হেডিংলিতে পেস-ঝড়ে বিধ্বস্ত পাকিস্তান ১৭১ রানে অল-আউট, প্রথম দিনেই এগিয়ে ইংল্যান্ড

আসাদ আলি : তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম দিনেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই নিজেদের হাতে নিয়ে নিল ইংল্যান্ড। হেডিংলির মেঘলা আবহাওয়া ও পেস সহায়ক পরিবেশের পূর্ণ সুবিধা নিয়ে পাকিস্তানকে মাত্র ১৭১ রানে গুটিয়ে দিল ইংল্যান্ডের পেস আক্রমণ। অলি রবিনসন ও জশ টাং পাঁচটি করে উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের ইনিংসের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। জবাবে দিনের শেষে ২ উইকেটে ১১২ রান ইংল্যান্ডের। প্রথম ইনিংসে এখনও ৫৯ রানে পিছিয়ে থাকলেও হাতে রয়েছে আটটি উইকেট।
টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক জো রুট। মেঘলা আকাশ ও পিচে সামান্য আর্দ্রতার সুবিধা নিয়ে শুরু থেকেই পাকিস্তানের ব্যাটারদের অস্বস্তিতে ফেলেন ইংল্যান্ডের পেসাররা। রবিনসন দ্রুত আজান আওয়াইস ও শান মাসুদকে ফিরিয়ে মাত্র ৬ রানেই পাকিস্তানকে দুই উইকেটের চাপে ফেলে দেন।
সেখান থেকে আবদুল্লাহ শফিক ও ইমাম-উল-হক ৯১ রানের জুটি গড়ে পাকিস্তানকে বিপদ থেকে বের করে আনেন। দু’জনই ধৈর্য ধরে ইংল্যান্ডের পেস আক্রমণ সামলান। একটা সময় মনে হচ্ছিল, এই জুটি পাকিস্তানকে বড় স্কোরের ভিত তৈরি করে দেবে। কিন্তু ইমাম ৪২ রানে ফিরে যাওয়ার পর ফের শুরু হয় পতন। শফিকও ৬১ রান করে আউট হলে আর দাঁড়াতে পারেনি পাকিস্তানের মিডল অর্ডার।৯৭ রানে তিন উইকেট থেকে শেষ আটটি উইকেট মাত্র ৭৪ রানে হারিয়ে ফেলে পাকিস্তান। লোয়ার অর্ডারকে দ্রুত গুটিয়ে দেন টাং। শেষ পর্যন্ত রবিনসন ৫১ রানে এবং টাং ৪৬ রানে পাঁচটি করে উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের ইনিংস শেষ করে দেন।
দিনের প্রথম ভাগে বৃষ্টির কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা খেলা বন্ধ থাকলেও বিরতির পর পাকিস্তান কিছুটা স্বচ্ছন্দে ব্যাট করেছিল। কিন্তু ইমামের উইকেটের পর ইংল্যান্ডের পেসাররা আবারও চাপ তৈরি করেন। পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সঠিক জায়গায় বল করে পাকিস্তানের ইনিংসকে বড় হতে দেননি তাঁরা।১৭১ রানের জবাবে ইংল্যান্ডের শুরুটাও অবশ্য একেবারে নির্বিঘ্ন হয়নি। মোহাম্মদ আব্বাস বেন ডাকেটকে এবং মোহাম্মদ আলি এমিলি গে-কে ফিরিয়ে দেন। কিন্তু এরপর আর কোনও বিপদ হতে দেননি জো রুট ও জর্ডান কক্স। দু’জনে মিলে দিনের বাকি সময়টা সামলে নেন।
দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় রুট ৩৭ এবং কক্স ২৩ রানে অপরাজিত। ইংল্যান্ডের রান ২ উইকেটে ১১২। অর্থাৎ প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের থেকে এখনও ৫৯ রানে পিছিয়ে তারা। দ্বিতীয় দিনের শুরুতে দ্রুত সেই ঘাটতি মুছে ফেলে লিড নেওয়াই ইংল্যান্ডের লক্ষ্য। পাকিস্তান চাইবে নতুন বলে দ্রুত রুট-কক্সের জুটি ভেঙে ম্যাচে ফিরে আসতে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান: ১৭১ অলআউট — আবদুল্লাহ শফিক ৬১, ইমাম-উল-হক ৪২; অলি রবিনসন ৫/৫১, জশ টাং ৫/৪৬
ইংল্যান্ড: ১১২/২ — জো রুট ৩৭*, জর্ডান কক্স ২৩*
ইংল্যান্ড পিছিয়ে: ৫৯ রানে।




























































































































