‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি,
দৈনিক জনকণ্ঠ, মহঃ মফিজুর রহমান: দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর প্রেমের সম্পর্কের পর পাকাপাকি ভাবে চার হাত এক হতে গিয়েই বিপত্তি। ভিন ধর্মে বিয়ে করতে বাধা দেওয়াসহ ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে তাদের ক্রমাগত হেনস্থা হচ্ছে। প্রাণনাশেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনই অভিযোগে অবশেষে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হল এক যুগল। পাশাপাশি অভিযোগ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও। জানা গিয়েছে, হাওড়ার উলুবেড়িয়ার বাসিন্দা ওই যুগলের নাম বৈশালী সাহা ও আক্রাম খান। দুজনেই প্রাপ্ত বয়স্ক।
বৈশালী সাহার অভিযোগ, দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর প্রেমের সম্পর্কের পর তারা বিয়ে করতে উদ্যোগী হতেই কিছু বিশেষ সংগঠনের লোকজন তাদের ক্রমাগত হেনস্থা করছে। তার বাড়ির লোকজনকে চাপ দিচ্ছে। তার বাবার দোকান ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। এমনকি তাকে প্রাণে মেরে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বৈশালীর দাবি, গতকাল রাতে জোর করে তার বাবাকে থানায় নিয়ে গিয়ে চাপ সৃষ্টি করে কিছু বিশেষ সংগঠনের লোকজন। এমনকি রাত সাড়ে ১১ টা নাগাদ তাকে ফোন করে বলা হয়, তিনি যেন এক্ষুনি থানায় এসে প্রেমিকের নামে লাভ জিহাদের অভিযোগ করেন। কিন্তু তাতে রাজি না হওয়ায় তাকে প্রাণে মেরে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। বৈশালী বলেন, তিনি একজন প্রাপ্ত বয়ষ্কা। সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় ও স্বজ্ঞানে স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট অনুযায়ী বিয়ে করছেন। এতে কিছু সংগঠনের এত আপত্তি কিসের, প্রশ্ন বৈশলীর। তার আরও প্রশ্ন, তাদের সম্পর্কটা আজকের নয়। দীর্ঘ ১৫-১৬ বছরের। তারপর বিয়ের উদ্যোগ। এটা কিভাবে লাভ জিহাদ হতে পারে ?
এবিষয়ে তাদের আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় বলেন, দুজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি নিজেদের পছন্দ মতো বিবাহ করতে পারেন, এটাই আমাদের দেশের সাধারণ নিয়ম। তাদের ধর্মবিশ্বাস যাইহোক, এমনকি ভিন্ন হলেও স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট অনুযায়ী বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন। এতে কারও কোনো আপত্তি থাকতে পারেনা। তথাকথিত ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া হবেনা। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই বিষয়টি লিখিতাকারে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক দফতরে জানানো হয়েছে। হাইকোর্টের নজরেও আনা হচ্ছে।








