হরিপালে দশ হাজার আলু বীজ বিতরণ, উপকৃত হবেন ছয় হাজার কৃষক

আব্দুল গফফার, নতুন পয়গাম, হুগলি:
রাজ্যে আলু বীজ উৎপাদনে স্বনির্ভরতার পথে বড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। পাঞ্জাব নির্ভরতা কাটিয়ে স্থানীয়ভাবে আলু বীজ তৈরির উদ্যোগের অংশ হিসেবে সোমবার হুগলির হরিপালে চাষিদের হাতে তুলে দেওয়া হলো দশ হাজার টিসু কালচার নির্ভর আলু বীজের চারা। উপকৃত হবেন প্রায় ছয় হাজার কৃষক।
এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের কৃষি বিপণন মন্ত্রী বেচারাম মান্না। তিনি বলেন, “প্রতি বছর প্রায় তিন লক্ষ কোটি টাকা বাইরের রাজ্যে চলে যায় আলু বীজ কিনতে গিয়ে। রাজ্যে আলু বীজ উৎপাদন শুরু হলে সেই টাকা আর বাইরে যাবে না, বরং রাজ্যের কৃষকরাই লাভবান হবেন।”
মন্ত্রী জানান, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে আলু বীজ উৎপাদনে রাজ্যকে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর করে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। এজন্য টিসু কালচার ল্যাবে তৈরি করা এপিক্যাল রুটেট কাটিং (ARC) প্রযুক্তির মাধ্যমে আলু গাছের চারা উৎপাদন হচ্ছে, যা দেশের মধ্যে প্রথম উদ্যোগ।
বেচারাম মান্না আরও বলেন, “এই পদ্ধতিতে উৎপাদিত চারা ব্যবহারে মজুত খরচ কমবে, এবং আলু উৎপাদনের মোট খরচ ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পাবে। ফলে কৃষকরা আর্থিকভাবে আরও লাভবান হবেন।”
এই প্রকল্পে ইতিমধ্যেই ১১৫টি ফারমার্স প্রডিউসার কোম্পানি (FPC)-কে যুক্ত করা হয়েছে এবং প্রতি বছর উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
গবেষক হিমাদ্রিশেখর দাস বলেন, “আলু বীজে স্বনির্ভরতার পাশাপাশি আমাদের লক্ষ্য হল প্রতিবছর এই রাজ্য থেকে ভিন রাজ্যে চলে যাওয়া প্রায় তিন লক্ষ কোটি টাকার ব্যবসাকে ফিরিয়ে আনা। এজন্য সার্টিফাইড আলু বীজ তৈরির পদক্ষেপ শুরু হয়েছে।”
রাজ্যের কৃষি দপ্তরের এই উদ্যোগে কৃষকদের মধ্যে আশার আলো দেখা দিয়েছে। তাঁদের বিশ্বাস, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আলু চাষে ব্যয়ের বোঝা অনেকটাই কমবে এবং রাজ্যের অর্থনীতিতেও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।





















































































































