BREAKING:
ঘরের মাঠে সুরুচি-বধ মহামেডানের, তবুও চিন্তার ভাজ কপালে ডার্বি হারের পর জয়ে ফেরার মিশন বিসিসিআই-এর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে তামিম ইকবাল চেন্নাই ছেড়ে ইংল্যান্ডের হেড কোচ ফ্লেমিং, ফের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট নীরজের সঙ্গে ফাইনালে রোহিত-যশবীরও, জ্যাভলিনে ভারতের ট্রিপল ধামাকা সিলসের পেসে ছারখার পাকিস্তান, ১২০ রানে শেষ বাবরদের ইনিংস ১ আগস্ট ইস্টবেঙ্গলের ১০৭-তম প্রতিষ্ঠা দিবস চরম নির্যাতন ও দারিদ্র্যকে হারিয়ে সোনা, অদম্য ইচ্ছাশক্তির নতুন নাম শর্মিলা ধনকর মোহনবাগান-ইউনাইটেড নাটকীয় ম্যাচে ২ লাল কার্ড! সুহেলের গোলে জয় মোহনবাগানের ডুরান্ডে উড়ন্ত সূচনা মহামেডানের গ্লাসগোর রিং ও বারবেলে ভারতের জয়গাথা ফুটবলের রাজা এবার পর্দায়, নতুন ড্রামা সিরিজে সিআরসেভেন-আঁরি জুটি দিল্লিতে আফগানদের ‘হোম’ সিরিজ অনিশ্চিত, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের হাতে মাছ ধরার ছিপে জড়িয়ে ব্যাধপাড়ার জীবন-জীবিকা বর্ষায় বেহাল ক্যানিং জামতলা রাজ্য সড়ক ডেঙ্গু রুখতে রানাঘাট পৌরসভার অভিনব উদ্যোগ, বিদ্যালয়ে কর্মশালা ও কুইজ প্রতিযোগিতা তৃনমূল নেতার পুকুর থেকে উদ্ধার একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র জাল পরিচয়পত্র-সহ সাগরদিঘীতে ধৃত বাংলাদেশি যুবক ফেনসিডিল পাচারের আগেই সীমান্তে আটক চক্র আবগারি কর্মী সেজে চায়ের দোকানে হানা অনাস্থায় অপসারিত জঙ্গিপুরের পুরপ্রধান ঘরে বসে টাকা নিচ্ছেন তৃণমূল নেতা, মালদহে ‘প্রতিজ্ঞা অভিযান’-এর সূচনা, উচ্চশিক্ষা-পেশা নির্বাচনে পড়ুয়াদের পাশে জেলা প্রশাসন বিপ্লবী কানাইলাল ভট্টাচার্যের ৯৬তম আত্মাহুতি দিবস পালন জয়নগরে  চুঁচুড়ায় পঞ্চায়েত মন্ত্রী, ভিবি-জি রামজী প্রকল্প ও বন্যা মোকাবিলায় বৈঠক ডুরান্ডে নতুন চ্যালেঞ্জ! সোমবার যুবভারতীতে এফসি বেনারস ভাগপতের বিরুদ্ধে নামছে মহামেডান বিশ্বকাপ আউট, ক্লাব ইন: বেজে গেল ক্লাব ফুটবলের দামামা, আগস্টে লড়াই শুরু কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের জয়যাত্রা: মীরাবাই ও ঋষিকান্তের রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স বৈভবের ব্যাটে আগুন! জিম্বাবুয়েকে ৩-০-তে হোয়াইটওয়াশ করে সিরিজ ভারতের ‘জাগ্রত প্রহরী’ প্রকাশে নতুন অধ্যায়, ২২তম সাহিত্য সেতুতে সম্মানিত গুণীজন লোহরপুরের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা নুরুল ইসলাম কাশেমী আর নেই হাবড়ায় ২ চানাচুর কারখানায় খাদ্য সুরক্ষা দফতরের হানা, বাজেয়াপ্ত বিপুল সামগ্রী রায়চকে বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস উদযাপন ও কুলতলীতে আন্তর্জাতিক বাদাবন দিবস পালন শঙ্করপুর ট্রলার দুর্ঘটনায় নিহত মৎস্যজীবীদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা সহায়তা মুখ্যমন্ত্রীর বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সামশেরগঞ্জের বিধায়ক নুর আলম রবীন্দ্র নজরুল জন্ম শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠান ও বিনামূল্যে বিশ্বমানের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পরিষেবা মৎস্য কর্মাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও মারধরের অভিযোগ বারুইপুর থানায় ম্যানগ্রোভ রক্ষায় পর্যটনের ভূমিকা, কান্দি মহকুমা হাসপাতালে চালু ‘মা আহার’, ৫ টাকায় মিলছে মাছ-ভাত অবশেষে গ্রেফতার  উপপ্রধান নির্মল ঘোষ  শ্রাবণের দ্বিতীয় সোমবারে তারকেশ্বরমুখী পুণ্যার্থীদের ঢল, কড়া নিরাপত্তা বার নজির, জগদগুরু কৃপা সেবা মিশনের প্রথম রক্তদান শিবিরে ব্যাপক সাড়া ভয়েস পাবলিক স্কুলে আন্তঃক্যাম্পাস ইলোকিউশন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত সবজি বিক্রেতা থেকে কমনওয়েলথে পদক! ডার্বির রঙ সবুজ মেরুন, সাহালের গোলে ফ্যাকাশে লাল হলুদ ঈশান-ঝড়ে উড়ে গেল জিম্বাবুয়ে, বোলিংয়ে নজর কাড়লেন অভিষেক অপরাজেয় সুফিয়া: বীর জওয়ানদের উৎসর্গ করে ৫ হাজার কিমি পথ জয়ের লক্ষ্যে ১০টি খেলাতেও ১০০টা স্বপ্ন: লভলিনা-নীরজদের হাত ধরে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে ভারত নিজ ভূমে পরবাসী! দিল্লিতে ভারতের বিরুদ্ধেই ‘হোম’ সিরিজ খেলবে আফগানিস্তান গ্লাসগোর গ্যালারিতে ভারতের নতুন অধ্যায়: কমনওয়েলথ গেমসের রোমাঞ্চকর সূচনা ২০২৬ বিশ্বকাপের স্বপ্নের একাদশে মেসি-সহ আর কারা এশিয়ান গেমস ক্রিকেট: সরাসরি নকআউটে ভারত- পাকিস্তান, অপেক্ষায় আফগানিস্তান আজ জিতলেই সিরিজ পকেটে; নজরে বৈভব,মায়াঙ্ক, প্রিন্সরা ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, গ্রেফতার ৫ অভিযুক্ত সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  দীঘা জগন্নাথ মন্দিরে উল্টো রথযাত্রা ঘিরে ভক্তদের ঢল, ভক্তিমুখর পরিবেশে পালিত মহোৎসব উল্টোরথের রশিতে প্রথম টান গুপ্তিপাড়ায়, ভক্তসমাগমে মুখর ৩৬ ফুটের ঐতিহ্যের রথযাত্রা ওন্দায় তৃণমূল নেতাকে ‘ডিম থেরাপি’ ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি, জনগণনার কাজে যুক্ত হলে ‘অন্ ডিউটি ‘ হবে কিনা ধন্দে সরকারি কর্মী ও শিক্ষকরা গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন নীতি আয়োগের তালিকায় নদীয়া: সেপ্টেম্বরেই শুরু মূল্যায়ন, সেরা হলে মিলবে ১০ কোটির বিশেষ ফান্ড গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, মোট পাঁচ অভিযুক্ত গ্রেফতার, উদ্ধার ১৫টি চুরি যাওয়া ব্যাটারি সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  পুলিশের ধাওয়ায় মাঝ নদীতে পাথরবোঝাই ট্রাক্টর ফেলে চম্পট জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রের নথি খতিয়ে দেখতে হুগলি-চুঁচুড়া ও বৈদ্যবাটি পুরসভায় পুলিশি অভিযান হেরিটেজ কলেজের রক্তদান শিবির ও গুণীজন সংবর্ধনা  গোবিন্দপুর রেল দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণ তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী, দিলেন চাকরির আশ্বাস মেজর সত্য গুপ্ত: নেতাজীর বিপ্লবী অভিযাত্রার এক অবিস্মরণীয় সহযোদ্ধা যন্তরমন্তরে ৬ বছরের শিশুর মন্তব্য ঘিরে আলোচনা লাঠির ঘায়ে কি আস্থা ফেরে? নিট বিতর্ক: গণতন্ত্রের কঠিন পরীক্ষা ক্ষমতার অহংকার ইতিহাসের কাছে কখনো জয়ী হয়নি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতে বিক্ষোভ, সহায়ককে মারধরের অভিযোগ সেবকে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা! নন্দী সেতুর নিচে পড়ল গাড়ি, নিহত ২, আহত ৩ নিটে ৬২১ নম্বর, অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্ক ৪৮৭৪: চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নপূরণের পথে রায়নার কৃষক-কন্যা বিপাশা হারারেতে টি-টোয়েন্টি যুদ্ধ, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভারতের প্রথম পরীক্ষা রানাঘাট বিজ্ঞান মঞ্চের উদ্যোগে সফলভাবে পালিত হলো অরণ্য সপ্তাহ কর্মসূচি চন্দননগরে ৭০ হাজার চারা বিতরণের দাবি বন দপ্তরের বাঁকুড়ায় এসএফআই-এর প্রতীকী অনশন, শিক্ষা ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের দাবি বাঘ সংরক্ষণ বিষয়ক কর্মশালা  নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র-যুবদের প্রতীকী অনশন চাকরি বিক্রির অভিযোগে অনুব্রত মণ্ডল-সহ ৬ জনের নামে মামলা ধুলিয়ানে সম্প্রীতির মঞ্চে নানা ধর্মের প্রতিনিধিরা, ঐক্য-সৌহার্দ্যের বার্তা সদ্ভাবনা মঞ্চের সময়ের ক্যানভাসে স্বপ্নের তুলি, নিউ জার্সিতে ফেরান তোরেসের মহাকাব্যিক অমরত্ব ট্রফি জয়ের পাশাপাশি একগুচ্ছ ব্যক্তিগত পুরষ্কার জিতলেন স্পেনের খেলোয়াড়রা গলি থেকে রাজপথ-লামিনে ইয়ামালের উত্থানের গল্প দৈনিক জনকণ্ঠের পাতায় দাম পেল না রোহিতের দুরন্ত শতরান, ইংল্যান্ডের কাছে ম্যাচ ও সিরিজ হারলো ভারত মালদা মুসলিম ইনস্টিটিউটে সভা ও বই প্রকাশ প্রথম বছরেই নিটে সাফল্য, কালিয়াচক ক্রিসেন্ট অ্যাকাডেমির জোড়া কৃতিত্ব কুলপির নাসিফার স্বর্ণপদক জয় মদ্যপ গেটম্যানের গাফিলতিতে রেল দুর্ঘটনা, চার শিশু-সহ নিহত ৫ অবসান হল একটি যুগের, জীবনাবসান স্যর গ্যারি সোবার্সের পাকিস্তান ক্রিকেটে আবার অন্ধকার, ডোপ টেস্টে ধরা পড়লেন মহম্মদ নওয়াজ একগুচ্ছ রেকর্ডের সামনে ফুটবলের বরপুত্র, ফাইনালেই গড়তে পারেন ১১ রেকর্ড! রিশাদের ঘূর্নি আর তানজিদ, তামিমের ব্যাটিংয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল টাইগাররা কাজে এল না বিরাটের দারুন ব্যাটিং, রুটের ব্যাটে হার ভারতের, সিরিজে সমতা ফেরাল ব্রিটিশরা গ্রন্থাগারিক দিবসের প্রাক্কালে ‘রবীন্দ্র দৃষ্টিতে গ্রন্থাগার’ শীর্ষক আলোচনা সভা জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে আজ আবারও মাঠে সাদাকালো শিবির, সামনে এরিয়ান

প্রসঙ্গ: বাংলা ভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ দিবস

প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬, দুপুর ১২:৪২ | আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬, দুপুর ১২:৪৩

মজিবুর রহমান: সাংবিধানিকভাবে ভারতবর্ষ হল একটি ‘রাজ্যসমূহের সংঘ’ বা ‘ইউনিয়ন অফ স্টেটস’। এই মুহূর্তে ভারতে রাজ্য (স্টেট) ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের (ইউনিয়ন টেরিটোরি) সংখ্যা যথাক্রমে ২৮ এবং ৮। ভারতের সর্বত্র যথোচিত মর্যাদায় ১৫ আগস্ট (১৯৪৭) স্বাধীনতা দিবস, ২৬ নভেম্বর (১৯৪৯) সংবিধান দিবস ও ২৬ জানুয়ারি (১৯৫০) সাধারণতন্ত্র বা প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন করা হয়। কিন্তু রাজ্য ভিত্তিক প্রতিষ্ঠা দিবস অথবা ভারতে অন্তর্ভুক্তি দিবস উদযাপনের বিশেষ রেওয়াজ নেই। হঠাৎ করেই ২০২৩ সালে ২০ জুন রাজ্যপাল সি.ভি আনন্দ বোস রাজভবনে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উদযাপনের আয়োজন করেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী রাজ্যপালের এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেন এবং ওই বছরই ২৩ আগস্ট বিধানসভায় পয়লা বৈশাখ ‘বাংলা দিবস’ হিসেবে পালন করার প্রস্তাব পাস করা হয়। সেই মতো ২০২৪ ও ‘২৫ সালে সীমিত পরিসরে ‘বাংলা দিবস’ পালন করা হয়। ২০২৬-এ শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নবগঠিত রাজ্য সরকার বৃহৎ আকারে ২০ জুন ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালন করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। এই আবহে বাংলা ভাগ ও পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির ঐতিহাসিক ঘটনাক্রম ফিরে দেখা প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন:

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লিমেন্ট রিচার্ড অ্যাটলি ১৯৪৬ সালের ১৫ই মার্চ হাউস অব কমন্সে ভারতের স্বাধীনতাকে সমর্থন করে এক বিবৃতি দেন। ওই মাসেই তিনজন ব্রিটিশ মন্ত্রীকে নিয়ে গঠিত ‘ক্যাবিনেট মিশন’ দিল্লি আসে। স্বাধীন ভারতের সম্ভাব্য কাঠামো নিয়ে একাধিক প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। একটি প্রস্তাবে ভারতকে অবিভক্ত রেখে একটি যুক্তরাষ্ট্র বা ফেডারেশন গঠনের কথা বলা হয়। কেন্দ্রের হাতে কেবল প্রতিরক্ষা, বিদেশ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়। প্রদেশগুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়। হিন্দু-প্রধান প্রদেশগুলো নিয়ে ‘ক’ ব্লক; মুসলিম অধ্যুষিত পাঞ্জাব, সিন্ধু, বেলুচিস্তান, উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ নিয়ে ‘খ’ ব্লক এবং বাংলা ও আসামকে নিয়ে ‘গ’ ব্লক গঠন করা হয়। জুন মাসে গৃহীত এই প্রস্তাবে প্রাথমিকভাবে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ-সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই সহমত হয়। কিন্তু জুলাই মাসে মুসলিম লীগ প্রস্তাবটি সমর্থনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে। ১৬ আগস্ট তারা ‘প্রত্যক্ষ সংগ্ৰাম দিবস’ কর্মসূচি পালন করে। একাধিক জায়গায় হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা লাগে। সংঘটিত হয় ‘গ্ৰেট ক্যালকাটা কিলিং’। মুসলিম লীগ সেপ্টেম্বরে গঠিত জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারে যোগদান করতে অসম্মত হয় (পরে অক্টোবরে যোগ দেয়)। মুসলিম লীগের সদস্যরা সংবিধান রচনার উদ্দেশ্যে গঠিত গণপরিষদের অধিবেশনেও অংশগ্রহণ করেননি। আসলে তখন তাদের ভাবনায় ১৯৪০ সালে লাহোরে গৃহীত ‘পাকিস্তান প্রস্তাব’ পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠে। এসবের জন্য মুসলিম লীগের সঙ্গে জাতীয় কংগ্রেসের সম্পর্ক ক্রমশ খারাপ হতে থাকে। দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ভাগ অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায়। ১৯৪৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি অ্যাটলি সাহেব দায়িত্বশীল ভারতবাসীর হাতে ১৯৪৮ সালের জুন মাসের মধ্যেই ক্ষমতা অর্পণ করার কথা ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন:

১৯৪৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় হিন্দু মহাসভার সভাপতি শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বাংলার গভর্নর স্যার ফ্রেডরিক জন ব্যারোজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলার হিন্দু-প্রধান অঞ্চল নিয়ে একটি পৃথক প্রদেশ গঠন করে তাকে ভারতীয় ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। ১৯ মার্চ এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ”ভারত যদি অবিভক্তও থাকে তাহলে সেই অবস্থাতেও বাংলাকে ভাগ করতে হবে।” ৫–৬ এপ্রিল তারকেশ্বরে অনুষ্ঠিত বঙ্গীয় প্রাদেশিক হিন্দু মহাসভার সম্মেলনে বঙ্গদেশে হিন্দুদের জন্য একটি পৃথক প্রদেশ গঠনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কর্মপন্থা ও পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির উপর দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। ১৩ মে তিনি সোদপুর আশ্রমে গান্ধীজির সঙ্গে দেখা করে সার্বভৌম বাংলা গঠনের ব্যাপারে তাঁর তীব্র আপত্তির কথা জানিয়ে আসেন। পরিস্থিতি বিচার করে কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব বাংলা ভাগ করে হিন্দু-প্রধান অঞ্চলসমূহ ভারতে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। মুসলিম লীগের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব অবশ্য অবিভক্ত বাংলাকে পাকিস্তানে পেতে আগ্ৰহী ছিল। তবে শরৎচন্দ্র বসু ও কিরণ শঙ্কর রায়ের নেতৃত্বে বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেসের একটি ক্ষুদ্র অংশ এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের নেতৃত্বে বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একটি বৃহৎ অংশ অবিভক্ত স্বাধীন বঙ্গদেশ গঠনের চেষ্টা চালিয়ে যান। মর্নিং নিউজ, দৈনিক আজাদ, আনন্দবাজার পত্রিকা, অমৃতবাজার পত্রিকা প্রভৃতি সংবাদপত্র বাংলা ভাগের পক্ষে অবস্থান গ্ৰহণ করে।

আরও পড়ুন:

১৯৪৭ সালের ২ জুন ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেনের সঙ্গে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনায় অখণ্ড সার্বভৌম বাংলার পরিকল্পনা বাতিল হয়ে যায়। ৩ জুন ব্রিটিশ সরকার ভারত এবং সেই সঙ্গে বাংলা ও পাঞ্জাব ভাগের পরিকল্পনা ঘোষণা করে। ৪ জুন ঘোষণা করা হয়, ১৯৪৭ সালের ১৪-১৫ আগস্ট ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে। পুরো পরিকল্পনাটি ‘মাউন্টব্যাটেন রোয়েদাদ’ নামে পরিচিত হয়। তবে এই পরিকল্পনায় বাংলাকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে না হলেও অবিভক্ত প্রদেশ হিসেবে থেকে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। প্রস্তাবে বলা হয়, বাংলার প্রাদেশিক আইনসভার সদস্যরা হিন্দু ও মুসলিম অধ্যুষিত এলাকার ভিত্তিতে দুই ভাগে বিভক্ত হবেন। প্রথমে অবিভক্ত বিধানসভার অধিবেশন বসে বাংলা অখণ্ড থাকবে কিনা এবং অখণ্ড থাকলে ভারতে, নাকি পাকিস্তানে যোগদান করবে, তা স্থির করতে বলা হয়। পরে বিভাজিত এলাকার সদস্যরা পৃথকভাবে বসে ঠিক করবেন, তাঁরা বাংলা ভাগকে সমর্থন করছেন কিনা এবং করলে কোন্ দেশের অংশ হবেন। কোনো একটি অংশ ভাগের অনুকূলে মত প্রকাশ করলে বাংলাকে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত দু-ভাগে ভাগ করা হবে।

আরও পড়ুন:

১৯৪৭ সালের ২০ জুন বাংলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করার জন্য বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভার বিশেষ অধিবেশন বসে। প্রথমে যৌথ অধিবেশনে বাংলাকে অবিভক্ত রাখার এবং অবিভক্ত বাংলার পাকিস্তানে যোগদানের পক্ষে ১২৬–৯০ ভোটে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরপর হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা তথা পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিরা স্বতন্ত্র অধিবেশনে মিলিত হয়ে ৫৮–২১ ভোটে বাংলা ভাগের এবং ভারতে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল অর্থাৎ পূর্ববঙ্গের প্রতিনিধিরা আরেকটি স্বতন্ত্র অধিবেশনে মিলিত হয়ে ১০৬–৩৫ ভোটে বাংলা ভাগের বিপক্ষে রায় দেন এবং বাংলা ভাগ অনিবার্য হলে পাকিস্তানে যোগদানের সিদ্ধান্ত গ্ৰহণ করেন। বাংলা ভাগের বিপক্ষে দু-বার বেশি ভোট পড়লেও পূর্বোক্ত রোয়েদাদের শর্তানুযায়ী বঙ্গভঙ্গের প্রস্তাব জয়যুক্ত হয়। পূর্ববঙ্গ যায় পাকিস্তানে, আর পশ্চিমবঙ্গ থাকে ভারতে। আয়তনে ও লোকসংখ্যায় পূর্ববঙ্গ বড় ছিল। প্রাদেশিক আইনসভায় পূর্ববঙ্গের প্রতিনিধির সংখ্যাও বেশি ছিল। অবিভক্ত বাংলার আইনসভার মোট সদস্য সংখ্যা ছিল ২৫০। কয়েকটি প্রধান দলের সদস্য সংখ্যা ছিল এরূপ: মুসলিম লীগ ১১৪, কংগ্রেস ৮৬, কমিউনিস্ট পার্টি ৩, কৃষক প্রজা পার্টি ৩, হিন্দু মহাসভা ১ (শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি)। বলাবাহুল্য, কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের সদস্যরা বাংলা ভাগের যথাক্রমে পক্ষে ও বিপক্ষে ভোট দেন। কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যরা বঙ্গভঙ্গের পক্ষে ভোট দেন। দ্বিখণ্ডিত বাংলায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্য সংখ্যা হয় ৯০। প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষের নেতৃত্বে ৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গে ১১ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠিত হয়।

আরও পড়ুন:

রেডক্লিফ কমিশন ভারত-পাকিস্তানের যে সীমানা নির্ধারণ করে তাতে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ জেলা হিসেবে নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, মালদা ও দিনাজপুর ১৪-১৫ আগস্ট, ১৯৪৭ স্বাধীনতার দিন পূর্ববঙ্গ তথা পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ প্রান্ত উত্তর প্রান্ত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। জল-সংকটে কলকাতা বন্দর বিপন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এই গুরুতর সমস্যা সমাধানের জন্য তৎপরতা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা বাদ দিয়ে অবশিষ্ট নদীয়া, হিন্দু প্রধান খুলনার বিনিময়ে মুর্শিদাবাদ, মালদার ১৫টি থানার মধ্যে ১০টি থানা এবং অবিভক্ত দিনাজপুরের বালুরঘাট, হিলি, গঙ্গারামপুর ও রায়গঞ্জ পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯ আগস্ট এই অন্তর্ভুক্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

আরও পড়ুন:

যে দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মুসলিম লীগ ভারত ভাগের দাবি তুলেছিল, সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই কংগ্রেস ও হিন্দু মহাসভা বাংলা ভাগ চেয়েছিল। ১৯০৫ সালে যে বঙ্গভঙ্গ হয়, তা রদ করার জন্য বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস ও হিন্দু সমাজ সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। কিন্তু মুসলিম লীগ ও মুসলিম সমাজ বঙ্গভঙ্গকে সমর্থন করে। ১৯৪৭ সালের বাংলা ভাগ আটকাতে বঙ্গীয় মুসলিম লীগ ও মুসলিম সমাজের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস ও হিন্দু সমাজ বাংলা ভাগের পক্ষে প্রাণপণ চেষ্টা চালায়। সাম্প্রদায়িক বিভেদের কারণেই এসব হয়েছে। অবিভক্ত বাংলার জনসংখ্যার ৫৫ শতাংশ ছিল মুসলমান। তারাই বঙ্গ রাজনীতিতে শাসকের ভূমিকায় ছিল। তারা সেই ধারা অব্যাহত রাখতে চেয়েছিল। কংগ্রেস ও হিন্দু মহাসভা চেয়েছিল, বাংলার একটা অংশে যাতে হিন্দুরা শাসকের ভূমিকায় থাকতে পারে, তা সুনিশ্চিত করতে। এছাড়াও তাদের আশঙ্কা ছিল, বাংলা স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পেলে পরে পাকিস্তানের সঙ্গে মিশে যাবে।

আরও পড়ুন:

১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সময় স্মরণ করা হয় ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকল ভারতবাসীর লড়াই ও আত্মত্যাগের ইতিহাসকে। ভারত ভাগের জন্য যে লক্ষ লক্ষ মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছিল, তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়। এর সঙ্গে মিশে থাকে বৈদেশিক শাসন থেকে স্বদেশী শাসনে ভারতের ফিরে আসার আনন্দ ও গৌরব। জাত-ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সকল ভারতবাসীকে আহ্বান জানান হয়, ভারতের সমস্ত ভাল-মন্দের শরিক হতে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে ২০ জুনকে ওই আলোকেই দেখতে হবে।

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder