ফটো ছাড়া ফর্ম আপলোডের নির্দেশনা ঘিরে ক্ষোভে সামসেরগঞ্জে বৈঠক বর্জন করলেন ৩১ জন বিএলও

নিজস্ব সংবাদদাতা, নতুন পয়গাম, সামসেরগঞ্জ:
এনুমারেশন ফর্ম অনলাইন অ্যাপে ফটো ছাড়াই আপলোড করার মৌখিক নির্দেশ ঘিরে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন সামসেরগঞ্জের নিমতিতা পঞ্চায়েতের ৩১ জন বিএলও। বাড়ি বাড়ি ফর্ম বিতরণ, সংগ্রহের পাশাপাশি ছবি-সহ অনলাইন আপলোডের অতিরিক্ত কাজের চাপকে অনৈতিক বলে অভিযোগ তুলে শুক্রবার তাঁরা নির্বাচন কমিশনের ডাকা বৈঠক বর্জন করে বাইরে বেরিয়ে আসেন। তাঁদের এই প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকাজুড়ে।
বিএলও –দের অভিযোগ, প্রতিটি ফর্ম অ্যাপে আপলোড করতে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে। বহুবার চেষ্টা করেও ফর্ম আপলোড হচ্ছে না। ফলে নিয়মিত দায়িত্বের সঙ্গে এই সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া সামলানো কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছে। তারও চেয়ে বড় সমস্যা—বৈঠকে আধিকারিকরা মৌখিকভাবে ফটো ছাড়াই ফর্ম আপলোডের অনুমতি দিলেও কোনও লিখিত নির্দেশ দিতে রাজি নন। বিএলও –দের প্রশ্ন, “লিখিত নির্দেশনা ছাড়া যদি পরে কোনো নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে, তার দায় নেবে কে?” তাঁদের মতে, স্পষ্ট আদেশ না থাকলে এই সিদ্ধান্ত তাঁদের ওপর অযৌক্তিক ঝুঁকি চাপিয়ে দিচ্ছে।
প্রশিক্ষণ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএলও –রা। অভিযোগ, প্রশিক্ষণদাতা স্বয়ং একটি ফর্ম পূরণ করতে ১৫ মিনিটের কম সময় নিতে পারছেন না। তাহলে মাঠে নেমে তাঁরা কীভাবে দ্রুত এবং নিখুঁতভাবে কাজ করবেন? গঙ্গাভাঙনে বহু মানুষের বাড়ি অন্যত্র স্থানান্তর হওয়ায় এনুমারেশনের কাজ আরও জটিল হয়ে উঠছে বলেও দাবি করেন তাঁরা।
সব মিলিয়ে বিএলও–দের বক্তব্য, এসআইআর-এর কাজ করতে তাঁদের আপত্তি নেই, কিন্তু অনলাইন অ্যাপের কারিগরি ত্রুটি, অপ্রতুল পরিকাঠামো এবং লিখিত নির্দেশনার অভাবে অতিরিক্ত চাপ তাঁদের পক্ষে বহন করা অসম্ভব। তাই অবিলম্বে পরিষ্কার নির্দেশিকা ও যুক্তিসঙ্গত কর্মপরিবেশের দাবি জানান তাঁরা।
এদিকে, বিএলও –দের এই ক্ষোভ-বিক্ষোভ নিয়ে কোনওরকম প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি বৈঠকে উপস্থিত সামসেরগঞ্জ ব্লকের এ.ই.আর.ও সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। তাঁরা জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হবে।





























































































































