BREAKING:
পরাজিত মহামেডান, সাদাকালো শিবিরকে হারিয়ে দুরন্ত জয় পিয়ারলেসের সুন্দরবনের জলবায়ু বিপন্নতা নিয়ে কাকদ্বীপে মিডিয়া ওয়ার্কশপ NEET-২০২৬ উত্তীর্ণ কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা ফারাক্কায় সোনাল দিনুশার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচ বাঁচাল শ্রীলঙ্কা,সিরিজ সেরা পাড়িক্কল ব্যান্ডেলে এখন থেকে জমবে ‘কারিম’স’-এর আসর, দিল্লির স্বাদ এবার হাতের নাগালে রাখির বন্ধনে সম্প্রীতির বার্তা, দৃষ্টিহীন ও বিশেষভাবে সক্ষমদের মুখে হাসি সম্পত্তি জালিয়াতি মামলায় পুলিশি অ্যাকশন: গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী, আইনি পদক্ষেপে স্বস্তি বৃদ্ধা মণিকা চক্রবর্তীর চূড়াভান্ডারে পালাবদলের বোর্ড, প্রধান কল্পনা  উপপ্রধান অনিতা! আবির-মিষ্টিতে উচ্ছ্বাস কর্মী-সমর্থকদের দেগঙ্গায় আট দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টে মাদকবিরোধী সচেতনতার বার্তা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর দৌড়,যা মৈই ছাড়া নামেই খ্যাত দ্বিতীয় টেস্টে আজ মুখোমুখি ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা,থাকছে বৃষ্টির ভ্রুকুটি। চড়া দামের খাঁড়া; ভারতের ক্রিকেট টাইটেল স্পনসরশিপ নিয়ে জটিলতায় বিসিসিআই একদিনে পড়লো ১৮ উইকেটে। হেডিংলিতে লজ্জার হার,ইংরেজ পেসারদের কাছে মুখ থুবড়ে পড়লো পাক ব্যাটিং। প্রতিশোধ বনাম শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই: ডুরান্ড ফাইনালে মহারণের অপেক্ষায় যুবভারতী রাজীব গান্ধীর জন্মদিনে ফুটবল প্রতিযোগিতা ও কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা বকেয়া বেতনের জট কাটেনি, পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে অস্থায়ী কর্মীরা কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন পুরপ্রধান, আদালতে জামিন সম্পত্তির লোভে বাবাকে খুন, চন্দননগর আদালতে যাবজ্জীবন ছেলে-বৌমার ভারত-ব্রাজিল মহাদ্বৈরথের প্রস্তুতি তুঙ্গে: যুবভারতী পরিদর্শনে ব্রাজিলের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল টাইব্রেকারে নর্থইস্টকে হারিয়ে ফাইনালে মোহনবাগান! শিরোপার মঞ্চে এবার কলকাতা ডার্বি” হেডিংলিতে পেস-ঝড়ে বিধ্বস্ত পাকিস্তান ১৭১ রানে অল-আউট, প্রথম দিনেই এগিয়ে ইংল্যান্ড চম্পাহাটির বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে জখম অন্তত ৫ শ্রমিক ভোটাধিকার পুনর্বহাল ও নাগরিক পরিষেবা রক্ষার দাবিতে ডায়মন্ড হারবারে মিছিল জয়নগর কুলতলি গ্রামীণ হাসপাতালে বেহাল সরকারি আবাসন মীনা মঞ্চের উদ্যোগে মাদ্রাসায় প্রজেক্ট বিতরণ ডুরান্ড কাপ সেমিফাইনাল সুথারের অতিমানবিক পারফরম্যান্স,গল-এ প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজে এগোলো ভারত দক্ষিণ আফ্রিকাকে হাফ ডজন গোলে উড়িয়ে সেমিফাইনালের আরও কাছে ভারত মাদক, জুয়া-সাট্টা ও নারী নির্যাতন রুখতে বহড়ুতে সচেতনতা সভা জয়নগরে বিজেপি যুব মোর্চার প্রতিবাদ মিছিল প্রবল বৃষ্টিতে জলমগ্ন জয়নগর মজিলপুর, হাঁটু সমান জলে দুর্ভোগ সমাজসেবায় কানাড়া ব্যাঙ্ক, শিক্ষা ও গ্রামোন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নবোদয় সাহিত্য পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন ও স্বাধীনতা দিবস পালন মালদহে চালু আয়ুষ্মান ভারত, স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন দিশার আশাবাদ জুট মিল শ্রমিকদের ব্যাতিক্রমী স্বাধীনতা দিবস উদযাপন নেতাজির অপমানের প্রতিবাদে মালদহে এসএফআইয়ের ‘আজাদি র‍্যালি’ বেলডাঙ্গা হাইস্কুলে SIO-র আয়োজনে বসেআঁকো প্রতিযোগিতা স্বাধীনতা দিবসে অনবদ্য জয় দিয়ে হকি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ভারত আজ কোয়ার্টারের মহারণ! অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস,ডারউইনে ৯ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি ও একজন দিব্যাঙ্গ মানুষের যন্ত্রনা ‘হর ঘর তিরঙ্গা’য় সাইকেল নিয়ে ধূপগুড়ির রাজপথ পরিক্রমা করলেন মহকুমা শাসক শ্রদ্ধা সুব্বা ব্যান্ডেলে এবার খাদ্যরসিকদের জন্য দিল্লির কারিম’স নেতাজিকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে, অনন্ত মহারাজকে ভর্ৎসনা  কার্তিক মহারাজের বনকর্মীদের তৎপরতায় বাঁচল বাজপাখির প্রাণ  অবশেষে সেলিমার দিল্লি যাত্রা, বিধায়কের সহায়তায় মালদহের রেশম চাষের ইতিহাস ও বর্তমান সরকারের উদ্যোগ ওয়েটল্যান্ডে চলল বুলডোজার, ভাঙড়ে বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন বনগাঁ সীমান্তে গ্রেফতার এক পাকিস্তানি ভোট শেষ, তবু খুলল না স্কুল! চার মাস ধরে থমকে পড়াশোনা প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করার দাবি, এসডিওকে স্মারকলিপি গরু শনাক্তে হাটে উত্তেজনা: চোর না ভিকটিম, কেন মামলা না করার সিদ্ধান্ত মালিকের  ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে শিক্ষকের ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের’ অভিযোগে উত্তাল স্কুল চার দিন পানীয় জল নেই ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে, চত্বরজুড়ে আবর্জনার স্তূপ ফালাকাটায় উদ্ধার মা গণ্ডারের মৃতদেহ, তীব্র চাঞ্চল্য   অপেক্ষার অবসান, দীর্ঘদিন পর টেস্ট দলে ফিরলেন সরফরাজ খান ক্রিকেটে আবারও রাজনীতির কালোছায়া লাভলিনা-মীরাবাই-নরেন্দ্র’র গল্প শুনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী সাহালের হ্যাটট্রিকে সিআইএসএফকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে পরের রাউন্ডে মোহনবাগান বড় ধাক্কা ভারতীয় শিবিরে, ছিটকে গেলেন সাই সুদর্শন খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ওয়ার্কলোড সামলাতে বিশেষ পদক্ষেপ থম্পসনের তোপে থরহরি কম্পন বাংলাদেশ শিবিরে, ৫৪ রানে শেষ টাইগাররা ক্যালকাটা পুলিশকে ২-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষে মহামেডান গুজরাট, মুম্বইয়ের পর কি এবার কলকাতা? হার্দিকের সম্ভাব্য নতুন ঠিকানা নিয়ে জোর চর্চা জয়ের লক্ষ্যে ক্যালকাটা পুলিশের মুখোমুখি মহামেডান স্পোর্টিং সিএফএলে আবার অঘটন, এবার ভবানীপুরের কাছে হার বাগানের টানা দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়ার সেরা ক্রিকেটার ট্রাভিস হেড বাইশ গজে আবার মহারণ, এশিয়া কাপে ৫ সেপ্টেম্বর ভারত-পাক মুখোমুখি বৃষ্টিতে ভেসে গেল আয়ারল্যান্ডের বিশ্বকাপের স্বপ্ন, খেলতে হবে বাছাইপর্ব ইস্তাম্বুলে বীরের বেশে সালাহ, ঐতিহাসিক চুক্তিতে শুরু নতুন অধ্যায় ​ক্ষমা চেয়ে পদে বহাল ইনফান্তিনো ২৫ কোটির প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরপর চেক বাউন্স! মহামেডান থেকে ‘বিতাড়িত’ হুমায়ুন, অথৈ জলে ক্লাব সাজিদের ঘূর্নি আর বাবরের ব্যাটে তিন বছর পর বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয় পাকিস্তানের আংরাভাষা ২ নং পঞ্চায়েতে প্রধান-সহ আট তৃণমূল সদস্যের দলত্যাগ মছলন্দপুর রেলগেট থেকেই ভাঙা রাস্তা নতুন ট্রেন, প্ল্যাটফর্ম সংযুক্তিকরণ ও রেল প্রকল্পের দাবিতে সরব যাত্রী ও নাগরিক সংগঠন টানা বৃষ্টিতে ফুলে-ফেঁপে উঠল ময়ূরাক্ষী,  বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পূর্ণবয়স্ক দাঁতাল হাতির মৃত্যু  চন্দনা বাউরীর মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ আশা কর্মীদের বেহাল দশা, পাকা রাস্তার দাবি ধুলিয়ান পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব কড়িয়ালি বনের সৌন্দর্যায়ন ও মিনি-জু হিসেবে গড়ে তোলার দাবি পাটচাষে আর লাভ নেই! দরপতনে দিশেহারা কৃষকরা মোজাফফর আহমেদের ১৩৮তম জন্মবার্ষিকী পালিত তাইপেই ওপেনে ইতিহাস, ১৮ বছর পর ভারতকে খেতাব এনে দিলেন ১৭ বছরের তন্বী ​সীমানার মাইন থেকে গ্লাসগোর সোনা, সেনানায়ক সোমন রানার অদম্য রূপকথা সিএফএল-এ জয়ের ধারা বজায় রাখতে বিএসএসের বিরুদ্ধে নামছে ইস্টবেঙ্গল ডুরান্ডে বড় অঘটন! নবাগত সমলেশ্বরীর কাছে ৩-২ গোলে হারল মহামেডান ডুরান্ডে গোলের বন্যা, সিআইএসএফকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত করল ইস্টবেঙ্গল ২৪ বছর পর আফ্রিকায় বিশ্বকাপ, ৩ দেশ ১২ শহরের নাম চূড়ান্ত করল আইসিসি বিদায় রক্ষণের শিল্পী, প্রয়াত ইতালির বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রাঙ্কো বারেসি স্বপ্ন সত্যি কলকাতায়; পুজোর আগেই যুবভারতীতে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নামছে ভারত নীল ছেড়ে গেরুয়া, হকি বিশ্বকাপের আগে জার্সি বদল ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক ডার্বি জয়ের আত্মতুষ্টি নয়, জয়ের ছন্দে থাকাই চ্যালেঞ্জ মোহনবাগানের ভারতের ধ্রুপদী যোদ্ধার বিদায়, শান্ত নায়ক অজিঙ্ক রাহানের অবসর ঘরের মাঠে সুরুচি-বধ মহামেডানের, তবুও চিন্তার ভাজ কপালে ডার্বি হারের পর জয়ে ফেরার মিশন বিসিসিআই-এর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে তামিম ইকবাল চেন্নাই ছেড়ে ইংল্যান্ডের হেড কোচ ফ্লেমিং, ফের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট

রাতের নীরবতা: ষাটের পর জীবনের ইসলামী গল্প

প্রকাশিত: ৬ নভেম্বর ২০২৫, দুপুর ২:৩০ | আপডেট: ৬ নভেম্বর ২০২৫, দুপুর ২:৩০

অধ্যাপক মহাম্মদ মসিহুর রহমান

আরও পড়ুন:

“আলহামদুলিল্লাহ! ষাট বছরের পথচলা শেষ করে আমি আজও আছি, একা নই। কারণ, আমার সঙ্গে আছেন আমার রব।”
জীবন, এক আমানতের যাত্রা। যেমন সূর্য ধীরে ধীরে পশ্চিমে হেলে যায় এবং আকাশে সন্ধ্যার নরম আলো মিশে যায়, তেমনই মানুষের জীবনও একসময় ধীরে ধীরে পূর্ণতা ও শান্তির দিকে এগোয়। যৌবনের উচ্ছ্বাস, কাজের ব্যস্ততা, প্রতিযোগিতার ঝাঁকুনি, সবকিছু পিছনে পড়ে যায়। তখন অনুভূতি আরও সূক্ষ্ম, মন আরও প্রখর হয়ে ওঠে, এবং মানুষ উপলব্ধি করে, জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর দেওয়া এক অমূল্য নেয়ামত।
আল্লাহ তায়ালা বলেন: “তিনিই তোমাদের জীবন দিয়েছেন, তিনিই তোমাদের মৃত্যু দেবেন, এবং তিনিই তোমাদের আবার জীবিত করবেন।”
ষাট বছরের পর জীবন যেন নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করে, এখানে অহংকারের জায়গা নষ্ট হয়ে যায়, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ধীরে ধীরে প্রশান্তিতে রূপান্তরিত হয়। জীবনের প্রতিটি নিশ্বাসে জেগে ওঠে এক নীরব দোয়া: (হে আমার প্রভু, আমাকে সক্ষম করো, যেন আমি তোমার দেওয়া নেয়ামতের প্রতি সত্যিকারের কৃতজ্ঞ হতে পারি)।
প্রথম দৃশ্য: একাকীত্বের মৃদু ছায়া – ষাট বছরের পথে হেঁটেও মানুষ শিখে যে একাকীত্ব মানেই একা থাকা নয়। বরং এটি আত্মা ও হৃদয়ের গভীরতম প্রশান্তির সময়। একসময় যারা আমাদের পাশে ছিলেন বাবা-মা, দাদা-দাদি, প্রিয় বন্ধু — তারা এখন স্মৃতির আকাশে বাস করে। হঠাৎ কোন পুরনো ছবি দেখা চোখে ভেসে ওঠে তাদের মুখ।
নতুন প্রজন্ম, আমাদের সন্তানরা, তাদের জীবনের নতুন গল্প গড়ে তোলে। তাদের সাফল্য দেখে আনন্দ হয়, কিন্তু মাঝে মাঝে বুকের ভিতরে এক নরম শূন্যতা জমে যায়। এই সময় বোঝা যায় — এই পথের চলায় আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রেখে একা হলেও শান্ত থাকতে হয়।
এখানে একাকীত্ব এক ধরনের শান্তির অধ্যায়। এটি আমাদের শেখায় ধীরে ধীরে সবকিছুকে স্বীকার করতে, ছেড়ে দিতে এবং নিঃশব্দ আনন্দে বাঁচতে। যেমন সূর্যাস্তের আগে আকাশে নরম আলো অন্ধকারের সঙ্গে মিশে যায়, তেমনি আমরা জীবনের নরম সন্ধ্যায় দাঁড়াই — ভয় নয়, শান্তি ও কৃতজ্ঞতা নিয়ে।
দ্বিতীয় দৃশ্য: আলো কমে আসে — সময়ের নীরব শিক্ষা একসময় তুমি জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলে। মানুষের প্রশংসা, কোলাহল, ব্যস্ততা সবকিছু যেন এক ঝলমলে জীবনমঞ্চ। তবে সময়ের সাথে সাথে সেই আলো অন্যদিকে চলে যায়। নতুন প্রজন্ম আসে। তাদের নতুন স্বপ্ন, নতুন চেষ্টা, নতুন সাফল্য। প্রথমে হয়ত এক শীতল শূন্যতা আসে। তবে এই সময় শেখায়, পেছনে সরে দাঁড়ানো, ধৈর্য ধরে নতুন প্রজন্মের সাফল্যকে আশীর্বাদ করা।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, জীবনের প্রকৃত সৌন্দর্য আলোর মধ্যেই নয়। বরং আসে সেই নীরবতায়, যেখানে বিনয়, ধৈর্য এবং আত্মসমর্পণ একত্রে ভেসে ওঠে। এখন আর প্রমাণ করার কিছু নেই; তুমি পারো শান্তভাবে বাঁচতে, নিজের ছায়ার সঙ্গে কথা বলতে এবং ধীর সুখের মধ্যে সময় কাটাতে।
তৃতীয় দৃশ্য: জীবনের চক্র — বিছানায় ফিরে যাওয়া বয়স বাড়ার সঙ্গে আমরা আবার সেই অবস্থায় পৌঁছাই — যেখানে শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে বিছানায় সময় কাটানো স্বাভাবিক। শৈশবে আমরা সেই বিছানাতেই ছিলাম, মা আমাদের পাশে ছিলেন, যত্ন ও স্নেহভরে।
আজ দীর্ঘ সংগ্রামের পর, আমরা আবার সেই একই জায়গায় ফিরে আসি। এবার মা নেই; শুধু নীরবতা এবং সহমর্মিতা। শরীর ক্লান্ত, মন কখনও হঠাৎ ভারাক্রান্ত হয়। সাহায্যের জন্য অন্যদের ওপর নির্ভর করতে হয়। এই পর্যায়ে নম্রতা, কৃতজ্ঞতা এবং ধৈর্য শেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জীবনকে আল্লাহর এক নেয়ামত হিসেবে গ্রহণ করাই শান্তির মূল।
চতুর্থ দৃশ্য: সতর্কতার শিক্ষা — প্রলোভন ও প্রতারণা থেকে সুরক্ষা বৃদ্ধ বয়স মানেই অভিজ্ঞতা, কিন্তু প্রলোভনের ফাঁদও কম নয়। জীবনের সঞ্চয়, অর্জন ও স্বাধীনতা সহজে হাতছাড়া করা যায় না। ঠগেরা প্রবীণদের দুর্বলতা কাজে লাগায় — ফোন কল, বার্তা, অফার বা অলৌকিক চিকিৎসার মাধ্যমে।
এখন শেখা জরুরি নিজের সম্পদ রক্ষা করা, বুদ্ধিমানের মতো খরচ করা এবং প্রলোভন এড়ানো। অর্থ শুধু টাকা নয়; এটি স্বাধীনতা, মর্যাদা এবং নিরাপত্তার প্রতীক।
পরামর্শ: অচেনা ফোন কল বা বার্তায় সহজ বিশ্বাস করবেন না। অফার বা ওষুধ ব্যবহারে সতর্ক থাকুন। আর্থিক পরিকল্পনা পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন।
পঞ্চম দৃশ্য: শেষ জীবনের সঙ্গী নরমতা, ভালবাসা ও শান্তি।
ষাটের পর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল জীবনসঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্কের যত্ন। স্নেহ, বোঝাপড়া এবং সহমর্মিতা জীবনের শেষ “সঞ্চিত ভালবাসা” রক্ষা করে। সন্তানদের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরতা আর নিরাপদ নয়। তাদের নিজস্ব জীবন ও দায়িত্ব থাকে। তাই জীবনের শেষ পর্যায়ে একে অপরের প্রতি সহানুভূতি, সমর্থন ও কৃতজ্ঞতা সবচেয়ে বড় আশ্রয়।
রাত ধীরে নামার আগে, জীবন ক্রমশ ফিকে হয়ে আসে। বাধা, অসুবিধা ও শারীরিক সীমাবদ্ধতা বাড়ে। এই সময় শেখা জরুরি — জীবনকে বাস্তবতার চোখে দেখা এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রেখে শান্ত থাকা।
মূল দিক:
জীবনসঙ্গীর প্রতি নরম ও স্নেহপূর্ণ আচরণ। সন্তান বা সমাজের জীবনে অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ না করা। অন্যদের ছোট না দেখা বা কর্তৃত্ব প্রয়োগ না করা। এই আচরণগুলো কেবল অন্যকে নয়, নিজের মনের শান্তিকেও রক্ষা করে। রাতের নিস্তব্ধতা আসে ধীরে ধীরে। আলো নিভে যায়। কিন্তু সেই নিঃশব্দতা, শান্তি, এবং একে অপরের পাশে থাকা — এই শেষ অধ্যায়কে করে তোলে পরিপূর্ণ ও অর্থবহ।
ধীর প্রার্থনা ও কৃতজ্ঞতার নিঃশ্বাস: ষাটের পর জীবন শুধু সংখ্যা নয়; এটি ঈমানের পরিপক্কতা, কৃতজ্ঞতা, ধৈর্য এবং শান্তির অধ্যায়। প্রতিটি নিশ্বাসের সঙ্গে আসে নীরব প্রার্থনা, প্রতিটি মুহূর্তে লুকিয়ে থাকে আল্লাহর নেয়ামতের স্মরণ। “হে আমার প্রতিপালক! আমাকে সক্ষম করো যে আমি তোমার দেওয়া নেয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞ হতে পারি।”
এভাবে জীবন শেষ হয় না; বরং এক ধীর, শান্ত, ঈমানভরা যাত্রায় রূপান্তরিত হয়, যেখানে প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর নিকটবর্তিতা, শান্তি এবং পরিপূর্ণতার প্রতিফলন।
(লেখক: বিভাগীয় প্রধান, আরবি, আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা)

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder