সবজি বিক্রেতা থেকে কমনওয়েলথে পদক!

দৈনিক জনকন্ঠ, মুহাম্মদ শাহবাজ:
অদম্য ইচ্ছা আর আত্মবিশ্বাসের সামনে যে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কিংবা চরম দারিদ্র্যও হার মানতে বাধ্য তারই এক অনন্য নজির সৃষ্টি করলেন বিহারের নালন্দা জেলার সন্তান ঝান্ডু কুমার। ২০২৬ গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে পুরুষদের হেভিওয়েট প্যারা পাওয়ারলিফটিং বিভাগে ব্রোঞ্জ পদক জিতে চলতি গেমসে ভারতের পদক তালিকার সূচনা করলেন তিনি।
মাত্র পাঁচ বছর বয়সে পোলিও আক্রান্ত হয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে সঙ্গী করতে হয়েছিল ঝান্ডুকে। কিন্তু জীবনসংগ্রাম সেখানেই থেমে থাকেনি। চরম আর্থিক অনটনের পরিবারে শৈশব থেকেই বাবা-মায়ের পাশে দাঁড়াতে রাস্তার ধারে সবজি বিক্রি করেছেন তিনি। এমনকি কোভিড-১৯ অতিমারির কঠিন সময়ে সংসারের চাকা সচল রাখতে চালিয়েছেন ই-রিকশাও।
তবে প্রতিকূলতার এই অন্ধকার ঠেলে তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় প্যারা পাওয়ারলিফটিং। সবজি বিক্রি আর ই-রিকশার হ্যান্ডেল ছেড়ে তিনি তুলে নেন ভারী বারবেল। জাতীয় স্তরে পুরুষদের ৭২ কেজি বিভাগে রেকর্ড গড়া এই অ্যাথলেট বর্তমানে গুজরাটের গান্ধীনগরে নিজের কঠোর প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছেন।
গ্লাসগোয় বি-গ্রুপ থেকে প্রতিযোগিতা শুরু করা ঝান্ডুর জন্য লড়াইটা সহজ ছিল না। পয়েন্টভিত্তিক নিয়মের কারণে এই গ্রুপে প্রতিযোগিতা করা কিছুটা কঠিন হলেও নিজের দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় সফলভাবে ১৯০ কেজি ওজন তুলে ১৩০.৯ পয়েন্ট অর্জন করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত এই অর্জিত পয়েন্টই তাঁকে এনে দেয় ঐতিহাসিক ব্রোঞ্জ পদক, যা ছিল চলতি কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের প্রথম পদক।
”এই ব্রোঞ্জ পদক আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্তগুলির একটি। পদক জেতার পর প্রথমেই আমার পরিবারের কথা মনে পড়েছে, যাঁরা চরম বিপদেও আমার পাশে ছিলেন।”
ঝান্ডু কুমারের এই অসামান্য অর্জনে উচ্ছ্বসিত গোটা দেশ। ভারতের প্রধানমন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বিশেষ বার্তায় তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়ে লিখেছেন – ”গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের পদক তালিকার সূচনা করার জন্য ঝান্ডু কুমারকে অনেক অনেক অভিনন্দন! পুরুষদের হেভিওয়েট প্যারা পাওয়ারলিফটিং বিভাগে তাঁর এই ব্রোঞ্জ পদক জয়ের গল্পটি কোটি কোটি দেশবাসীর জন্য চরম অনুপ্রেরণার। নানা প্রতিকূলতা, অনটন ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে তিনি যে অদম্য মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তাঁর এই ঐতিহাসিক সাফল্য প্রমাণ করে যে একাগ্রতা থাকলে যেকোনো স্বপ্ন পূরণ সম্ভব। ঝান্ডুর আগামী ভবিষ্যতের জন্য অনেক শুভকামনা।”
সবজি বিক্রি করা এক সাধারণ যুবকের আজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে তেরঙ্গা উঁচিয়ে ধরার এই গল্প ভারতের ক্রীড়া ইতিহাসে এক নতুন আশার আলো দেখালো।






















































































































