BREAKING:
পরাজিত মহামেডান, সাদাকালো শিবিরকে হারিয়ে দুরন্ত জয় পিয়ারলেসের সুন্দরবনের জলবায়ু বিপন্নতা নিয়ে কাকদ্বীপে মিডিয়া ওয়ার্কশপ NEET-২০২৬ উত্তীর্ণ কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা ফারাক্কায় সোনাল দিনুশার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচ বাঁচাল শ্রীলঙ্কা,সিরিজ সেরা পাড়িক্কল ব্যান্ডেলে এখন থেকে জমবে ‘কারিম’স’-এর আসর, দিল্লির স্বাদ এবার হাতের নাগালে রাখির বন্ধনে সম্প্রীতির বার্তা, দৃষ্টিহীন ও বিশেষভাবে সক্ষমদের মুখে হাসি সম্পত্তি জালিয়াতি মামলায় পুলিশি অ্যাকশন: গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী, আইনি পদক্ষেপে স্বস্তি বৃদ্ধা মণিকা চক্রবর্তীর চূড়াভান্ডারে পালাবদলের বোর্ড, প্রধান কল্পনা  উপপ্রধান অনিতা! আবির-মিষ্টিতে উচ্ছ্বাস কর্মী-সমর্থকদের দেগঙ্গায় আট দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টে মাদকবিরোধী সচেতনতার বার্তা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর দৌড়,যা মৈই ছাড়া নামেই খ্যাত দ্বিতীয় টেস্টে আজ মুখোমুখি ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা,থাকছে বৃষ্টির ভ্রুকুটি। চড়া দামের খাঁড়া; ভারতের ক্রিকেট টাইটেল স্পনসরশিপ নিয়ে জটিলতায় বিসিসিআই একদিনে পড়লো ১৮ উইকেটে। হেডিংলিতে লজ্জার হার,ইংরেজ পেসারদের কাছে মুখ থুবড়ে পড়লো পাক ব্যাটিং। প্রতিশোধ বনাম শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই: ডুরান্ড ফাইনালে মহারণের অপেক্ষায় যুবভারতী রাজীব গান্ধীর জন্মদিনে ফুটবল প্রতিযোগিতা ও কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা বকেয়া বেতনের জট কাটেনি, পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে অস্থায়ী কর্মীরা কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন পুরপ্রধান, আদালতে জামিন সম্পত্তির লোভে বাবাকে খুন, চন্দননগর আদালতে যাবজ্জীবন ছেলে-বৌমার ভারত-ব্রাজিল মহাদ্বৈরথের প্রস্তুতি তুঙ্গে: যুবভারতী পরিদর্শনে ব্রাজিলের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল টাইব্রেকারে নর্থইস্টকে হারিয়ে ফাইনালে মোহনবাগান! শিরোপার মঞ্চে এবার কলকাতা ডার্বি” হেডিংলিতে পেস-ঝড়ে বিধ্বস্ত পাকিস্তান ১৭১ রানে অল-আউট, প্রথম দিনেই এগিয়ে ইংল্যান্ড চম্পাহাটির বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে জখম অন্তত ৫ শ্রমিক ভোটাধিকার পুনর্বহাল ও নাগরিক পরিষেবা রক্ষার দাবিতে ডায়মন্ড হারবারে মিছিল জয়নগর কুলতলি গ্রামীণ হাসপাতালে বেহাল সরকারি আবাসন মীনা মঞ্চের উদ্যোগে মাদ্রাসায় প্রজেক্ট বিতরণ ডুরান্ড কাপ সেমিফাইনাল সুথারের অতিমানবিক পারফরম্যান্স,গল-এ প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজে এগোলো ভারত দক্ষিণ আফ্রিকাকে হাফ ডজন গোলে উড়িয়ে সেমিফাইনালের আরও কাছে ভারত মাদক, জুয়া-সাট্টা ও নারী নির্যাতন রুখতে বহড়ুতে সচেতনতা সভা জয়নগরে বিজেপি যুব মোর্চার প্রতিবাদ মিছিল প্রবল বৃষ্টিতে জলমগ্ন জয়নগর মজিলপুর, হাঁটু সমান জলে দুর্ভোগ সমাজসেবায় কানাড়া ব্যাঙ্ক, শিক্ষা ও গ্রামোন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নবোদয় সাহিত্য পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন ও স্বাধীনতা দিবস পালন মালদহে চালু আয়ুষ্মান ভারত, স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন দিশার আশাবাদ জুট মিল শ্রমিকদের ব্যাতিক্রমী স্বাধীনতা দিবস উদযাপন নেতাজির অপমানের প্রতিবাদে মালদহে এসএফআইয়ের ‘আজাদি র‍্যালি’ বেলডাঙ্গা হাইস্কুলে SIO-র আয়োজনে বসেআঁকো প্রতিযোগিতা স্বাধীনতা দিবসে অনবদ্য জয় দিয়ে হকি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ভারত আজ কোয়ার্টারের মহারণ! অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস,ডারউইনে ৯ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি ও একজন দিব্যাঙ্গ মানুষের যন্ত্রনা ‘হর ঘর তিরঙ্গা’য় সাইকেল নিয়ে ধূপগুড়ির রাজপথ পরিক্রমা করলেন মহকুমা শাসক শ্রদ্ধা সুব্বা ব্যান্ডেলে এবার খাদ্যরসিকদের জন্য দিল্লির কারিম’স নেতাজিকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে, অনন্ত মহারাজকে ভর্ৎসনা  কার্তিক মহারাজের বনকর্মীদের তৎপরতায় বাঁচল বাজপাখির প্রাণ  অবশেষে সেলিমার দিল্লি যাত্রা, বিধায়কের সহায়তায় মালদহের রেশম চাষের ইতিহাস ও বর্তমান সরকারের উদ্যোগ ওয়েটল্যান্ডে চলল বুলডোজার, ভাঙড়ে বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন বনগাঁ সীমান্তে গ্রেফতার এক পাকিস্তানি ভোট শেষ, তবু খুলল না স্কুল! চার মাস ধরে থমকে পড়াশোনা প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করার দাবি, এসডিওকে স্মারকলিপি গরু শনাক্তে হাটে উত্তেজনা: চোর না ভিকটিম, কেন মামলা না করার সিদ্ধান্ত মালিকের  ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে শিক্ষকের ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের’ অভিযোগে উত্তাল স্কুল চার দিন পানীয় জল নেই ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে, চত্বরজুড়ে আবর্জনার স্তূপ ফালাকাটায় উদ্ধার মা গণ্ডারের মৃতদেহ, তীব্র চাঞ্চল্য   অপেক্ষার অবসান, দীর্ঘদিন পর টেস্ট দলে ফিরলেন সরফরাজ খান ক্রিকেটে আবারও রাজনীতির কালোছায়া লাভলিনা-মীরাবাই-নরেন্দ্র’র গল্প শুনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী সাহালের হ্যাটট্রিকে সিআইএসএফকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে পরের রাউন্ডে মোহনবাগান বড় ধাক্কা ভারতীয় শিবিরে, ছিটকে গেলেন সাই সুদর্শন খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ওয়ার্কলোড সামলাতে বিশেষ পদক্ষেপ থম্পসনের তোপে থরহরি কম্পন বাংলাদেশ শিবিরে, ৫৪ রানে শেষ টাইগাররা ক্যালকাটা পুলিশকে ২-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষে মহামেডান গুজরাট, মুম্বইয়ের পর কি এবার কলকাতা? হার্দিকের সম্ভাব্য নতুন ঠিকানা নিয়ে জোর চর্চা জয়ের লক্ষ্যে ক্যালকাটা পুলিশের মুখোমুখি মহামেডান স্পোর্টিং সিএফএলে আবার অঘটন, এবার ভবানীপুরের কাছে হার বাগানের টানা দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়ার সেরা ক্রিকেটার ট্রাভিস হেড বাইশ গজে আবার মহারণ, এশিয়া কাপে ৫ সেপ্টেম্বর ভারত-পাক মুখোমুখি বৃষ্টিতে ভেসে গেল আয়ারল্যান্ডের বিশ্বকাপের স্বপ্ন, খেলতে হবে বাছাইপর্ব ইস্তাম্বুলে বীরের বেশে সালাহ, ঐতিহাসিক চুক্তিতে শুরু নতুন অধ্যায় ​ক্ষমা চেয়ে পদে বহাল ইনফান্তিনো ২৫ কোটির প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরপর চেক বাউন্স! মহামেডান থেকে ‘বিতাড়িত’ হুমায়ুন, অথৈ জলে ক্লাব সাজিদের ঘূর্নি আর বাবরের ব্যাটে তিন বছর পর বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয় পাকিস্তানের আংরাভাষা ২ নং পঞ্চায়েতে প্রধান-সহ আট তৃণমূল সদস্যের দলত্যাগ মছলন্দপুর রেলগেট থেকেই ভাঙা রাস্তা নতুন ট্রেন, প্ল্যাটফর্ম সংযুক্তিকরণ ও রেল প্রকল্পের দাবিতে সরব যাত্রী ও নাগরিক সংগঠন টানা বৃষ্টিতে ফুলে-ফেঁপে উঠল ময়ূরাক্ষী,  বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পূর্ণবয়স্ক দাঁতাল হাতির মৃত্যু  চন্দনা বাউরীর মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ আশা কর্মীদের বেহাল দশা, পাকা রাস্তার দাবি ধুলিয়ান পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব কড়িয়ালি বনের সৌন্দর্যায়ন ও মিনি-জু হিসেবে গড়ে তোলার দাবি পাটচাষে আর লাভ নেই! দরপতনে দিশেহারা কৃষকরা মোজাফফর আহমেদের ১৩৮তম জন্মবার্ষিকী পালিত তাইপেই ওপেনে ইতিহাস, ১৮ বছর পর ভারতকে খেতাব এনে দিলেন ১৭ বছরের তন্বী ​সীমানার মাইন থেকে গ্লাসগোর সোনা, সেনানায়ক সোমন রানার অদম্য রূপকথা সিএফএল-এ জয়ের ধারা বজায় রাখতে বিএসএসের বিরুদ্ধে নামছে ইস্টবেঙ্গল ডুরান্ডে বড় অঘটন! নবাগত সমলেশ্বরীর কাছে ৩-২ গোলে হারল মহামেডান ডুরান্ডে গোলের বন্যা, সিআইএসএফকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত করল ইস্টবেঙ্গল ২৪ বছর পর আফ্রিকায় বিশ্বকাপ, ৩ দেশ ১২ শহরের নাম চূড়ান্ত করল আইসিসি বিদায় রক্ষণের শিল্পী, প্রয়াত ইতালির বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রাঙ্কো বারেসি স্বপ্ন সত্যি কলকাতায়; পুজোর আগেই যুবভারতীতে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নামছে ভারত নীল ছেড়ে গেরুয়া, হকি বিশ্বকাপের আগে জার্সি বদল ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক ডার্বি জয়ের আত্মতুষ্টি নয়, জয়ের ছন্দে থাকাই চ্যালেঞ্জ মোহনবাগানের ভারতের ধ্রুপদী যোদ্ধার বিদায়, শান্ত নায়ক অজিঙ্ক রাহানের অবসর ঘরের মাঠে সুরুচি-বধ মহামেডানের, তবুও চিন্তার ভাজ কপালে ডার্বি হারের পর জয়ে ফেরার মিশন বিসিসিআই-এর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে তামিম ইকবাল চেন্নাই ছেড়ে ইংল্যান্ডের হেড কোচ ফ্লেমিং, ফের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট

গলাগলির চেয়ে গালাগালির পারদ ঊর্ধমুখী

প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ৩:১০ | আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৫, দুপুর ৩:১০

মোহাঃ সাদেকুল ইসলাম

আরও পড়ুন:

২৬-এর ফুটবল বিশ্বকাপ আসন্ন। বছর বাদে বল গড়াবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর মাঠে। মাঠের ঘাস যতই মোলায়েম হোক, চুঁইয়ে পড়া বৈভব ও আনন্দোচ্ছ্বাস যতই সুখকর হোক, অঘটন ঘটবেই। জ্যোতিষবিদ্যার জ্ঞান নিয়ে বলছি না, তবে পুরাতন অভিজ্ঞতালব্ধ ঘটনা দেখে এমন ধারণার কথা বলছি। মাঠের মাঝে শিল্পের লাগালাগি গতি যেমন দেখা যাবে, অপ্রীতিকর ঘটনারও সাক্ষী থাকবে আমাদের দু’চোখ। মনের সঙ্গে গায়ের ও পায়ের জোরের পাশাপাশি মুখের জোরটাও চলবে। মুখের জোর হল, বিপক্ষ খেলোয়াড়কে গালি দেওয়া। জিদান ঢুসোর কথা ফুটবল ক্রীড়ামোদীরা আজও ভোলেননি। ইতালিয়ান খেলোয়াড় মাতরাজ্জিকে ঢুসো মেরে লালকার্ড খেয়ে মাঠ ছাড়লেন জিদান। হিরো থেকে ভিলেন হলেন রাতারাতি। সাফল্য ও ফর্মের চূড়ান্ত শিখরে থাকা খেলোয়াড় এমন কু-কীর্তি ঘটালেন কেন? জিদানের মেজাজ বিগড়ে সাফল্য তুলে নিতে চেয়েছিলেন মাতরাজ্জি। বিশেষ অস্ত্রবলে সফল হয়েও ছিলেন তিনি। সেই মহাস্ত্রের নাম ‘গালি’। জিদানের বোনকে গালি দিয়ে সাফল্য হাসিল করেছিলেন কৌশলী এই ইতালিয়ান খেলোয়াড়।
গালির আশ্চর্য ক্ষমতা। অপরজনকে হারিয়ে দিতে পারে। অপর জনের মনে ‘আমি হেরে গেলাম’ এই ধারণা সৃষ্টি করতে পারে। লঙ্কার ঝাল মাপার একক আছে। গাল মাপার একক নেই। তা যদি থাকত, অভিশাপের পাল্লা থেকে গালির পাল্লা ভারী হত। কাউকে অভিশাপ খেয়ে মরতে দেখা যায় না, কিন্তু গালাগালি খেয়ে লড়তে দেখা যায় হামেশাই। গালিদাতাকে যতটা ফুরফুরে দেখা যায়, গালিগ্রহীতা ততটাই বিমর্ষ থাকেন।
আজকাল গালিদাতা বেড়েছে। সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে গালির সংখ্যাও। ‘বাঁদর’ , ‘গাধা’ বলার যুগ আর নেই। গায়ে ফোস্কা ধরানো গালও যেন এখন অনেকটা পানসে। এক-লক্ষ্য গাল, গুষ্টি-সমষ্টি গালও আজ ব্রাত্য হয়েছে গালিদাতাদের মুখে। জাতিকেন্দ্রিক গাল সমাজের দখল নিয়েছে, যা ষোল আনাই সংক্রামক। ফলত বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ছে সুপারসনিক গতিতে। পূর্বের কিছু অপশব্দের গাল বমনোদ্রেকী ছিল; কিন্তু বর্তমানের গাল ঈর্ষা আর বিদ্বেষ দুই-ই উদ্রেক করে। প্রধানমন্ত্রীর মা, রাহুল গান্ধীর মা, শশী থারুদের স্ত্রী — নানাজনে গালিবাণে আক্রান্ত।
ফেসবুক, ইনস্ট্রাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপে ইউনিভার্সিটির কিছু ছাত্র-ছাত্রী আজ এই গালাগালির গবেষক। সরব গালির তুলনায় নীরব গালিরও পোষক এরা। নীরব গালে তুলনামূলক দূষণ কম। সরব গালে তীব্র। সমাজে আট থেকে আশি সবাই দূষিত হচ্ছে সরব গালির বদৌলতে। সমাজে দূষণ কম হলেও কিন্তু নীরব গালি কর্কটরোগ। সামান্য অংশ থেকে শুরু করে সমাজের পূর্ণাংশ সংক্রামিত করে ফেলেছে। এই গালিদাতারা নিজের নামে, অপরের নামে ফেক আইডি খুলে অন্যকে খিস্তি বা গালি দিয়ে যাচ্ছে দেদার দিলে। তারা বিষয় না পেয়ে আজ ব্যক্তিকে আক্রমণ করছে। আত্মস্বার্থে আঘাত লাগলে একটা বিশেষ সম্প্রদায়কে আক্রমণ করছে। তলিয়ে দেখলে এ সত্য উদঘাটিত হবে যে, তাদের কেউ ছদ্ম দেশপ্রেমিক, কেউ-বা উগ্র দেশপ্রেমিক। এই দুইয়ের ষাঁড়াষাঁড়ি আক্রমণে পবিত্র-পুণ্যভূমি ভারতাত্মা চোখের জলে নীরবে ক্রন্দন করে চলেছে। অপরদিকে, গালি-খাওয়ার দল মনের অন্তর্দেশে বলগ-ওঠা দুধের মতো টগবগ ফুটে চলেছেন।
এই গালি-সংস্কৃতি বজায় রাখার বা গালি দেওয়ার প্রবণতার উৎসভূমি কী? গালি দেওয়ায় লাভ আছে, নাকি ক্ষতি — তা বিশদে আমরা বলতে পারি না, এটা সমাজবিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যার বিষয়। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী আজ বেঁচে থাকলে হয়ত (কারো দ্বারা প্ররোচিত হলে) বলতেন, ”এক গালে সফল হাতে হাত / অপর গালে বিপক্ষ কুপোকাত”। তবে দেশ, দশ ও জাতির সুশীল মনোভাব বজায় রাখার স্বার্থে এক চিলতে বাক্যব্যয় করে বলতেই পারি, গালি কাঙ্ক্ষিতবস্তু ও ইপ্সিত বাসনা লাভের ঘৃণ্যতম মাধ্যম। খোলা চোখে ক্ষতির খতিয়ান সহজ দৃশ্যমান। হয়ত কোনো গালিদাতা শাণিত যুক্তিনির্ভর পক্ষাবলম্বন করবে। সাপের বিষ মানুষের মরণ আনে, আবার এই বিষই প্রাণ বাঁচায়। তাই বলা হয় বিষে বিষে বিষ-ক্ষয়। কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা। মোদ্দা কথা, গালি দিয়ে কার্য হাসিল।
তবে দেখে ও ঠেকে মানবসমাজ যেটুকু বুঝতে পেরেছেন তা হল, অপ্রাপ্তি থেকে হিংসার সৃষ্টি, আর হিংসা প্রকাশের বাহন রূপে খিস্তি-গালাগালির আগমন। এটিই উৎসভূমি। সুশীল সমাজ গালি খাওয়ার চেয়ে গালি দিতে ভয় করে বেশি। কারণ, তাঁদের সামাজিক বোধটাই আলাদা। অপরদিকে, ন্যাংটার নেই কাপড়ের ভয়, গালিদাতারা নিজেদের ভাবমূর্তি নষ্টের কথা কখনোই ভাবে না। না বাস্তবে, না স্বপ্নে। কারণ, কটূকাটব্য তাদের ধাত সওয়া হয়ে গেছে। গৃহহীনের ঘর পোড়ার ভয় থাকে না।
ডিজিটাল গালির সিংহ-থাবায় বিবেকবান মানুষ মর্মাহত। মোবাইল-পর্দা, টেলিভিশন-পর্দা ও সেলুলয়েড-পর্দা সর্বত্রই গালিগালাজের রমরমার তাণ্ডবনৃত্যে সুশীল মানব আতঙ্কিত, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। ‘মোল্লার বাচ্চা’ থেকে শুরু করে ‘সোনাটুনির বাচ্চা’ পর্যন্ত প্রাথমিক বিস্তৃতি। ক্রমে সিঁড়ি বেয়ে গালির পারদ বিছানা পর্যন্ত উঠেছে। এতদিন বাবা-মায়ের নামে গালি দিয়ে যারা ক্ষান্ত হত, এই ফাঁকে গালির উচ্চ শংসাপত্র হাসিল করে আরও উন্নততর বা উন্নত মানের গালি আবিষ্কার করেছে। সাধারণ মানুষ তো দূর ছাই, দেশের জন্য নিবেদিতপ্রাণ কর্নেল সোফিয়া কুরেশি, উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং ছাড়াও ভারতীয় বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রিকে ইয়ত্তাহীন গালি হজম করতে হয়েছে সম্প্রতি। চিকিৎসা বিজ্ঞানীগণ নবাবিষ্কৃত প্রতিষেধক-ঔষধের সাফল্যমান বিচারে গিনিপিগ কী বাঁদর জাতীয় ইতর প্রাণিতে প্রয়োগ ঘটান। ঠিক তেমনি, গালদোষ-দুষ্ট দূষকের দল আবিষ্কৃত গালের তেজস্ক্রিয়তা মাপতে বিশেষ সম্প্রদায় ও সেক্যুলারদের ওপর প্রয়োগ ঘটাচ্ছে।
কোনো এক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ছাত্র চূড়ান্ত সাফল্যের সঙ্গে এইচ.এস পাস করে টগবগ আনন্দে ফুটছেন, হঠাৎ তার মন-প্রাণের ওপর ঘটে গেল সার্জিক্যাল স্ট্রাইক। তার মোবাইল স্ক্রিনে একের পর এক ধেয়ে এল মিসাইল হামলা। দেখো বাবা, বিন লাদেনের মতো নাম উজ্জ্বল করতে যেও না। আরেক অস্ত্র এল, যাই হোস হবি, কিন্তু জঙ্গী হতে যাস না। আর এক গালের অস্ত্র, ভাল রেজাল্ট করে কী হবে? ক’দিন পর তো টেররিস্ট হতে হবে। আরেক অস্ত্র, মাদ্রাসা ছেড়ে স্কুলে তুমি কেন? আর এক অস্ত্র, বোমা ভাবতে শিখে নিয়ো।
হিংসা জয় ভালবাসায়, স্বতঃসিদ্ধ কথা। মেরেছ কলসির কানা, তাই বলে কি প্রেম দেব না? স্যাকরার ঠুকঠুক, কামারের এক ঘা। হ্যাঁ, দূষকের অস্ত্র গালাগালি, তো সুশীলের অস্ত্র গলাগলি। অর্থাৎ, ঘৃণা-বর্জ্য ত্যাগ করে প্রেম-ভালবাসা, সদ্ভাব-সম্প্রীতি, অসাম্প্রদায়িক মনোভাব আনয়ন আবশ্যক। সমাজে সুশীলের অভাব নেই। তাঁদের থেকেই এসেছে সাহসের রসদ ও সত্যবাণী। সে আক্রান্ত ছাত্রের কাছে এসেছে সংখ্যাগুরুদেরই অমৃত বাণী। অভিনন্দন ! অনেক বড় হও। যা কিছু খারাপ শুনলে মনে রেখো না। এগিয়ে যাও। আরেক উজ্জীবনী মন্ত্র, এই উগ্র ধর্মান্ধদের কথায় মন খারাপ কোরো না। আমরা আছি তোমার সাথে। আরেক জনের বাণী-উপহার, এ ধরনের বিষাক্ত চিন্তাধারা বাঙালির মধ্যে ছিল না। আজ জাত-ধর্ম তুলে যারা তোমাকে গাল-মন্দ করল, জীবনে তারা একটি ধর্মগ্রন্থও পড়েছে বলে মনে হয় না।
আর বিস্তৃতি নয়। স্মরণ রাখা উচিত, বিশ্ববরেণ্য কবি রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘লোকহিত’ প্রবন্ধে বলেছেন, ‘মরার বাড়া গালি নাই’। পরক্ষণেই বলেছেন, আছে। তা হল, ‘বাঁচিয়া মরা’। জীবিত অবস্থাতেই যাদের মরণ ঘটেছে, তার ইঙ্গিত তিনি দিয়েছেন। শেষকথা এই, গাল খেয়ে কারও পেট ভরতে পারে, কিন্তু গাল দিয়ে তোমার না পেট, না মন — কিছুই ভরবে না। শূন্য। তুমি বেঁচে আছ, কিন্তু মরে গেছ। তুমি সাগরজলের অন্তঃসারহীন লবণাক্ত ফোসকা। অপরের পিপাসা নিবারণ তোমার কম্ম নয়।

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder