ধূপগুড়ি রেলওয়ে স্টেশনে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের স্টপেজের দাবিত অবস্থান বিক্ষোভ!

নতুন পয়গাম, প্রীতিময় সরখেল, ধূপগুড়ি: ধূপগুড়ি রেলওয়ে স্টেশনে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের স্টপেজের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করল ধূপগুড়ি মহকুমা নাগরিক মঞ্চের নেতৃত্বে ব্যবসায়ী সমিতি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। এদিন ধূপগুড়ি রেলওয়ে স্টেশনের টিকিট কাউন্টারের সামনে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে অবস্থান বিক্ষোভ দেখান আন্দোলনকারীরা। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট দাবি, ধূপগুড়ির মতো গুরুত্বপূর্ণ মহকুমা শহরে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের স্টপেজ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। অবস্থান কর্মসূচির পাশাপাশি তারা স্টেশন ম্যানেজারের হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দেন। স্টেশন মাস্টার আন্দোলনকারীদের আশ্বাস দেন যে, বিষয়টি তিনি রেল দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এই আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীরা সাময়িকভাবে অবস্থান বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে নেন। তবে তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে ফের বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন।
ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে ধূপগুড়ির গুরুত্ব তুলে ধরেন আন্দোলনকারীরা। উত্তরবঙ্গের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ কাঁচা সবজির বাজার ধূপগুড়িতে অবস্থিত। পাশাপাশি ধূপগুড়ি একটি পূর্ণাঙ্গ মহকুমা শহর, যেখানে মহকুমা প্রশাসনিক দপ্তর, মহকুমা হাসপাতাল রয়েছে এবং নির্মাণাধীন রয়েছে মহকুমা আদালত। ধূপগুড়ি মহকুমার অন্তর্গত বিন্নাগুড়ি সেনা ছাউনির কারণে নিয়মিতভাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সেনা জওয়ানদের যাতায়াত এই স্টেশনের ওপর নির্ভরশীল। এছাড়াও প্রতিবেশী দেশ ভুটান থেকে বহু মানুষ ধূপগুড়ি রেলওয়ে স্টেশন ব্যবহার করে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন। এই সমস্ত দিক বিচার করলে ধূপগুড়িতে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের স্টপেজের দাবি সম্পূর্ণ যুক্তিসঙ্গত বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।
ধূপগুড়ি মহকুমা নাগরিক মঞ্চের সম্পাদক অনিরুদ্ধ দাশগুপ্ত বলেন,
“আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। ধূপগুড়িকে মহকুমা করার দাবিতে আমরা টানা ১১ বছর আন্দোলন করেছি এবং শেষ পর্যন্ত সেই দাবি পূরণ হয়েছে। আমরা দেখেছি, অন্য জায়গায় বিধায়ক ও সাংসদরা নিজেদের এলাকার দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের এলাকার জন্য সেইভাবে কেউ আন্দোলনে নামেননি। ইতিমধ্যেই জলপাইগুড়ি সাংসদের মাধ্যমে আমরা রেল দপ্তরের কাছে আমাদের দাবি জানিয়েছি। দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও জোরদার হবে।”
ব্যবসায়ী সংগঠন ফোসিডের সম্পাদক প্রদীপ পাল বলেন, ধূপগুড়ির অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের স্টপেজ দেওয়া হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের যাতায়াতেও ব্যাপক সুবিধা হবে। এ বিষয়ে ধূপগুড়ি রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার সুনীল কুমার বলেন, “আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে আমাকে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। সেই স্মারকলিপি আমরা রেল দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেব।”
এদিকে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, রেল দপ্তর যদি দ্রুত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না নেয়, তবে ধূপগুড়িকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে তারা হাঁটবেন।























































































































