মান্থার প্রকোপ ও অকাল বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হাওড়ার কৃষক সমাজ

মতিয়ার রহমান, নতুন পয়গাম, উলুবেড়িয়া:
বুধবার হাওড়া জেলার গ্রামীণ অঞ্চলে মান্থার প্রভাবে অকাল বর্ষণ ও ঝোড়ো হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। টানা বৃষ্টিতে বহু ক্ষেতের ফসল নুয়ে পড়েছে, পাকা ধান ও শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে কৃষকদের মধ্যে চরম দুশ্চিন্তা ও হতাশা নেমে এসেছে।
গত কয়েকদিন ধরেই আকাশ মেঘলা থাকলেও মঙ্গলবার বিকেল থেকে শুরু হয় দফায় দফায় ঝোড়ো হাওয়া ও প্রবল বৃষ্টি। তার জেরেই হাওড়া জেলার উদয়নারায়ণপুর, আমতা-১ ও ২, শ্যামপুর-১ ও ২, উলুবেড়িয়া-১ ও ২ এবং বাগনান-১ ও ২ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে খবর।
স্থানীয় কৃষক সৌরভ রায় জানান, “এই অকাল বৃষ্টিতে ধান, আলু, শাকসবজি সবকিছুই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেকেই সমবায় সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে চাষ করেছেন, এখন তাদের মাথায় হাত।” একই সুর কৃষক বিলাস দলুইয়ের কণ্ঠেও—“এইভাবে আরও কয়েকদিন বৃষ্টি চললে চাষের দফারফা হয়ে যাবে।”
উলুবেড়িয়া-১ ব্লকের সমরুক, আমতলা, সুন্দরপুর, পূর্ব ও উত্তর বাউড়িয়া অঞ্চলে বড় পরিসরে শসা চাষ হয়, যার বীজ উৎপাদন ও বিক্রির উপর বহু কৃষকের জীবিকা নির্ভরশীল। কিন্তু এবছর পর্যাপ্ত দাম না পাওয়া ও এখনকার বৃষ্টির ফলে শসা চাষও ভয়াবহ সংকটে পড়েছে। ফুল ও পানচাষিরাও সমানভাবে উদ্বেগে রয়েছেন।
কৃষক সংগঠনের এক প্রতিনিধি জানান, “রাজ্য সরকার কৃষকদের জন্য শস্যবীমা চালু করেছে। তাই ফসলে ক্ষতি হলে সরকারের তরফ থেকে ক্ষতিপূরণ পাওয়া সম্ভব।”
অন্যদিকে, সমাজকর্মী শ্রাবনী রায় সরকারের কৃষি দপ্তরের আধিকারিকদের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন যাতে তাঁরা দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট নিয়ে কৃষকদের সার্বিক সাহায্যে এগিয়ে আসেন।
হাওড়ার গ্রামীণ জনপদে বর্তমানে কৃষকদের মুখে একটাই প্রশ্ন—এই অকাল বর্ষণের দুঃসময়ে কে দেবে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস?



































































































































