ্ধার ১৫টি চুরি যাওয়া ব্যাটারি সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  কুমলাই নদী থেকে উদ্ধার বিজেপি কর্মীর দেহ, রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য পুলিশের ধাওয়ায় মাঝ নদীতে পাথরবোঝাই ট্রাক্টর ফেলে চম্পট জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রের নথি খতিয়ে দেখতে হুগলি-চুঁচুড়া ও বৈদ্যবাটি পুরসভায় পুলিশি অভিযান হেরিটেজ কলেজের রক্তদান শিবির ও গুণীজন সংবর্ধনা  গোবিন্দপুর রেল দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণ তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী, দিলেন চাকরির আশ্বাস মেজর সত্য গুপ্ত: নেতাজীর বিপ্লবী অভিযাত্রার এক অবিস্মরণীয় সহযোদ্ধা যন্তরমন্তরে ৬ বছরের শিশুর মন্তব্য ঘিরে আলোচনা লাঠির ঘায়ে কি আস্থা ফেরে? নিট বিতর্ক: গণতন্ত্রের কঠিন পরীক্ষা ক্ষমতার অহংকার ইতিহাসের কাছে কখনো জয়ী হয়নি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতে বিক্ষোভ, সহায়ককে মারধরের অভিযোগ সেবকে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা! নন্দী সেতুর নিচে পড়ল গাড়ি, নিহত ২, আহত ৩ নিটে ৬২১ নম্বর, অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্ক ৪৮৭৪: চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নপূরণের পথে রায়নার কৃষক-কন্যা বিপাশা হারারেতে টি-টোয়েন্টি যুদ্ধ, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভারতের প্রথম পরীক্ষা রানাঘাট বিজ্ঞান মঞ্চের উদ্যোগে সফলভাবে পালিত হলো অরণ্য সপ্তাহ কর্মসূচি চন্দননগরে ৭০ হাজার চারা বিতরণের দাবি বন দপ্তরের বাঁকুড়ায় এসএফআই-এর প্রতীকী অনশন, শিক্ষা ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের দাবি বাঘ সংরক্ষণ বিষয়ক কর্মশালা  নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র-যুবদের প্রতীকী অনশন চাকরি বিক্রির অভিযোগে অনুব্রত মণ্ডল-সহ ৬ জনের নামে মামলা ধুলিয়ানে সম্প্রীতির মঞ্চে নানা ধর্মের প্রতিনিধিরা, ঐক্য-সৌহার্দ্যের বার্তা সদ্ভাবনা মঞ্চের সময়ের ক্যানভাসে স্বপ্নের তুলি, নিউ জার্সিতে ফেরান তোরেসের মহাকাব্যিক অমরত্ব ট্রফি জয়ের পাশাপাশি একগুচ্ছ ব্যক্তিগত পুরষ্কার জিতলেন স্পেনের খেলোয়াড়রা গলি থেকে রাজপথ-লামিনে ইয়ামালের উত্থানের গল্প দৈনিক জনকণ্ঠের পাতায় দাম পেল না রোহিতের দুরন্ত শতরান, ইংল্যান্ডের কাছে ম্যাচ ও সিরিজ হারলো ভারত মালদা মুসলিম ইনস্টিটিউটে সভা ও বই প্রকাশ প্রথম বছরেই নিটে সাফল্য, কালিয়াচক ক্রিসেন্ট অ্যাকাডেমির জোড়া কৃতিত্ব কুলপির নাসিফার স্বর্ণপদক জয় মদ্যপ গেটম্যানের গাফিলতিতে রেল দুর্ঘটনা, চার শিশু-সহ নিহত ৫ অবসান হল একটি যুগের, জীবনাবসান স্যর গ্যারি সোবার্সের পাকিস্তান ক্রিকেটে আবার অন্ধকার, ডোপ টেস্টে ধরা পড়লেন মহম্মদ নওয়াজ একগুচ্ছ রেকর্ডের সামনে ফুটবলের বরপুত্র, ফাইনালেই গড়তে পারেন ১১ রেকর্ড! রিশাদের ঘূর্নি আর তানজিদ, তামিমের ব্যাটিংয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল টাইগাররা কাজে এল না বিরাটের দারুন ব্যাটিং, রুটের ব্যাটে হার ভারতের, সিরিজে সমতা ফেরাল ব্রিটিশরা গ্রন্থাগারিক দিবসের প্রাক্কালে ‘রবীন্দ্র দৃষ্টিতে গ্রন্থাগার’ শীর্ষক আলোচনা সভা জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে আজ আবারও মাঠে সাদাকালো শিবির, সামনে এরিয়ান রুক্ষ মাটিতে মিয়াওয়াকি বনাঞ্চল, ছায়া ঘেরা স্কুলেই চলছে পাঠ মেহতাবের কাছে আটকাল মোহনবাগান,পয়েন্ট ভাগাভাগি খিদিরপুরের সাথে খারেজী মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বারুইপুরের সূর্যপুরের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল জয়নগরে জন্ম শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার  সৃজন সাথী শিল্পী চর্চা কেন্দ্রের চিকিৎসক দিবস ও উত্তমকুমার স্মৃতি সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান

সংবিধান সম্পর্কে কিছু সাধারণ কথা

প্রকাশিত: ২৫ নভেম্বর ২০২৫, রাত ৯:৪৪ | আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০২৫, রাত ৯:৪৪

মজিবুর রহমান

আরও পড়ুন:

সংবিধান (কনস্টিটিউশন) হল একটি দেশের শাসনব্যবস্থা পরিচালনার জন্য নিয়ম-কানুন ও বিধি-বিধানের সমষ্টি। সকল ফৌজদারি অথবা দেওয়ানী আইনকে সংবিধানের অনুসারী হতে হয়। কোনো সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংস্থা বা সংগঠনের নিয়মাবলী সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে না। কোনো জাত বা সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুশাসনও দেশের সংবিধানের পরিপন্থী হওয়া সম্ভব নয়। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে সুলিখিত ও সুনির্দিষ্ট সংবিধান গ্রন্থ থাকলেও ব্রিটেন, ইসরাইল ও নিউজিল্যান্ডের মতো কিছু দেশে কোনো একক সম্পূর্ণ সংবিধান নেই। এই দেশগুলোর শাসনব্যবস্থা বিভিন্ন আইন, আদালতের রায় ও প্রচলিত রীতিনীতির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়।

আরও পড়ুন:

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেন্ট রিচার্ড অ্যাটলি ১৯৪৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করেন, ১৯৪৮ সালের ৩০ জুনের মধ্যে ভারতীয় নেতৃবৃন্দের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে। এবং এ বিষয়ে আলোচনা করার জন্য তিন ব্রিটিশ মন্ত্রী লর্ড পেথিক লরেন্স, স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস ও এভি আলেকজান্ডারকে নিয়ে গঠিত ক্যাবিনেট মিশন ১৯৪৬ সালের ২৪ মার্চ ভারতে আসে। ক্যাবিনেট মিশন ভারতের সংবিধান রচনা করার জন্য একটি সংবিধানসভা বা গণপরিষদ (কনস্টিটুয়েন্ট অ্যাসেম্বলি) গঠনের প্রস্তাব করে। সংবিধানসভার মোট সদস্য সংখ্যা ঠিক হয় ৩৮৯। এর মধ্যে প্রাদেশিক আইনসভা থেকে ২৯৬ জন ও দেশীয় বা করদ রাজ্য (প্রিন্সলি স্টেট) থেকে ৯৩ জন। জুলাই-আগস্ট মাসে গণপরিষদ গঠন সম্পন্ন হয়। ১৯৪৭ সালের ১৪-১৫ আগস্ট দেশভাগ ও স্বাধীনতার পর ভারতে গণপরিষদের সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ২৯৯; প্রাদেশিক প্রতিনিধি ২২৯ ও দেশীয় প্রতিনিধি ৭০জন।
১৯৪৬ সালের ৯ ডিসেম্বর গণপরিষদের প্রবীণতম সদস্য সচ্চিদানন্দ সিনহার (১৮৭১-১৯৫০) সভাপতিত্বে গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। ১১ ডিসেম্বর স্থায়ী সভাপতি বা রাষ্ট্রপতি (প্রেসিডেন্ট) নির্বাচিত হন ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ (১৮৮৪-১৯৬৩)। সাংবিধানিক উপদেষ্টা নিযুক্ত হন বি.এন রাউ (১৮৮৭-১৯৫৩)। ১৩ ডিসেম্বর পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু (১৮৮৯-১৯৬৪) ‘উদ্দেশ্যমূলক প্রস্তাব’ (অবজেক্টিভ রেজোল্যুশন) পেশ করেন। ১৯৪৭ সালের ২২ জানুয়ারি প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিতে গৃহীত হয় এবং পরবর্তীতে সংবিধানের প্রস্তাবনা (প্রিয়েম্বল) হিসেবে যুক্ত হয়। প্রস্তাবনা হল বৃহৎ সংবিধানের একটি সংক্ষিপ্তসার।

আরও পড়ুন:


১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা লাভের দিন থেকে সংবিধানসভা ভারতের সংসদ (পার্লামেন্ট) হিসেবেও কাজ করতে শুরু করে। সংসদের কাজ পরিচালনা করার জন্য জি.ভি মবলঙ্কর স্পিকার নির্বাচিত হন।
সংবিধান প্রণয়নের বিভিন্ন কাজ পরিচালনার জন্য গণপরিষদ ২২টি কমিটি গঠন করে। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল খসড়া প্রণয়ন (ড্রাফটিং) কমিটি, যা গঠন করা হয় ১৯৪৭ সালের ২৯ আগস্ট। সাত সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটির সভাপতি হন ভারত সরকারের তৎকালীন আইনমন্ত্রী ড. বি.আর আম্বেদকর (১৮৯১-১৯৫৬)। কমিটির বাকি ছয়জন ছিলেন কে.এম মুন্সি, বি.এল মিটার, ডি.পি খৈতান, এন গোপালস্বামী আয়েঙ্গার, আল্লাদি কৃষ্ণস্বামী আয়ার ও মোহাম্মদ সাদুল্লাহ। খসড়া কমিটি প্রতিবেদন পেশ করে ১৯৪৮ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। খসড়া প্রতিবেদনের প্রতিটি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বহু সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপিত এবং বেশ কিছু গৃহীত হয়। শেষমেশ, ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর গণপরিষদে ৩৯৫টি ধারা (আর্টিকেল), ৮টি তফসিল ও ২২টি অংশ (পার্ট) সংবলিত সংবিধান চূড়ান্ত করা হয় এবং তাতে স্বাক্ষর করেন সভাপতি ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ। গণপরিষদের অন্যান্য সদস্যরা স্বাক্ষর করেন ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি। সংবিধান পুরোপুরি কার্যকর হয় ১৯৫০ এর ২৬ জানুয়ারি থেকে। ১৯৫১ সাল থেকে ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র বা সাধারণতন্ত্র হিসেবে উদযাপন করা হয়। কিন্তু ১৯৩০ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত পরাধীন ভারতে ২৬ জানুয়ারি স্বাধীনতা দিবস হিসেবে উদযাপন করা হত। ২০১৫ সাল থেকে ২৬ নভেম্বর সংবিধান দিবস বা জাতীয় আইন দিবস হিসেবে উদযাপন করা হচ্ছে।
সংবিধানের প্রস্তাবনায় ২৬.১১.১৯৪৯ তারিখটির উল্লেখ রয়েছে- “আমরা ভারতের জনগণ, ভারতকে একটি সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক, সাধারণতন্ত্র হিসেবে গড়ে তুলতে সত্যনিষ্ঠার সঙ্গে শপথ গ্রহণ করছি এবং তার নাগরিকদের জন্য: সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচার, চিন্তা, মতপ্রকাশ, বিশ্বাস, ধর্ম ও উপাসনার স্বাধীনতা, মর্যাদা ও সুযোগ সুবিধার সমতা সৃষ্টি এবং তাদের সকলের মধ্যে সৌভ্রাতৃত্বের ভাব গড়ে তুলে ব্যক্তির মর্যাদা এবং জাতীয় ঐক্য ও সংহতি সুনিশ্চিত করার জন্য গণপরিষদ আজ ১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর এই সংবিধান গ্রহণ ও বিধিবদ্ধ করছি এবং নিজেদের অর্পণ করছি।” প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ‘সমাজতান্ত্রিক’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শব্দ দুটি ১৯৭৬ সালে সংযোজন করা হয়েছে।
ভারতের সংবিধানের মূল কপি লেখা হয় ইংরেজি ও হিন্দি ভাষায়। ইংরেজি কপির ক্যালিগ্রাফার ছিলেন প্রেমবিহারী নারায়ণ রায়জাদা। হিন্দি ক্যালিগ্রাফি করেন বসন্ত কুমার বৈদ্য। প্রস্তাবনা পৃষ্ঠার নকশা তৈরি করেন বিহার রাম মনোহর সিনহা এবং জাতীয় প্রতীক অশোক স্তম্ভ অঙ্কন করেন দীননাথ ভার্গব। সংবিধানের প্রতিটি অংশের প্রারম্ভে একটি করে চিত্রকর্ম রয়েছে। এগুলো সিন্ধু সভ্যতা থেকে শুরু করে স্বাধীনতা সংগ্রাম পর্যন্ত ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যকে চিত্রিত করে। চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে: মহেঞ্জোদারোর স্নানাগার, বৈদিক যুগের গুরুকুল ব্যবস্থা, রামায়ণ ও মহাভারতের দৃশ্য, গৌতম বুদ্ধ, ভগবান মহাবীর, সম্রাট অশোক, গুপ্ত আমলের শিল্প, বিক্রমাদিত্যের রাজসভা, নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজা ভরত, নটরাজের মূর্তি, ভাগীরথের তপস্যা, আকবরের দরবার, ছত্রপতি শিবাজী ও গুরু গোবিন্দ সিং, রানী লক্ষ্মী বাঈ ও টিপু সুলতান, মহাত্মা গান্ধীর ডাণ্ডি অভিযান, নোয়াখালীতে গান্ধীজি, আজাদ হিন্দ ফৌজের সঙ্গে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, হিমালয়ের দৃশ্য, থর মরুভূমির দৃশ্য, ভারত মহাসাগরের দৃশ্য। চিত্রগুলো কল্পনা ও সম্পাদনা করেন নন্দলাল বসু ও তাঁর সহযোগী শিল্পীবৃন্দ।
সংবিধান রাষ্ট্র পরিচালনার প্রধান তিন স্তম্ভ — আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ ও শাসন বিভাগের মধ্যে একটি ভারসাম্যযুক্ত এক্তিয়ার বণ্টন করে দিয়েছে। সাধারণত সেটা সবাই মেনে চলে। সংবিধানে দেশের সকল ধর্ম, বর্ণ, জাত, লিঙ্গ, সম্প্রদায় ও ভাষাভাষী মানুষের প্রতি মোটামুটিভাবে সমান দৃষ্টি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কোনো জনগোষ্ঠীর প্রতি বিমাতৃসুলভ আচরণ করা হয়নি। আমাদের দেশের সুবৃহৎ সংবিধানে রাষ্ট্রীয় জীবনের খুঁটিনাটি প্রায় সব বিষয়েই আলোকপাত করা হয়েছে।
যেখানে বৈচিত্র্য যত বেশি, সেখানে সমস্যা ও জটিলতাও তত বেশি। এব্যাপারে গোটা বিশ্বে আমাদের দেশের কোনো জুড়ি নেই। সংবিধান হল দেশের সর্বোচ্চ আইন। দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিস্থিতির গুণগত পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে গুরুত্বপূর্ণ আইন তথা সংবিধান পরিবর্তন প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। সংবিধানে সেই সংস্থান রাখা রয়েছে। সংবিধানের ৮০ শতাংশ ধারা সাধারণ আইন পাসের পদ্ধতিতে সংশোধন করা যায়। কিন্তু ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয়। ২০২৩ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ১০৬ বার সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। আমাদের দেশে সংবিধান সংশোধনের প্রবণতা ও প্রয়োজনীয়তা তুলনামূলকভাবে বেশি। ১৭৮৯ সালে প্রবর্তনের পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে মাত্র ২৭ বার।

আরও পড়ুন:

সম্প্রতি ভারতের আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ ও শাসন বিভাগের কর্মকাণ্ডে একটা গুরুতর অবক্ষয় পরিলক্ষিত হচ্ছে। মূল্যবোধ, সততা, নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতার মতো ইতিবাচক গুণাবলী অপসৃত হতে দেখা যাচ্ছে। বহুত্ববাদের বদলে একত্ববাদ বা সর্বগ্রাসীবাদের উত্থান ঘটছে। গণতন্ত্রের অঙ্গনে একনায়কতন্ত্র পুষ্ট হচ্ছে। ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতিপক্ষ হিসেবে সাম্প্রদায়িকতা শক্তিশালী হয়ে উঠছে। সংবিধানের ফাঁকফোকর ব্যবহার করেই সংবিধান বিরোধী কাজ করা হচ্ছে। আসলে সরকার আর সাধারণ মানুষের সদিচ্ছা ছাড়া সংবিধানের স্পিরিটকে রক্ষা করা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন:

(লেখক: প্রধানশিক্ষক, কাবিলপুর হাইস্কুল, মুর্শিদাবাদ)।

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder