‘খিড়কি থেকে সিংহদুয়ার’, একচিলতে ঘর থেকে প্রাসাদে মামদানি

নতুন পয়গাম, নিউইয়র্ক:
নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি ও তার পরিবারের জন্য এখন অপেক্ষা করছে এক বিশাল রাজপ্রাসাদতুল্য সরকারি বাড়ি। এটা মূলত নিউ ইয়র্ক শহরের মেয়রের বাসভবন। সম্প্রতি এক সকাল কাটিয়েছেন তাঁর ২৩০০ ডলার ভাড়ার ফ্ল্যাটের মেঝেতে তোয়ালে পেতে। রান্নাঘরের সিঙ্ক থেকে পানি পড়ছিল। এখন মামদানি যদি মেয়র হিসেবে সরকারি বাসভবন ‘গ্রেসি ম্যানশন’-এ যেতে রাজি হন, তবে আর এমন দৈনন্দিন সমস্যা তাঁকে ভোগাবে না। তাঁর নতুন বাসা হবে অনেক প্রশস্ত ও জাঁকজমকপূর্ণ।
কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়ায় মামদানির বর্তমান বাসা একেবারেই সাধারণ। আর গ্রেসি ম্যানশন হল ২২৬ বছরের পুরোনো, ১১ হাজার বর্গফুট আয়তনের এক বিশাল রাজপ্রাসাদ। সেখানে ঝকঝকে আয়না, ঝাড়বাতির আলো, মেহগনি কাঠের দরজা, আপেল ও ডুমুরগাছঘেরা বিশাল লন, আর ফুল ও সবজি বাগান সবই আছে।
‘আমি এখনো জানি না, কোথায় থাকব,’ বুধবার টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন মামদানি। ‘তবে জানি, কোথায় কাজ করব, সেটা হচ্ছে সিটি হল।’ ওই দিনই আরেক সংবাদ সম্মেলনে মামদানি মজা করে বলেন, ‘গত রাতে আমার সুপারের কাছ থেকে একটা টেক্সট পেয়েছি। তবে গ্রেসি ম্যানশনই শেষ পর্যন্ত বেশিরভাগ মেয়রের ঠিকানা হয়। নিরাপত্তা আর বড় জমায়েত আয়োজনের সুবিধার কারণে; তাঁরা এটা পছন্দ করুন বা না করুন।’
গ্রেসি ম্যানশন হল ‘লেবুর রঙের কেকের মতো প্রাসাদ’। এটি কার্ল শুর্জ পার্কের ওপরে, এফডিআর ড্রাইভ (ম্যানহাটানের পূর্ব তীর ধরে চলা একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক) এর পাশে অবস্থিত। গ্রীষ্মে বারান্দা থেকে দেখা যায় ইস্ট রিভারের মনোরম দৃশ্য।

অফিসের কাজ শেষে মেয়রকে গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করতে হয় এই প্রাসাদের কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত ফটক দিয়ে। সামনের দরজায় লাগানো আছে মেজুজা – ছোট একটি বাক্সে ইহুদি ধর্মগ্রন্থের কিছু বাণী সংবলিত এক স্ক্রল। ১৯৭০-এর দশকের মেয়র আব্রাহাম বিম এটি প্রথম স্থাপন করেন।
নিচতলা অত্যন্ত সজ্জিত, খুবই ফেডারেল শৈলীর। মেয়রের জন্য এখানে কোনো পরিবর্তন ঘটানোর সুযোগ নেই। ম্যানশনে একটি বিনোদনকক্ষও আছে; যার মধ্যে বিশাল চুলা। ১৯৬০-এর দশকে মেয়র জন লিন্ডসের সন্তানেরা এটি ব্যবহার করেছেন।
এ ছাড়া আছে বসার ঘর ও ডাইনিং কক্ষ। এ কক্ষের দেয়ালে শোভা পাচ্ছে প্যারিসের বাগানের ছবি আঁকা ওয়ালপেপার। মেয়ররা চাইলে এখানেই খাবার খেতে পারেন, যা তৈরি করেন গ্রেসি ম্যানশনের পূর্ণকালীন রাঁধুনি। পাশে আছে ১৯৬৬ সালে খুলে দেওয়া নাচঘর।
ম্যানশনের ওপর তলায় রয়েছে পাঁচটি শোবার ঘর। আগে অনেক মেয়রই চেষ্টা করেছেন ম্যানশনের খুব আনুষ্ঠানিক এ অংশকে কিছুটা ঘরোয়া করার। নিচতলার জানালার কাচে লিন্ডস, রুডলফ জুলিয়ানি ও মাইকেল আর ব্লুমবার্গের সন্তানেরা তাঁদের নাম খোদাই করেছিলেন। সাবেক মেয়র বিল ডি ব্লাসিওর স্ত্রী শির্লেন ম্যাক্রেও তাঁর নাম লিখেছেন।
মামদানির এখনকার এক শয়নকক্ষের মতো ছোট ফ্ল্যাটে কোনো পার্টি আয়োজন করা সম্ভব নয়। কিন্তু গ্রেসি ম্যানশন পার্টির জন্যই তৈরি। মামদানির বর্তমান ভাড়া ফ্ল্যাটে কোনো পাহারাদার বা বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। গ্রেসি ম্যানশনের আসল সুবিধা হতে পারে উঁচু বেড়া, ক্যামেরা ও বাইরে অবস্থান করা পুলিশের দল।

























































































































