গঙ্গা ভাঙনে পীড়িতদের পাশে মানবিক হাত — ত্রাণ নিয়ে এগিয়ে এল অল ইন্ডিয়া মাইনরিটি অর্গানাইজেশন

আবু রাইহান,নতুন পয়গাম, মালদা:
গঙ্গার ভাঙনে দুঃস্বপ্নে কাতর মালদার পঞ্চনন্দপুরে যখন শতাধিক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে অসহায় জীবনের লড়াই লড়ছে, তখন তাঁদের পাশে দাঁড়াল অল ইন্ডিয়া মাইনরিটি অর্গানাইজেশন (AIMO)। রবিবার সংগঠনের উদ্যোগে পঞ্চনন্দপুর আইমো ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রায় ২০০টি গঙ্গা ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রী ও ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন সংগঠনের সর্বভারতীয় সভাপতি অধ্যাপক নাসির আহমেদ।
এ বছর অতিবৃষ্টির কারণে গঙ্গার জলস্তর অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছে। তার ফলেই প্রায় দুই দশক পর ফের ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়েছে পঞ্চনন্দপুর এলাকা। নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে ঘরবাড়ি, চাষের জমি, এমনকি গ্রামের রাস্তাও। বাধ্য হয়ে বহু পরিবার আশ্রয় নিচ্ছেন আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি কিংবা অস্থায়ী ত্রাণশিবিরে।
অধ্যাপক নাসির আহমেদ বলেন, “গঙ্গা ভাঙনে মালদা জেলার কালিয়াচকের তিনটি ব্লক, মানিকচক এবং রতুয়া অঞ্চলের বহু মানুষ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আমরা তাঁদের পাশে আছি, থাকবও। মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই আমাদের এই উদ্যোগ।” তিনি আরও জানান, “আজকের ত্রাণ বিতরণের পর আগামী ৬ ও ৭ অক্টোবর আমাদের টিম দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যাবে। মানুষের সেবাই আমাদের সংগঠনের মূল লক্ষ্য।”
শুধু ত্রাণ নয়, বৃহত্তর সমস্যার দিকেও নজর দিতে চায় সংগঠনটি। অধ্যাপক আহমেদ জানিয়েছেন, উত্তরবঙ্গের গঙ্গা ভাঙন ও বন্যা পরিস্থিতিকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে শীঘ্রই বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে অল ইন্ডিয়া মাইনরিটি অর্গানাইজেশন। তাঁর কথায়, “এই ভাঙন কেবল নদীর নয়, মানুষের জীবনেরও ভাঙন। আমরা লক্ষাধিক মানুষের সমর্থন নিয়ে কেন্দ্র সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করব। প্রয়োজনে দিল্লি পর্যন্ত গিয়ে এই দাবি জানাব।”
প্রকৃতির এই নির্মম আঘাতে বিপর্যস্ত মানুষদের জীবনে অন্তত কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে আইমোর এই মানবিক উদ্যোগ। পঞ্চনন্দপুরের ত্রাণগ্রহীতাদের চোখে আজ একটুখানি আশার আলো— এখনও কেউ তাঁদের কথা ভাবছে, তাঁদের পাশে দাঁড়াচ্ছে।







































































































