একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি ও একজন দিব্যাঙ্গ মানুষের যন্ত্রনা

দৈনিক জনকণ্ঠ, হুগলী: সময় চলে আপন নিয়মে। সেই পথে কত মানুষ, নিয়ম, প্রাকৃতিক ঘটনা ঘটে যায়। বদলে যায় সময়, বদল হয় নীতির কিন্তু সেইসব মানুষগুলোর কোনও পরিবর্তন হয়না যারা স্বপ্ন দেখে একটু সুখে, দু-বেলা দু-মুঠো অন্নের, একটু নিরাপদ মাথা গোঁজার। তারাও এই সমাজের মানুষ, শাসনযন্ত্রের অংশ। অথচ সেই যন্ত্রের আঘাতে তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। এমনই একজন মানুষ চাঁদু রায়।
চাঁদু রায় এর জন্ম হুগলী জেলার খানপুর গ্রামে। কায়ক্লেশে উপার্জনের টাকায় সংসার চলত। বাড়িতে আছেন বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও দুই কন্যা। চাঁদু রায়ের একমাত্র উপার্জনেই চলছিল সংসারের চাকা। কিন্তু ২০০৯ সালে ডানকুনি ব্রিজের নিচে ট্রেনের ধাক্কায় ব্যাপকভাবে আহত হন তিনি। কাটা পড়ে দুটি পা। পরিবারের একমাত্র আর্নিং মেম্বার, ফলে ভিক্ষাবৃত্তির পথ বেছে নিতে হয় তাকে।বন্ধুবান্ধবদের কথায় রেলের কাছে দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ সাহায্য চাইলে কোর্টের শরণাপন্ন হতে হয় চাঁদু রায়কে। তার কথায়, “বাড়ির কাছাকাছি দুই কাঠা জমি ছিল, বোউ-এর কিছু গয়না ছিল- সেসব বিক্রিবাটা করেও কেসটা চালিয়েছিলাম। জি আর পি আর উকিলের দাবী, আমি নাকি রেলের থেকে টাকাপয়সার জন্য রেলে ঝাঁপ দিয়েছি। মামলায় হেরে যাই। জমিজমাও চলে যায় পা দুটোর অপারেশন করতে। কাউন্সিলর, ফুরফুরার ত্ব্বহা সিদ্দিকী সবার কাছে গিয়েছি। কেউ সাহায্য করেনি।”
মাইতিপাড়া ক্লাবের সদস্যদের উদ্যোগে ও নিজের সঞ্চয়ের টাকায় ক্রয় করেন একটি হাতে টানা সাইকেল। পূর্বতন সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন পেতেন হাজার টাকা। মাসিক দিব্যাঙ্গ ভাতা। এভাবেই কোনওক্রমে চলে যাচ্ছিল চাঁদু রায় এর। কিন্তু বাংলার রাজনীতির মসনদে নতুন সরকার আসার সাথে সাথেই ভাগ্যে ঘা পড়ে চাঁদু রায়ের। তার মতো অজস্র মানুষদের। প্রথমেই বন্ধ হয় ভাতার টাকা যেটা ছিল তার একমাত্র অন্ন-সংস্থানের ভরসা। “লকডাউনে না খেয়েও কাটিয়েছি। বিভিন্ন ক্লাবে ক্লাবে ঘুরে মা, বৌ, ছেলেপুলেদের জন্য লড়াই করেছি” আক্ষেপ ঝরে পড়ে চাঁদু রায়ের কণ্ঠে।
চাঁদু রায়ের মতো অসংখ্য মানুষ আজ এই হাহাকারের শিকার। সরকারিভাবে তাদের জন্য সাহায্যের ব্যবস্থা থাকলেও তা কোনও ফাঁকফোকরে আঁটকে থেকে যায়। দিন আনা- দিন খাওয়া মানুষগুলোর কান্নার শব্দ ঢেকে যায় রাজনৈতিক ঢাক্কা-নিনাদে।

























































































































