১৬নং জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনা

১৬নং জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনা
অতসী মন্ডল, নতুন পয়গাম, হাওড়া: হাওড়ার বাগনান থেকে উলুবেড়িয়া, কুলগাছিয়া— ১৬ নং জাতীয় সড়কে প্রায় প্রতিটি মাসেই শিরোনামে আসে নতুন কোনো প্রাণঘাতী ঘটনা। মানুষের প্রাণহানি, আহত, প্রতিবাদ, প্রশাসনের আশ্বাস—সবই বারবার ঘটছে, কিন্তু সমস্যার মূল কোথাও মিটছে না।
এই এলাকায় দুর্ঘটনা যেন নিত্য সঙ্গী। গত ২২ আগস্ট, শুক্রবার আবারও নতুন দুর্ঘটনা ঘটে। এদিন উলুবেড়িয়ার কুলগাছিয়া শ্রীরামপুর মোড়ে দুপুরে একটি বাস সাইকেল আরোহীকে ধাক্কা মেরে নিয়ন্ত্রণ হারায়, ধাক্কা লাগে একটি ছোট ভ্যানে। মুহূর্তে উল্টে যায় ভ্যান। গুরুতর জখম সাইকেল আরোহীকে উলুবেড়িয়া শরৎ চন্দ্র মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
উল্লেখ্য, এপ্রিল ২০২৪-এ উলুবেড়িয়ার ফকিরপাড়ায় একটি একটি প্রাইভেট গাড়ি অন্ত্যেষ্টি শেষে ফেরার পথে ল্যাম্পপোস্টে ধাক্কা মেরে সামনাসামনি অন্য গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে ২ জন মারা যান, আহত হন ১০ জন। তারও আগে, মার্চ ২০২৩-এ বাগনান–উলুবেড়িয়া রুটে বাস ও কারের সংঘর্ষে প্রাণ যায় ৩ জনের, আহত হন ৯ জন।
২০২৫ সালের মার্চ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়। আবার জুন মাসের লাইব্রেরি মোড়ের দুর্ঘটনা এখনো ভোলেনি স্থানীয়রা। সকালে কলকাতা-গামী একটি বাস লরির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে ৪ জন প্রাণ হারান, আহত হন প্রায় ২৫ জন যাত্রী। সেদিন কলেজ পরীক্ষার্থীরাও বাসে ছিলেন। এই দুর্ঘটনার পর ক্ষোভে ফেটে পড়ে গোটা বাগনান। লাইব্রেরি মোড় ঘিরে আন্দোলন শুরু হয়, দাবি ওঠে—উড়ালপুল, ট্রাফিক সিগন্যাল, নজরদারি ও নিরাপত্তার জোরদার ব্যবস্থা হোক।
এই ধারাবাহিক মৃত্যুফাঁদের মধ্যে দিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে— ১৬ নং জাতীয় সড়কে কি নিরাপদ? প্রতিবারই পুলিশের তৎপরতা, উদ্ধারকাজ, দায়িত্বজ্ঞানহীন ড্রাইভিংয়ের অভিযোগ উঠে আসে। কিন্তু যথেষ্ট সিসিটিভি নজরদারি, কার্যকর ট্রাফিক সিগন্যাল ও গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, উড়ালপুল ছাড়া এই সমস্যার কি স্থায়ী সমাধান সম্ভব?







































































































