জয়নগরে বিডিওদের কাছে বিএলওদের অব্যাহতির আবেদন

নতুন পয়গাম, উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, জয়নগর: বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত কাজের অস্বাভাবিক চাপ, প্রযুক্তিগত জটিলতা এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়ে জয়নগরে একাধিক বুথের বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির আবেদন জানিয়েছেন। সোমবার জয়নগর ১ নম্বর ব্লকের বহড়ু এবং জয়নগর ২ নম্বর ব্লকের নিমপীঠ বিডিও দফতরে ডেপুটেশন দিয়ে লিখিতভাবে এই আবেদন জমা দেন তাঁরা। বিএলওদের অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা এসআইআর-এর কাজ করতে গিয়ে তাঁদের চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। জয়নগর ১ নম্বর ব্লকের ৪৫ জন এবং জয়নগর ২ নম্বর ব্লকের ২২ জন বিএলও বিডিওদের কাছে কাজ থেকে অব্যাহতির দাবি জানান। এদিন বিএলওরা জানান, মানুষের স্বার্থে কাজ চালিয়ে যেতে তাঁরা আগ্রহী হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে এই দায়িত্ব পালন করা তাঁদের পক্ষে ক্রমশ অসম্ভব হয়ে উঠছে। তাঁদের দাবি, অমানবিক পরিমাণ কাজের চাপ এবং বিপুল তথ্য যাচাইয়ের দায়িত্ব অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে শেষ করা বাস্তবসম্মত নয়। এর ফলে তাঁদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।
তাঁরা আরও জানান, পেশাদার ডেটা এন্ট্রি অপারেটর না হয়েও এনুমারেশন ফর্ম পূরণের সময় দিন-রাত এক করে কাজ করতে হয়েছে। বর্তমানে আবার AERO-দের হিয়ারিং সংক্রান্ত নথি সংগ্রহ ও পিডিএফ তৈরির বাড়তি দায়িত্বও তাঁদের ওপর চাপানো হচ্ছে, যা তাঁদের পক্ষে করা সম্ভব নয়। প্রয়োজনে এই কাজ করতে হলে উপযুক্ত পারিশ্রমিক দেওয়ার দাবিও তোলেন তাঁরা। বিএলওদের অভিযোগ, সিস্টেমগত ত্রুটির কারণে বহু ক্ষেত্রে ভুল তথ্য দেখানো হচ্ছে। যেমন, কোনো ব্যক্তির ছয়টির বেশি সন্তান না থাকলেও সিস্টেমে ‘৬-এর বেশি প্রজেনি’ দেখিয়ে হিয়ারিং নোটিশ আসছে। এই ভুলের দায় সাধারণ মানুষ তাঁদের ওপর চাপাচ্ছেন, ফলে তাঁরা অপমান ও হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। সঠিক তথ্যের অভাবে জনগণের প্রশ্নের জবাব দিতেও তাঁরা ব্যর্থ হচ্ছেন। নোটিশ জারি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিএলওরা। তাঁদের দাবি, প্রতিটি বুথে গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০টিরও বেশি হিয়ারিং নোটিশ এসেছে। এত বিপুল সংখ্যক নোটিশ বিলি করতে ন্যূনতম এক সপ্তাহ সময় প্রয়োজন। তাই হিয়ারিংয়ের অন্তত এক সপ্তাহ আগে নোটিশ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
এছাড়াও, একটি হিয়ারিং নোটিশ বিতরণ করতে ফর্ম পূরণ, অ্যাপে ছবি তোলা, প্রার্থীর সই নেওয়া ও রেজিস্টার রক্ষণাবেক্ষণ- সব মিলিয়ে ১০ মিনিটেরও বেশি সময় লাগছে। এতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ছে বলে জানান তাঁরা। বিএলওদের বড় অংশই শিক্ষক বা স্থায়ী সরকারি কর্মচারী। বিএলও ডিউটির অতিরিক্ত চাপে তাঁদের মূল পেশাগত দায়িত্ব মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়া ইন্টারনেট খরচ ও যাতায়াতের জন্য কোনো সরকারি সহায়তা না দিয়েই এই কাজ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ। তাঁদের আরও অভিযোগ, এনুমারেশন ফর্ম ফিলাপের প্রশিক্ষণের সময় জানানো হয়েছিল যে ছবি তোলা বাধ্যতামূলক নয়। অথচ এখন নতুন করে ছবি যাচাই ও নতুন ছবি তোলার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, যা অযৌক্তিক ও বাস্তবায়নযোগ্য নয়। একই সঙ্গে তাঁদের সম্মতি ছাড়াই ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ফর্মে প্রকাশ করায় দিন-রাত অপরিচিত ফোন কল আসছে, ফলে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিএলওরা জানান, একটানা আট ঘণ্টার বেশি কাজ করানো শ্রম আইনের পরিপন্থী। এই প্রসঙ্গে জয়নগর ১ নম্বর ব্লকের বিডিও শুভদীপ দাস এবং জয়নগর ২ নম্বর ব্লকের বিডিও রাজা আদক জানান, বিএলওদের দাবিসংক্রান্ত লিখিত আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।










































































































