BREAKING:
ঘরের মাঠে সুরুচি-বধ মহামেডানের, তবুও চিন্তার ভাজ কপালে ডার্বি হারের পর জয়ে ফেরার মিশন বিসিসিআই-এর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে তামিম ইকবাল চেন্নাই ছেড়ে ইংল্যান্ডের হেড কোচ ফ্লেমিং, ফের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট নীরজের সঙ্গে ফাইনালে রোহিত-যশবীরও, জ্যাভলিনে ভারতের ট্রিপল ধামাকা সিলসের পেসে ছারখার পাকিস্তান, ১২০ রানে শেষ বাবরদের ইনিংস ১ আগস্ট ইস্টবেঙ্গলের ১০৭-তম প্রতিষ্ঠা দিবস চরম নির্যাতন ও দারিদ্র্যকে হারিয়ে সোনা, অদম্য ইচ্ছাশক্তির নতুন নাম শর্মিলা ধনকর মোহনবাগান-ইউনাইটেড নাটকীয় ম্যাচে ২ লাল কার্ড! সুহেলের গোলে জয় মোহনবাগানের ডুরান্ডে উড়ন্ত সূচনা মহামেডানের গ্লাসগোর রিং ও বারবেলে ভারতের জয়গাথা ফুটবলের রাজা এবার পর্দায়, নতুন ড্রামা সিরিজে সিআরসেভেন-আঁরি জুটি দিল্লিতে আফগানদের ‘হোম’ সিরিজ অনিশ্চিত, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের হাতে মাছ ধরার ছিপে জড়িয়ে ব্যাধপাড়ার জীবন-জীবিকা বর্ষায় বেহাল ক্যানিং জামতলা রাজ্য সড়ক ডেঙ্গু রুখতে রানাঘাট পৌরসভার অভিনব উদ্যোগ, বিদ্যালয়ে কর্মশালা ও কুইজ প্রতিযোগিতা তৃনমূল নেতার পুকুর থেকে উদ্ধার একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র জাল পরিচয়পত্র-সহ সাগরদিঘীতে ধৃত বাংলাদেশি যুবক ফেনসিডিল পাচারের আগেই সীমান্তে আটক চক্র আবগারি কর্মী সেজে চায়ের দোকানে হানা অনাস্থায় অপসারিত জঙ্গিপুরের পুরপ্রধান ঘরে বসে টাকা নিচ্ছেন তৃণমূল নেতা, মালদহে ‘প্রতিজ্ঞা অভিযান’-এর সূচনা, উচ্চশিক্ষা-পেশা নির্বাচনে পড়ুয়াদের পাশে জেলা প্রশাসন বিপ্লবী কানাইলাল ভট্টাচার্যের ৯৬তম আত্মাহুতি দিবস পালন জয়নগরে  চুঁচুড়ায় পঞ্চায়েত মন্ত্রী, ভিবি-জি রামজী প্রকল্প ও বন্যা মোকাবিলায় বৈঠক ডুরান্ডে নতুন চ্যালেঞ্জ! সোমবার যুবভারতীতে এফসি বেনারস ভাগপতের বিরুদ্ধে নামছে মহামেডান বিশ্বকাপ আউট, ক্লাব ইন: বেজে গেল ক্লাব ফুটবলের দামামা, আগস্টে লড়াই শুরু কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের জয়যাত্রা: মীরাবাই ও ঋষিকান্তের রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স বৈভবের ব্যাটে আগুন! জিম্বাবুয়েকে ৩-০-তে হোয়াইটওয়াশ করে সিরিজ ভারতের ‘জাগ্রত প্রহরী’ প্রকাশে নতুন অধ্যায়, ২২তম সাহিত্য সেতুতে সম্মানিত গুণীজন লোহরপুরের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা নুরুল ইসলাম কাশেমী আর নেই হাবড়ায় ২ চানাচুর কারখানায় খাদ্য সুরক্ষা দফতরের হানা, বাজেয়াপ্ত বিপুল সামগ্রী রায়চকে বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস উদযাপন ও কুলতলীতে আন্তর্জাতিক বাদাবন দিবস পালন শঙ্করপুর ট্রলার দুর্ঘটনায় নিহত মৎস্যজীবীদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা সহায়তা মুখ্যমন্ত্রীর বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সামশেরগঞ্জের বিধায়ক নুর আলম রবীন্দ্র নজরুল জন্ম শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠান ও বিনামূল্যে বিশ্বমানের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পরিষেবা মৎস্য কর্মাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও মারধরের অভিযোগ বারুইপুর থানায় ম্যানগ্রোভ রক্ষায় পর্যটনের ভূমিকা, কান্দি মহকুমা হাসপাতালে চালু ‘মা আহার’, ৫ টাকায় মিলছে মাছ-ভাত অবশেষে গ্রেফতার  উপপ্রধান নির্মল ঘোষ  শ্রাবণের দ্বিতীয় সোমবারে তারকেশ্বরমুখী পুণ্যার্থীদের ঢল, কড়া নিরাপত্তা বার নজির, জগদগুরু কৃপা সেবা মিশনের প্রথম রক্তদান শিবিরে ব্যাপক সাড়া ভয়েস পাবলিক স্কুলে আন্তঃক্যাম্পাস ইলোকিউশন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত সবজি বিক্রেতা থেকে কমনওয়েলথে পদক! ডার্বির রঙ সবুজ মেরুন, সাহালের গোলে ফ্যাকাশে লাল হলুদ ঈশান-ঝড়ে উড়ে গেল জিম্বাবুয়ে, বোলিংয়ে নজর কাড়লেন অভিষেক অপরাজেয় সুফিয়া: বীর জওয়ানদের উৎসর্গ করে ৫ হাজার কিমি পথ জয়ের লক্ষ্যে ১০টি খেলাতেও ১০০টা স্বপ্ন: লভলিনা-নীরজদের হাত ধরে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে ভারত নিজ ভূমে পরবাসী! দিল্লিতে ভারতের বিরুদ্ধেই ‘হোম’ সিরিজ খেলবে আফগানিস্তান গ্লাসগোর গ্যালারিতে ভারতের নতুন অধ্যায়: কমনওয়েলথ গেমসের রোমাঞ্চকর সূচনা ২০২৬ বিশ্বকাপের স্বপ্নের একাদশে মেসি-সহ আর কারা এশিয়ান গেমস ক্রিকেট: সরাসরি নকআউটে ভারত- পাকিস্তান, অপেক্ষায় আফগানিস্তান আজ জিতলেই সিরিজ পকেটে; নজরে বৈভব,মায়াঙ্ক, প্রিন্সরা ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, গ্রেফতার ৫ অভিযুক্ত সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  দীঘা জগন্নাথ মন্দিরে উল্টো রথযাত্রা ঘিরে ভক্তদের ঢল, ভক্তিমুখর পরিবেশে পালিত মহোৎসব উল্টোরথের রশিতে প্রথম টান গুপ্তিপাড়ায়, ভক্তসমাগমে মুখর ৩৬ ফুটের ঐতিহ্যের রথযাত্রা ওন্দায় তৃণমূল নেতাকে ‘ডিম থেরাপি’ ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি, জনগণনার কাজে যুক্ত হলে ‘অন্ ডিউটি ‘ হবে কিনা ধন্দে সরকারি কর্মী ও শিক্ষকরা গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন নীতি আয়োগের তালিকায় নদীয়া: সেপ্টেম্বরেই শুরু মূল্যায়ন, সেরা হলে মিলবে ১০ কোটির বিশেষ ফান্ড গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, মোট পাঁচ অভিযুক্ত গ্রেফতার, উদ্ধার ১৫টি চুরি যাওয়া ব্যাটারি সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  পুলিশের ধাওয়ায় মাঝ নদীতে পাথরবোঝাই ট্রাক্টর ফেলে চম্পট জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রের নথি খতিয়ে দেখতে হুগলি-চুঁচুড়া ও বৈদ্যবাটি পুরসভায় পুলিশি অভিযান হেরিটেজ কলেজের রক্তদান শিবির ও গুণীজন সংবর্ধনা  গোবিন্দপুর রেল দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণ তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী, দিলেন চাকরির আশ্বাস মেজর সত্য গুপ্ত: নেতাজীর বিপ্লবী অভিযাত্রার এক অবিস্মরণীয় সহযোদ্ধা যন্তরমন্তরে ৬ বছরের শিশুর মন্তব্য ঘিরে আলোচনা লাঠির ঘায়ে কি আস্থা ফেরে? নিট বিতর্ক: গণতন্ত্রের কঠিন পরীক্ষা ক্ষমতার অহংকার ইতিহাসের কাছে কখনো জয়ী হয়নি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতে বিক্ষোভ, সহায়ককে মারধরের অভিযোগ সেবকে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা! নন্দী সেতুর নিচে পড়ল গাড়ি, নিহত ২, আহত ৩ নিটে ৬২১ নম্বর, অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্ক ৪৮৭৪: চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নপূরণের পথে রায়নার কৃষক-কন্যা বিপাশা হারারেতে টি-টোয়েন্টি যুদ্ধ, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভারতের প্রথম পরীক্ষা রানাঘাট বিজ্ঞান মঞ্চের উদ্যোগে সফলভাবে পালিত হলো অরণ্য সপ্তাহ কর্মসূচি চন্দননগরে ৭০ হাজার চারা বিতরণের দাবি বন দপ্তরের বাঁকুড়ায় এসএফআই-এর প্রতীকী অনশন, শিক্ষা ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের দাবি বাঘ সংরক্ষণ বিষয়ক কর্মশালা  নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র-যুবদের প্রতীকী অনশন চাকরি বিক্রির অভিযোগে অনুব্রত মণ্ডল-সহ ৬ জনের নামে মামলা ধুলিয়ানে সম্প্রীতির মঞ্চে নানা ধর্মের প্রতিনিধিরা, ঐক্য-সৌহার্দ্যের বার্তা সদ্ভাবনা মঞ্চের সময়ের ক্যানভাসে স্বপ্নের তুলি, নিউ জার্সিতে ফেরান তোরেসের মহাকাব্যিক অমরত্ব ট্রফি জয়ের পাশাপাশি একগুচ্ছ ব্যক্তিগত পুরষ্কার জিতলেন স্পেনের খেলোয়াড়রা গলি থেকে রাজপথ-লামিনে ইয়ামালের উত্থানের গল্প দৈনিক জনকণ্ঠের পাতায় দাম পেল না রোহিতের দুরন্ত শতরান, ইংল্যান্ডের কাছে ম্যাচ ও সিরিজ হারলো ভারত মালদা মুসলিম ইনস্টিটিউটে সভা ও বই প্রকাশ প্রথম বছরেই নিটে সাফল্য, কালিয়াচক ক্রিসেন্ট অ্যাকাডেমির জোড়া কৃতিত্ব কুলপির নাসিফার স্বর্ণপদক জয় মদ্যপ গেটম্যানের গাফিলতিতে রেল দুর্ঘটনা, চার শিশু-সহ নিহত ৫ অবসান হল একটি যুগের, জীবনাবসান স্যর গ্যারি সোবার্সের পাকিস্তান ক্রিকেটে আবার অন্ধকার, ডোপ টেস্টে ধরা পড়লেন মহম্মদ নওয়াজ একগুচ্ছ রেকর্ডের সামনে ফুটবলের বরপুত্র, ফাইনালেই গড়তে পারেন ১১ রেকর্ড! রিশাদের ঘূর্নি আর তানজিদ, তামিমের ব্যাটিংয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল টাইগাররা কাজে এল না বিরাটের দারুন ব্যাটিং, রুটের ব্যাটে হার ভারতের, সিরিজে সমতা ফেরাল ব্রিটিশরা গ্রন্থাগারিক দিবসের প্রাক্কালে ‘রবীন্দ্র দৃষ্টিতে গ্রন্থাগার’ শীর্ষক আলোচনা সভা জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে আজ আবারও মাঠে সাদাকালো শিবির, সামনে এরিয়ান

পশ্চিমারা কি মুখ রক্ষা করতে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিচ্ছেন

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, রাত ১২:০৮ | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, রাত ১২:০৮

নতুন পয়গাম, বিশেষ প্রতিবেদন:

আরও পড়ুন:

নতুন পয়গাম: ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও পর্তুগাল। গাজায় ইসরাইলি যুদ্ধ ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে দখলদারির বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিক্রিয়া হিসেবে রবিবার ইউরোপের ৪ দেশ এই স্বীকৃতি দেয়। চলতি সপ্তাহেই ফ্রান্স-সহ আরো কয়েবকটি দেশ স্বীকৃতি দেবে। ইসরাইল এই স্বীকৃতির তীব্র নিন্দা করে বলেছে, এই স্বীকৃতি হাস্যকর। এটি সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করবে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর অধিকৃত পশ্চিম তীরে গিয়ে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু দম্ভভরে বলেন, ফিলিস্তিন নামে কোনো রাষ্ট্র হবে না। আমরা কখনোই এটা হতে দেব না। কারণ, ফিলিস্তিন স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হলে, তা হবে ইসরাইলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি ও চ্যালেঞ্জ।
ইসরাইলি আগ্রাসনে চরম দুর্দশায় জীবন কাটছে ফিলিস্তিনিদের। এই স্বীকৃতি কি তাঁদের দুর্দশা লাঘব করবে বা অবসান ঘটাবে? আদৌ কোনো বাস্তবসম্মত পরিবর্তন কি আসবে? বিশ্লেষকেরা আশাবাদী হলেও সংশয়ে রয়েছেন। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যের অবৈধ দেশ ইসরাইল কারো তোয়াক্কা করে না। ইউনিসেফ থেকে আন্তর্জাতিক আদালত কেউ ইসরাইলের বিরুদ্ধে কিছু বললেই, আমেরিকা সেই সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে বা বয়কট করে। এদিকে ইসরাইল সরকার হুমকি দিয়েছে, তারা পুরো গাজা অঞ্চল দখল করে নিজেদের দেশের সঙ্গে যুক্ত করে নেবে। ট্রাম্পও সম্প্রতি একই কথা বলেছিলেন। পানামা, গ্রীনল্যান্ডের পাশাপাশি গাজা উপত্যকাকেও গায়ের জোরে দখল করে নেওয়ার হুমকি দেন।
মাঝেমধ্যেই দেখা যাচ্ছে, কিছু দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিচ্ছে। এ পর্যন্ত ১৫১টা দেশ এটা করেছে। এর খুব বেশি প্রভাব বা গুরুত্ব না থাকলেও, নিঃসন্দেহে আন্তর্জাতিক মহলে একটা পরোক্ষ চাপ বাড়াচ্ছে। কিন্তু ওইসব দেশগুলো শুধুমাত্র মৌখিক বা আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দিয়ে বরং পাশাপাশি ইসরাইলকে বয়কট বা নিষেধাজ্ঞা, অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করা, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নো-ফ্লাই জোন বাস্তবায়নের মতো কার্যকর পদক্ষেপ না করা পর্যন্ত কাজের কাজ কিছুই হবে না। সুতরাং বলাবাহুল্য, পশ্চিমারা কেবলমাত্র মুখ রক্ষার খাতিরে মাঝে মাঝে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়ে চলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মূলত লোকদেখানো স্বীকৃতি। তারা আন্তর্জাতিক স্তরে ক্রমবর্ধমান চাপ এবং নিজ নিজ দেশবাসীর চাপের মুখে এই পদক্ষেপ করছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তবুও এই স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে ফিলিস্তিন সরকার ওইসব দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তি করতে পারবে এবং রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত করতে পারবে। এরই মধ্যে ব্রিটেন ঘোষণা করেছে, তারা হুসাম জোমলটকে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত হিসেবে স্বীকৃতি দেবে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের বড় একটি অংশ ইতিমধ্যেই ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। সম্প্রতি আরও কিছু স্বীকৃতি যোগ হয়েছে। কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, হাতেগোনা কিছু ইউরোপীয় ও বাল্টিক দেশ, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান-সহ কয়েকটি দেশ এখনো ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়নি।
অবশ্য বেশিরভাগ দেশের স্বীকৃতি পেলেও রাষ্ট্রসংঘের সদস্য হতে পারেনি ফিলিস্তিন। মার্কিন সহায়তা ছাড়া এসব স্বীকৃতির বলে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রসংঘের কোনো সুযোগ-সুবিধা পাবে না। নতুন করে কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যও হতে পারবে না। ফিলিস্তিন বর্তমানে রাষ্ট্রসংঘের সদস্য নয়, তারা পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র মাত্র। পূর্ণ সদস্য হতে হলে নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশ পেতে হবে এবং রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেতে হবে। কিন্তু সবকিছু হলেও শেষমেষ আমেরিকা ভেটো দিলে সব পণ্ড হয়ে যাবে। এটাই হচ্ছে যুগ যুগ ধরে। মার্কিন ভেটোর কারণে বারে বারে প্রস্তাব পাস হলেও কার্যকর হচ্ছে না।
অন্যদিকে গাজায় যুদ্ধ বন্ধ করতে ইসরাইলের ওপর ঘরে-বাইরে চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে ইউরোপ থেকে চাপ জোরালো হচ্ছে। গতিশীল হচ্ছে ইসরাইলকে বর্জন বা বয়কটের প্রচারও। ফলে ইউরোভিশন ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাগুলো থেকে ইসরাইলকে বাদ দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্প্রতি কিছু ইসরাইলি পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি এবং দেশটির কয়েকজন নেতা-মন্ত্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়েও আলোচনা করেছে। আন্তর্জাতিক আদালত কয়েকমাস আসে পরোয়ানা জারি করেছে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী, ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নামে। তাদের অর্থমন্ত্রী ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলেছেন, কয়েক মাস ধরে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা করলেও কিছু পশ্চিমা দেশ মূলত গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ নিয়েছে। একদিকে প্রতিষ্ঠিত রাজনীতিক দলগুলোর সঙ্গে জড়িত ইসরাইলি লবি বা গোষ্ঠীগুলোর চাপ, অন্যদিকে জাতিগত গণহত্যা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে জনগণের ক্রমবর্ধমান দাবি, দেশের ভেতরে এমন নানামুখী চাপের কারণেই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়েছে কয়েকটি দেশ। ইউরোপের উদার-বামপন্থী সরকারগুলোর ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের কারণে এই স্বীকৃতি। আসলে কিছুই বদলায়নি। ধীরে ধীরে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে জনগণকে খুশি রাখতে এটি হল কম ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ। তাঁরা আসলে নিজেদের মুখ বাঁচাতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
গত জুলাইয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছিলেন, গাজায় যুদ্ধ বন্ধে ইসরাইল কার্যকর পদক্ষেপ না করলে তিনি ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবেন। শেষমেষ‌ ২১ সেপ্টেম্বর তিনি স্বীকৃতি দিলেন। এই পথেই হাঁটল কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং পরদিন পর্তুগাল।
এদিকে শিগগিরই ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে বলে জানিয়েছে ইউরোপের প্রভাবশালী দেশ ফ্রান্স। এটি হলে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশের মধ্যে চারটিরই স্বীকৃতি পাবে ফিলিস্তিন। তথ্য বলছে, রাষ্ট্রসংঘের ১৯৩টি সদস্য দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশের স্বীকৃতি পেয়েছে ফিলিস্তিন। এখন প্রশ্ন হলো, এ স্বীকৃতির অর্থ কী বা এটি কি বাস্তবে ফিলিস্তিনের জনগণের জন্য কোনো পরিবর্তন আসবে?
ফিলিস্তিন এমন একটি রাষ্ট্র, যার অস্তিত্ব আছে বাস্তবের মাটিতে। কিন্তু বিশ্বের দরবারে খাতায় কলমে কিছু নেই। বিভিন্ন দেশে ফিলিস্তিনের কূটনৈতিক মিশন আছে। কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ফিলিস্তিনের সীমানা, রাজধানী বা সেনাবাহিনী কিছুই নেই। অলিম্পিকের মতো ক্রীড়া প্রতিযোগিতায়ও অংশ নেয় ফিলিস্তিন। রাষ্ট্রসংঘের স্থায়ী সদস্য না হলেও পর্যবেক্ষক সদস্য দেশ।
১৯১৭ সালে বেলফোর ঘোষণায় ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইহুদিদের জন্য আবাসভূমি গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সেই ঘোষণায় এই প্রতিশ্রুতিও ছিল যে, ইহুদি বাদে এই ভূখণ্ডে অন্য সম্প্রদায়ের যেসব লোকজন বসবাস করেন, তাঁদের মৌলিক, নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এমন কিছু করা হবে না। যদিও ইসরাইল বলে, বেলফোর ঘোষণায় ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে কিছু বলা হয়নি। এমন জটিলতার মধ্যে ফিলিস্তিনিদের সমস্যার সমাধান আজো হয়নি। ৭৭ বছর আগে ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইল রাষ্ট্র গড়ে উঠলেও ফিলিস্তিনকে আদো স্বাধীন রাষ্ট্র করা হয়নি। দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের প্রস্তাব অনুযায়ী ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধের আগে পশ্চিম তীর ও গাজার যে সীমানা ছিল, তা নিয়ে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা ছিল। যার রাজধানী হওয়ার কথা ছিল পূর্ব জেরুজালেম।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইসরাইল রাষ্ট্র গঠনে মুখ্য ভূমিকা ছিল ব্রিটেনের। কারণ, তখন ফিলিস্তিন ছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে। তাই ব্রিটেনের এই স্বীকৃতির অবশ্যই তাৎপর্য ও গুরুত্ব রয়েছে। পাশাপাশি এবার যদি ফ্রান্সও ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়, তাহলে নিরাপত্তা পরিষদে ফিলিস্তিনের অবস্থান আরও মজবুত হবে। এর আগে ১৯৮৮ সালে অন্য দুই স্থায়ী সদস্য রাশিয়া ও চীন এই স্বীকৃতি দিয়েছিল। ফলে স্থায়ী পাঁচ সদস্যের মধ্যে একমাত্র আমেরিকাই হবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি না দেওয়া দেশ।

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder