দুই দশক পর আবারও গঙ্গা ভাঙনের কবলে পঞ্চানন্দপুর

আবু রাইহান:
নতুন পয়গাম, মালদা:
দীর্ঘ দুই দশক পর ফের শুরু হয়েছে গঙ্গা ভাঙন কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লকের মোথাবাড়ি থানার অন্তর্গত পঞ্চানন্দপুর এলাকায়। বুধবার রাত থেকে হঠাৎ গঙ্গার জলস্তর বৃদ্ধি পেয়ে সুলতানটোলা এলাকায় শুরু হয়েছে ভাঙন। ইতিমধ্যেই প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে চার বিঘা চাষের জমি নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ২০০৩ সালের পর এত বড়সড় ভাঙন আর দেখা যায়নি এই এলাকায়।
স্থানীয় এক বাসিন্দা শাহজাহান শেখ বলেন, “গতরাত থেকে ভাঙন শুরু হয়েছে। একবার কাটা শুরু হলেই মুহূর্তে এক কাঠা জমি নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে।”
ইমরান আলী জানান, একটা সময় ৮০ দশকে এই পঞ্চনন্দপুর এলাকা ছিল মালদা জেলার একটা পর্যটন কেন্দ্র । ১৯৭৫ সালে তৎকালীন রাজ্যের সেচমন্ত্রী গনি খান চৌধুরী এখানে গঙ্গাভবন নামে বিলাসবহুল অতিথিশালা তৈরি করেছিলেন । রাজনীতিবিদ, নেতামন্ত্রী, শিল্পপতি এবং বিভিন্ন আমলারা বছরের বিভিন্ন সময়ে ছুটি কাটাতে এই অতিথিশালায় আসতেন এবং লঞ্চে চেপে গঙ্গা ভ্রমণ করে দেখতেন । ২০০৩ সালের গঙ্গা ভাঙনের সব তলিয়ে গেছে, গঙ্গার গর্ভে । পুরো পঞ্চনন্দপুর এলাকায় এখন গঙ্গার গর্ভে । শুধু একটাই গ্রাম বেঁচে আছে যেটা সুলতান টোলা । এখানেও গতকাল থেকে গঙ্গা ভাঙ্গন শুরু হয়েছে ।
অন্যদিকে সোহেল শেখ জানান, “গতকালও এলাকা পুরো শুকনো ছিল। রাত দশটা-সাড়ে দশটার দিকে হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকা জলে ঢেকে যায়।”
আতঙ্কে রাত জেগে কাটাচ্ছেন গ্রামবাসীরা। স্থানীয় দুলাহার বিবি বলেন, “ভাঙনের ভয়ে সারারাত ঘুমাতে পারিনি। বাড়ির জিনিসপত্র বাগানে সরিয়ে রেখেছি। যদি এই ভাঙন চলতে থাকে তাহলে ঘরবাড়িও নদীতে ভেসে যাবে। আমরা প্রশাসনের সাহায্য চাই।”
গ্রামবাসীদের দাবি, দ্রুত প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে আরও চাষের জমি ও বসতভিটে গঙ্গার গর্ভে তলিয়ে যেতে পারে।





















































































































