BREAKING:
চরম নির্যাতন ও দারিদ্র্যকে হারিয়ে সোনা, অদম্য ইচ্ছাশক্তির নতুন নাম শর্মিলা ধনকর মোহনবাগান-ইউনাইটেড নাটকীয় ম্যাচে ২ লাল কার্ড! সুহেলের গোলে জয় মোহনবাগানের ডুরান্ডে উড়ন্ত সূচনা মহামেডানের গ্লাসগোর রিং ও বারবেলে ভারতের জয়গাথা ফুটবলের রাজা এবার পর্দায়, নতুন ড্রামা সিরিজে সিআরসেভেন-আঁরি জুটি দিল্লিতে আফগানদের ‘হোম’ সিরিজ অনিশ্চিত, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের হাতে মাছ ধরার ছিপে জড়িয়ে ব্যাধপাড়ার জীবন-জীবিকা বর্ষায় বেহাল ক্যানিং জামতলা রাজ্য সড়ক ডেঙ্গু রুখতে রানাঘাট পৌরসভার অভিনব উদ্যোগ, বিদ্যালয়ে কর্মশালা ও কুইজ প্রতিযোগিতা তৃনমূল নেতার পুকুর থেকে উদ্ধার একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র জাল পরিচয়পত্র-সহ সাগরদিঘীতে ধৃত বাংলাদেশি যুবক ফেনসিডিল পাচারের আগেই সীমান্তে আটক চক্র আবগারি কর্মী সেজে চায়ের দোকানে হানা অনাস্থায় অপসারিত জঙ্গিপুরের পুরপ্রধান ঘরে বসে টাকা নিচ্ছেন তৃণমূল নেতা, মালদহে ‘প্রতিজ্ঞা অভিযান’-এর সূচনা, উচ্চশিক্ষা-পেশা নির্বাচনে পড়ুয়াদের পাশে জেলা প্রশাসন বিপ্লবী কানাইলাল ভট্টাচার্যের ৯৬তম আত্মাহুতি দিবস পালন জয়নগরে  চুঁচুড়ায় পঞ্চায়েত মন্ত্রী, ভিবি-জি রামজী প্রকল্প ও বন্যা মোকাবিলায় বৈঠক ডুরান্ডে নতুন চ্যালেঞ্জ! সোমবার যুবভারতীতে এফসি বেনারস ভাগপতের বিরুদ্ধে নামছে মহামেডান বিশ্বকাপ আউট, ক্লাব ইন: বেজে গেল ক্লাব ফুটবলের দামামা, আগস্টে লড়াই শুরু কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের জয়যাত্রা: মীরাবাই ও ঋষিকান্তের রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স বৈভবের ব্যাটে আগুন! জিম্বাবুয়েকে ৩-০-তে হোয়াইটওয়াশ করে সিরিজ ভারতের ‘জাগ্রত প্রহরী’ প্রকাশে নতুন অধ্যায়, ২২তম সাহিত্য সেতুতে সম্মানিত গুণীজন লোহরপুরের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা নুরুল ইসলাম কাশেমী আর নেই হাবড়ায় ২ চানাচুর কারখানায় খাদ্য সুরক্ষা দফতরের হানা, বাজেয়াপ্ত বিপুল সামগ্রী রায়চকে বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস উদযাপন ও কুলতলীতে আন্তর্জাতিক বাদাবন দিবস পালন শঙ্করপুর ট্রলার দুর্ঘটনায় নিহত মৎস্যজীবীদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা সহায়তা মুখ্যমন্ত্রীর বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সামশেরগঞ্জের বিধায়ক নুর আলম রবীন্দ্র নজরুল জন্ম শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠান ও বিনামূল্যে বিশ্বমানের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পরিষেবা মৎস্য কর্মাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও মারধরের অভিযোগ বারুইপুর থানায় ম্যানগ্রোভ রক্ষায় পর্যটনের ভূমিকা, কান্দি মহকুমা হাসপাতালে চালু ‘মা আহার’, ৫ টাকায় মিলছে মাছ-ভাত অবশেষে গ্রেফতার  উপপ্রধান নির্মল ঘোষ  শ্রাবণের দ্বিতীয় সোমবারে তারকেশ্বরমুখী পুণ্যার্থীদের ঢল, কড়া নিরাপত্তা বার নজির, জগদগুরু কৃপা সেবা মিশনের প্রথম রক্তদান শিবিরে ব্যাপক সাড়া ভয়েস পাবলিক স্কুলে আন্তঃক্যাম্পাস ইলোকিউশন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত সবজি বিক্রেতা থেকে কমনওয়েলথে পদক! ডার্বির রঙ সবুজ মেরুন, সাহালের গোলে ফ্যাকাশে লাল হলুদ ঈশান-ঝড়ে উড়ে গেল জিম্বাবুয়ে, বোলিংয়ে নজর কাড়লেন অভিষেক অপরাজেয় সুফিয়া: বীর জওয়ানদের উৎসর্গ করে ৫ হাজার কিমি পথ জয়ের লক্ষ্যে ১০টি খেলাতেও ১০০টা স্বপ্ন: লভলিনা-নীরজদের হাত ধরে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে ভারত নিজ ভূমে পরবাসী! দিল্লিতে ভারতের বিরুদ্ধেই ‘হোম’ সিরিজ খেলবে আফগানিস্তান গ্লাসগোর গ্যালারিতে ভারতের নতুন অধ্যায়: কমনওয়েলথ গেমসের রোমাঞ্চকর সূচনা ২০২৬ বিশ্বকাপের স্বপ্নের একাদশে মেসি-সহ আর কারা এশিয়ান গেমস ক্রিকেট: সরাসরি নকআউটে ভারত- পাকিস্তান, অপেক্ষায় আফগানিস্তান আজ জিতলেই সিরিজ পকেটে; নজরে বৈভব,মায়াঙ্ক, প্রিন্সরা ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, গ্রেফতার ৫ অভিযুক্ত সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  দীঘা জগন্নাথ মন্দিরে উল্টো রথযাত্রা ঘিরে ভক্তদের ঢল, ভক্তিমুখর পরিবেশে পালিত মহোৎসব উল্টোরথের রশিতে প্রথম টান গুপ্তিপাড়ায়, ভক্তসমাগমে মুখর ৩৬ ফুটের ঐতিহ্যের রথযাত্রা ওন্দায় তৃণমূল নেতাকে ‘ডিম থেরাপি’ ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি, জনগণনার কাজে যুক্ত হলে ‘অন্ ডিউটি ‘ হবে কিনা ধন্দে সরকারি কর্মী ও শিক্ষকরা গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন নীতি আয়োগের তালিকায় নদীয়া: সেপ্টেম্বরেই শুরু মূল্যায়ন, সেরা হলে মিলবে ১০ কোটির বিশেষ ফান্ড গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, মোট পাঁচ অভিযুক্ত গ্রেফতার, উদ্ধার ১৫টি চুরি যাওয়া ব্যাটারি সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  কুমলাই নদী থেকে উদ্ধার বিজেপি কর্মীর দেহ, রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য পুলিশের ধাওয়ায় মাঝ নদীতে পাথরবোঝাই ট্রাক্টর ফেলে চম্পট জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রের নথি খতিয়ে দেখতে হুগলি-চুঁচুড়া ও বৈদ্যবাটি পুরসভায় পুলিশি অভিযান হেরিটেজ কলেজের রক্তদান শিবির ও গুণীজন সংবর্ধনা  গোবিন্দপুর রেল দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণ তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী, দিলেন চাকরির আশ্বাস মেজর সত্য গুপ্ত: নেতাজীর বিপ্লবী অভিযাত্রার এক অবিস্মরণীয় সহযোদ্ধা যন্তরমন্তরে ৬ বছরের শিশুর মন্তব্য ঘিরে আলোচনা লাঠির ঘায়ে কি আস্থা ফেরে? নিট বিতর্ক: গণতন্ত্রের কঠিন পরীক্ষা ক্ষমতার অহংকার ইতিহাসের কাছে কখনো জয়ী হয়নি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতে বিক্ষোভ, সহায়ককে মারধরের অভিযোগ সেবকে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা! নন্দী সেতুর নিচে পড়ল গাড়ি, নিহত ২, আহত ৩ নিটে ৬২১ নম্বর, অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্ক ৪৮৭৪: চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নপূরণের পথে রায়নার কৃষক-কন্যা বিপাশা হারারেতে টি-টোয়েন্টি যুদ্ধ, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভারতের প্রথম পরীক্ষা রানাঘাট বিজ্ঞান মঞ্চের উদ্যোগে সফলভাবে পালিত হলো অরণ্য সপ্তাহ কর্মসূচি চন্দননগরে ৭০ হাজার চারা বিতরণের দাবি বন দপ্তরের বাঁকুড়ায় এসএফআই-এর প্রতীকী অনশন, শিক্ষা ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের দাবি বাঘ সংরক্ষণ বিষয়ক কর্মশালা  নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র-যুবদের প্রতীকী অনশন চাকরি বিক্রির অভিযোগে অনুব্রত মণ্ডল-সহ ৬ জনের নামে মামলা ধুলিয়ানে সম্প্রীতির মঞ্চে নানা ধর্মের প্রতিনিধিরা, ঐক্য-সৌহার্দ্যের বার্তা সদ্ভাবনা মঞ্চের সময়ের ক্যানভাসে স্বপ্নের তুলি, নিউ জার্সিতে ফেরান তোরেসের মহাকাব্যিক অমরত্ব ট্রফি জয়ের পাশাপাশি একগুচ্ছ ব্যক্তিগত পুরষ্কার জিতলেন স্পেনের খেলোয়াড়রা গলি থেকে রাজপথ-লামিনে ইয়ামালের উত্থানের গল্প দৈনিক জনকণ্ঠের পাতায় দাম পেল না রোহিতের দুরন্ত শতরান, ইংল্যান্ডের কাছে ম্যাচ ও সিরিজ হারলো ভারত মালদা মুসলিম ইনস্টিটিউটে সভা ও বই প্রকাশ প্রথম বছরেই নিটে সাফল্য, কালিয়াচক ক্রিসেন্ট অ্যাকাডেমির জোড়া কৃতিত্ব কুলপির নাসিফার স্বর্ণপদক জয় মদ্যপ গেটম্যানের গাফিলতিতে রেল দুর্ঘটনা, চার শিশু-সহ নিহত ৫ অবসান হল একটি যুগের, জীবনাবসান স্যর গ্যারি সোবার্সের পাকিস্তান ক্রিকেটে আবার অন্ধকার, ডোপ টেস্টে ধরা পড়লেন মহম্মদ নওয়াজ একগুচ্ছ রেকর্ডের সামনে ফুটবলের বরপুত্র, ফাইনালেই গড়তে পারেন ১১ রেকর্ড! রিশাদের ঘূর্নি আর তানজিদ, তামিমের ব্যাটিংয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল টাইগাররা কাজে এল না বিরাটের দারুন ব্যাটিং, রুটের ব্যাটে হার ভারতের, সিরিজে সমতা ফেরাল ব্রিটিশরা গ্রন্থাগারিক দিবসের প্রাক্কালে ‘রবীন্দ্র দৃষ্টিতে গ্রন্থাগার’ শীর্ষক আলোচনা সভা জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে আজ আবারও মাঠে সাদাকালো শিবির, সামনে এরিয়ান রুক্ষ মাটিতে মিয়াওয়াকি বনাঞ্চল, ছায়া ঘেরা স্কুলেই চলছে পাঠ মেহতাবের কাছে আটকাল মোহনবাগান,পয়েন্ট ভাগাভাগি খিদিরপুরের সাথে খারেজী মাদ্রাসার বর্তমান অবস্থা, সমস্যা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বারুইপুরের সূর্যপুরের স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল জয়নগরে জন্ম শতবর্ষের আলোয় মহানায়ক উত্তমকুমার  সৃজন সাথী শিল্পী চর্চা কেন্দ্রের চিকিৎসক দিবস ও উত্তমকুমার স্মৃতি সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে আমেরিকার আপত্তি কেন?

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, দুপুর ৩:৩৪ | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, দুপুর ৩:৩৪

আবু হুরাইরাহ

নতুন পয়গাম:

ইসরাইল ও ফিলিস্তিন দ্বন্দ্ব-সংঘাত বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ ও সবচেয়ে সহিংস। এর সূত্রপাত একশ বছরেরও বেশি আগে। দীর্ঘ এই সময়ে ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে কয়েক দফা যুদ্ধ বেধেছে। হয়েছে ফিলিস্তিনিদের ইসরাইলবিরোধী অভ্যুত্থান ‘ইন্তিফাদা’, হয়েছে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে পাল্টা ইসরায়েলি প্রতিশোধ ও দমনাভিযান। ফিলিস্তিনিদের রাষ্ট্র গঠন ও স্বাধীনতার অধিকার নিয়ে ঐতিহাসিক এই বিবাদেরই পরিণতি গাজায় চলা যুদ্ধ।

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার স্বপ্ন বহু দশক ধরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়াও চলছে বহু দশক ধরে। ১৯৪৫ সালের পর রাষ্ট্রসংঘের ১৫১টি সদস্য দেশে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি বা মর্যাদা দিয়েছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনো দেয়নি। তার এই অবস্থান শুধু ইসরাইল–ফিলিস্তিন সম্পর্ককেই নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত ভূ-রাজনীতি, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
আমেরিকার অবস্থান মূলত ‘দুই রাষ্ট্র সমাধান’ নীতির ওপর নির্ভরশীল। এর অর্থ হল, ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলি পক্ষের মধ্যে সরাসরি আলোচনা ও চুক্তির মাধ্যমে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। কিন্তু ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য দাবির পক্ষে পদক্ষেপ না করা, সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরাইলকে সব দিক থেকে সমর্থন, সহায়তা ও মদদ দেওয়া মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতিবন্ধক।
ওয়াশিংটনের এই পক্ষপাতদুষ্ট অবস্থান বিভাজন বাড়িয়েছে, শান্তি প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করেছে এবং ফিলিস্তিনিদের আন্তর্জাতিক মর্যাদা সীমিত করেছে। বিপরীতে, ইসরাইলকে রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে শক্তিশালী, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একগুঁয়ে ও বেপরোয়া রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
২০১২ সালে রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনে ফিলিস্তিনকে ‘সদস্য বহির্ভূত পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র’ করা হয়। ২০১৫ সালের মধ্যে ১৩৮টি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়। তারপর থেকে গত এক দশকে আরো কয়েকটি দেশ স্বীকৃতি দেয়। রবিবার ব্রিটেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও পরদিন পর্তুগাল মিলিয়ে মোট ১৫১ দেশ স্বীকৃতি দিল। কিন্তু তবুও ফিলিস্তিন স্বাধীন রাষ্ট্র হয়নি। ২০২৪ সালের এপ্রিলে ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদ অর্জনের প্রস্তাব নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপন করা হয়, কিন্তু আমেরিকা তা ভেটো দিয়ে থামায়। পরের মাসেই সাধারণ অধিবেশনে এক প্রস্তাব পাস হয়, যা ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রসংঘের পূর্ণ সদস্য হওয়ার যোগ্য হিসেবে নিরাপত্তা পরিষদকে পুনর্বিবেচনা করতে বলে।
আমেরিকা সব সময় বলে এসেছে, ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে হতে হবে, একতরফা বা আন্তর্জাতিক চাপের মাধ্যমে নয়। ১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা, ১৯৬৭ সালে ছয় দিনের যুদ্ধ ও ১৯৯৩ সালের অসলো শান্তিচুক্তি — সব মিলিয়ে ‘দুই রাষ্ট্র সমাধানের’ রূপরেখা তৈরি হয়েছে। কিন্তু তবুও আমেরিকাই তাদের মস্তিষ্কপ্রসূত এই নীতিকে বাস্তবায়িত হতে দিচ্ছে না। এই নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের ৬ বার ভেটো দিল তারা।
আমেরিকার ফিলিস্তিন-নীতি প্রায়ই তার ইসরাইলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্ক দিয়ে প্রভাবিত। ১৯৪৮ সাল থেকে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার পর মার্কিন সেনা সাহায্য, উন্নত অস্ত্র সরবরাহ, গোয়েন্দা তথ্য ও কূটনৈতিক সমর্থন দিয়ে এসেছে দেশটিকে। শুধু মার্কিন অস্ত্র নয়; ইসরাইলকে সাইবার নিরাপত্তা, গোয়েন্দা সহযোগিতা, সামরিক প্রশিক্ষণ সবকিছু দিয়ে চলেছে আমেরিকা। আমেরিকা যাতে সবসময় ইসরাইলের পাশে থাকে, সে জন্য মার্কিন মুলুকে অতি সক্রিয় ভূমিকা নেয় ইহুদি যায়নবাদী লবি। এদের নাম ‘আইপ্যাক’। এদের লম্বা হাত হোয়াইট হাউস থেকে ওভাল অফিস পর্যন্ত। এই ইহুদি লবিই আমেরিকার বিদেশনীতি এবং বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক নীতিমালা তৈরিতে প্রধান ভূমিকা রাখে।
ফিলিস্তিন যাতে কখনো ঐক্যবদ্ধ হয়েে স্বাধীন রাষ্ট্র হতে না পারে, সেজন্য এই ইহুদি লবি ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক বা পশ্চিম তীরে ফাতাহ এবং গাজা উপত্যকায় হামাসকে বিভক্ত করে রেখেছে। হামাস ও ফাতাহের মধ্যে দ্বন্দ্ব বা বিভাজন ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পথে আরেক অন্তরায়। হামাসকে আমেরিকা, ইউরোপ এবং ইসরাইল সন্ত্রাসী তকমা দিয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে। নরমপন্থী ফাতাহকে পশ্চিমারা এতটা খারাপ নজরে দেখে না। তাই ফাতাহ সরকার দ্বারা নিয়‌ন্ত্রিত পশ্চিম তীরে তারা সচরাচর হামলা করে না। যা কিছু হামলা, আক্রমণ, আগ্রাসন সবই হয় মূলত হামাস প্রভাবিত গাজায়।
আন্তর্জাতিক বিচার আদালত আইসিজে-র ২০২৪-এর পরামর্শমূলক রায় হল, ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরাইলের ফিলিস্তিনি অঞ্চল (গাজা, পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম) দখল করা অবৈধ। ইসরাইলকে এসব দখলীকৃত এলাকা ছাড়তে হবে। দখল করা স্থানে ইহুদি বসতি নির্মাণ, এর সম্প্রসারণ ও শিক্ষানীতি বৈধ নয়। এদিকে ২০১৫ সালে ‘রোম সনদ’-এ সই করেছে ফিলিস্তিন। এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আইসিসি-কে গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলি যুদ্ধাপরাধ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্তের এখতিয়ার দিয়েছে। এসব আইনি ভিত্তি শক্তিশালী হলেও ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাধা এবং মূলত আমেরিকার সদিচ্ছার অভাব স্পষ্ট।

আরও পড়ুন:

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি শুধু মার্কিন বিদেশনীতি নয়, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি এই স্বীকৃতির বিরুদ্ধে। আবার ডেমোক্র্যাট পার্টিও প্রায় একই নীতি নিয়ে চলে। তবে তাদের মধ্যে প্রগতিশীলেরা স্বীকৃতির পক্ষে। কিন্তু ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতৃত্ব এ ব্যাপারে সতর্ক।
অন্যদিকে মিসর, জর্ডান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে আমেরিকার ঘনিষ্ঠতা মধ্যপ্রাচ্যের নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলে। অনেক মুসলিম দেশ ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার পক্ষে হলেও নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও অর্থনীতিকে অগ্রাধিকার দেয় তারা। স্বভাবতই তারা নিজেদের স্বার্থে আমেরিকা ইসরাইলের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারে না। মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর এই সুবিধাবাদী নীতিকে কাজে লাগাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মুসলিম দেশগুলো ইসরাইলের সঙ্গে চুক্তি করলেও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার ব্যাপারে অতটা মাথা ঘামায় না।
এদিকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনের পক্ষে আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন অনেক বেশি। কিন্তু আমেরিকার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থান, ইসরাইলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, ফিলিস্তিনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, হামাস-ফাতাহ বিভাজন, এবং মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূ-রাজনীতি এবং সর্বোপরি মুসলিম বিশ্বের সুবিধাবাদী নীতি সম্মিলিতভাবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করছে। এইসব ফ্যাক্টরকে সামনে রেখেই নেতানিয়াহু বলছেন, ইউরোপের দেশগুলো যতই স্বীকৃতি দিক, ফিলিস্তিনকে তারা কখনোই স্বাধীন রাষ্ট্র হতে দেবে না। যারা স্বীকৃতি দিচ্ছে, তারাও নেহাৎ চক্ষুলজ্জা বা মুখরক্ষার জন্য এটা করছে। এরাই আবার ইসরাইলকে অর্থ ও অস্ত্র সহযোগিতা দিয়ে চলেছে। শান্তির পূজারী সাজলেও এরা আসলে যুদ্ধ ব্যাপারী।

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder