BREAKING:
পরাজিত মহামেডান, সাদাকালো শিবিরকে হারিয়ে দুরন্ত জয় পিয়ারলেসের সুন্দরবনের জলবায়ু বিপন্নতা নিয়ে কাকদ্বীপে মিডিয়া ওয়ার্কশপ NEET-২০২৬ উত্তীর্ণ কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা ফারাক্কায় সোনাল দিনুশার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ম্যাচ বাঁচাল শ্রীলঙ্কা,সিরিজ সেরা পাড়িক্কল ব্যান্ডেলে এখন থেকে জমবে ‘কারিম’স’-এর আসর, দিল্লির স্বাদ এবার হাতের নাগালে রাখির বন্ধনে সম্প্রীতির বার্তা, দৃষ্টিহীন ও বিশেষভাবে সক্ষমদের মুখে হাসি সম্পত্তি জালিয়াতি মামলায় পুলিশি অ্যাকশন: গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী, আইনি পদক্ষেপে স্বস্তি বৃদ্ধা মণিকা চক্রবর্তীর চূড়াভান্ডারে পালাবদলের বোর্ড, প্রধান কল্পনা  উপপ্রধান অনিতা! আবির-মিষ্টিতে উচ্ছ্বাস কর্মী-সমর্থকদের দেগঙ্গায় আট দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টে মাদকবিরোধী সচেতনতার বার্তা গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর দৌড়,যা মৈই ছাড়া নামেই খ্যাত দ্বিতীয় টেস্টে আজ মুখোমুখি ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা,থাকছে বৃষ্টির ভ্রুকুটি। চড়া দামের খাঁড়া; ভারতের ক্রিকেট টাইটেল স্পনসরশিপ নিয়ে জটিলতায় বিসিসিআই একদিনে পড়লো ১৮ উইকেটে। হেডিংলিতে লজ্জার হার,ইংরেজ পেসারদের কাছে মুখ থুবড়ে পড়লো পাক ব্যাটিং। প্রতিশোধ বনাম শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই: ডুরান্ড ফাইনালে মহারণের অপেক্ষায় যুবভারতী রাজীব গান্ধীর জন্মদিনে ফুটবল প্রতিযোগিতা ও কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা বকেয়া বেতনের জট কাটেনি, পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে অস্থায়ী কর্মীরা কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন পুরপ্রধান, আদালতে জামিন সম্পত্তির লোভে বাবাকে খুন, চন্দননগর আদালতে যাবজ্জীবন ছেলে-বৌমার ভারত-ব্রাজিল মহাদ্বৈরথের প্রস্তুতি তুঙ্গে: যুবভারতী পরিদর্শনে ব্রাজিলের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল টাইব্রেকারে নর্থইস্টকে হারিয়ে ফাইনালে মোহনবাগান! শিরোপার মঞ্চে এবার কলকাতা ডার্বি” হেডিংলিতে পেস-ঝড়ে বিধ্বস্ত পাকিস্তান ১৭১ রানে অল-আউট, প্রথম দিনেই এগিয়ে ইংল্যান্ড চম্পাহাটির বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে জখম অন্তত ৫ শ্রমিক ভোটাধিকার পুনর্বহাল ও নাগরিক পরিষেবা রক্ষার দাবিতে ডায়মন্ড হারবারে মিছিল জয়নগর কুলতলি গ্রামীণ হাসপাতালে বেহাল সরকারি আবাসন মীনা মঞ্চের উদ্যোগে মাদ্রাসায় প্রজেক্ট বিতরণ ডুরান্ড কাপ সেমিফাইনাল সুথারের অতিমানবিক পারফরম্যান্স,গল-এ প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজে এগোলো ভারত দক্ষিণ আফ্রিকাকে হাফ ডজন গোলে উড়িয়ে সেমিফাইনালের আরও কাছে ভারত মাদক, জুয়া-সাট্টা ও নারী নির্যাতন রুখতে বহড়ুতে সচেতনতা সভা জয়নগরে বিজেপি যুব মোর্চার প্রতিবাদ মিছিল প্রবল বৃষ্টিতে জলমগ্ন জয়নগর মজিলপুর, হাঁটু সমান জলে দুর্ভোগ সমাজসেবায় কানাড়া ব্যাঙ্ক, শিক্ষা ও গ্রামোন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নবোদয় সাহিত্য পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন ও স্বাধীনতা দিবস পালন মালদহে চালু আয়ুষ্মান ভারত, স্বাস্থ্য পরিষেবায় নতুন দিশার আশাবাদ জুট মিল শ্রমিকদের ব্যাতিক্রমী স্বাধীনতা দিবস উদযাপন নেতাজির অপমানের প্রতিবাদে মালদহে এসএফআইয়ের ‘আজাদি র‍্যালি’ বেলডাঙ্গা হাইস্কুলে SIO-র আয়োজনে বসেআঁকো প্রতিযোগিতা স্বাধীনতা দিবসে অনবদ্য জয় দিয়ে হকি বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল ভারত আজ কোয়ার্টারের মহারণ! অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস,ডারউইনে ৯ উইকেটে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি ও একজন দিব্যাঙ্গ মানুষের যন্ত্রনা ‘হর ঘর তিরঙ্গা’য় সাইকেল নিয়ে ধূপগুড়ির রাজপথ পরিক্রমা করলেন মহকুমা শাসক শ্রদ্ধা সুব্বা ব্যান্ডেলে এবার খাদ্যরসিকদের জন্য দিল্লির কারিম’স নেতাজিকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে, অনন্ত মহারাজকে ভর্ৎসনা  কার্তিক মহারাজের বনকর্মীদের তৎপরতায় বাঁচল বাজপাখির প্রাণ  অবশেষে সেলিমার দিল্লি যাত্রা, বিধায়কের সহায়তায় মালদহের রেশম চাষের ইতিহাস ও বর্তমান সরকারের উদ্যোগ ওয়েটল্যান্ডে চলল বুলডোজার, ভাঙড়ে বাড়ি গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন বনগাঁ সীমান্তে গ্রেফতার এক পাকিস্তানি ভোট শেষ, তবু খুলল না স্কুল! চার মাস ধরে থমকে পড়াশোনা প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করার দাবি, এসডিওকে স্মারকলিপি গরু শনাক্তে হাটে উত্তেজনা: চোর না ভিকটিম, কেন মামলা না করার সিদ্ধান্ত মালিকের  ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে শিক্ষকের ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের’ অভিযোগে উত্তাল স্কুল চার দিন পানীয় জল নেই ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে, চত্বরজুড়ে আবর্জনার স্তূপ ফালাকাটায় উদ্ধার মা গণ্ডারের মৃতদেহ, তীব্র চাঞ্চল্য   অপেক্ষার অবসান, দীর্ঘদিন পর টেস্ট দলে ফিরলেন সরফরাজ খান ক্রিকেটে আবারও রাজনীতির কালোছায়া লাভলিনা-মীরাবাই-নরেন্দ্র’র গল্প শুনে মুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী সাহালের হ্যাটট্রিকে সিআইএসএফকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে পরের রাউন্ডে মোহনবাগান বড় ধাক্কা ভারতীয় শিবিরে, ছিটকে গেলেন সাই সুদর্শন খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ওয়ার্কলোড সামলাতে বিশেষ পদক্ষেপ থম্পসনের তোপে থরহরি কম্পন বাংলাদেশ শিবিরে, ৫৪ রানে শেষ টাইগাররা ক্যালকাটা পুলিশকে ২-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষে মহামেডান গুজরাট, মুম্বইয়ের পর কি এবার কলকাতা? হার্দিকের সম্ভাব্য নতুন ঠিকানা নিয়ে জোর চর্চা জয়ের লক্ষ্যে ক্যালকাটা পুলিশের মুখোমুখি মহামেডান স্পোর্টিং সিএফএলে আবার অঘটন, এবার ভবানীপুরের কাছে হার বাগানের টানা দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়ার সেরা ক্রিকেটার ট্রাভিস হেড বাইশ গজে আবার মহারণ, এশিয়া কাপে ৫ সেপ্টেম্বর ভারত-পাক মুখোমুখি বৃষ্টিতে ভেসে গেল আয়ারল্যান্ডের বিশ্বকাপের স্বপ্ন, খেলতে হবে বাছাইপর্ব ইস্তাম্বুলে বীরের বেশে সালাহ, ঐতিহাসিক চুক্তিতে শুরু নতুন অধ্যায় ​ক্ষমা চেয়ে পদে বহাল ইনফান্তিনো ২৫ কোটির প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরপর চেক বাউন্স! মহামেডান থেকে ‘বিতাড়িত’ হুমায়ুন, অথৈ জলে ক্লাব সাজিদের ঘূর্নি আর বাবরের ব্যাটে তিন বছর পর বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয় পাকিস্তানের আংরাভাষা ২ নং পঞ্চায়েতে প্রধান-সহ আট তৃণমূল সদস্যের দলত্যাগ মছলন্দপুর রেলগেট থেকেই ভাঙা রাস্তা নতুন ট্রেন, প্ল্যাটফর্ম সংযুক্তিকরণ ও রেল প্রকল্পের দাবিতে সরব যাত্রী ও নাগরিক সংগঠন টানা বৃষ্টিতে ফুলে-ফেঁপে উঠল ময়ূরাক্ষী,  বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পূর্ণবয়স্ক দাঁতাল হাতির মৃত্যু  চন্দনা বাউরীর মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ আশা কর্মীদের বেহাল দশা, পাকা রাস্তার দাবি ধুলিয়ান পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব কড়িয়ালি বনের সৌন্দর্যায়ন ও মিনি-জু হিসেবে গড়ে তোলার দাবি পাটচাষে আর লাভ নেই! দরপতনে দিশেহারা কৃষকরা মোজাফফর আহমেদের ১৩৮তম জন্মবার্ষিকী পালিত তাইপেই ওপেনে ইতিহাস, ১৮ বছর পর ভারতকে খেতাব এনে দিলেন ১৭ বছরের তন্বী ​সীমানার মাইন থেকে গ্লাসগোর সোনা, সেনানায়ক সোমন রানার অদম্য রূপকথা সিএফএল-এ জয়ের ধারা বজায় রাখতে বিএসএসের বিরুদ্ধে নামছে ইস্টবেঙ্গল ডুরান্ডে বড় অঘটন! নবাগত সমলেশ্বরীর কাছে ৩-২ গোলে হারল মহামেডান ডুরান্ডে গোলের বন্যা, সিআইএসএফকে ৮-০ গোলে বিধ্বস্ত করল ইস্টবেঙ্গল ২৪ বছর পর আফ্রিকায় বিশ্বকাপ, ৩ দেশ ১২ শহরের নাম চূড়ান্ত করল আইসিসি বিদায় রক্ষণের শিল্পী, প্রয়াত ইতালির বিশ্বকাপ জয়ী ফ্রাঙ্কো বারেসি স্বপ্ন সত্যি কলকাতায়; পুজোর আগেই যুবভারতীতে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নামছে ভারত নীল ছেড়ে গেরুয়া, হকি বিশ্বকাপের আগে জার্সি বদল ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক ডার্বি জয়ের আত্মতুষ্টি নয়, জয়ের ছন্দে থাকাই চ্যালেঞ্জ মোহনবাগানের ভারতের ধ্রুপদী যোদ্ধার বিদায়, শান্ত নায়ক অজিঙ্ক রাহানের অবসর ঘরের মাঠে সুরুচি-বধ মহামেডানের, তবুও চিন্তার ভাজ কপালে ডার্বি হারের পর জয়ে ফেরার মিশন বিসিসিআই-এর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে তামিম ইকবাল চেন্নাই ছেড়ে ইংল্যান্ডের হেড কোচ ফ্লেমিং, ফের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট

মুর্শিদাবাদ: মুর্শিদকুলি থেকে মমতা

প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, দুপুর ১২:৫৯ | আপডেট: ২০ জানুয়ারী ২০২৬, দুপুর ১:১৪
৫৩২৪ বর্গকিমি. আয়তনবিশিষ্ট মুর্শিদাবাদ এই মুহূর্তে দেশের নবম ঘনবসতিপূর্ণ জেলা। ২০২৫ সালে জনসংখ্যা আনুমানিক ৯০ লাখ। ১৯০১ সালে মুর্শিদাবাদ জেলার জনসংখ্যা ছিল ১৩ লক্ষ ২৩ হাজার ৪৭৯। সর্বশেষ ২০১১ সালের সেন্সাস অনুয়ায়ী ৭১ লক্ষ ৩ হাজার ৮০৭। ২০১১ আদমশুমারি অনুসারে এই জেলার জনসংখ্যার ৩৩.২১ শতাংশ হিন্দু ও ৬৬.২৭ শতাংশ মুসলমান, ১২.৯৮ শতাংশ তপশিলি জাতি এবং ১.২০ শতাংশ তপশিলি উপজাতি। এই জেলায় রয়েছে তিনটি লোকসভা, ২২টি বিধানসভা, আটটি পৌরসভা, পাঁচটি মহকুমা ও ২৬টি ব্লক।

মজিবুর রহমান:মুর্শিদাবাদ সম্পর্কে দুটি পরস্পর বিপরীতমুখী তথ্য রয়েছে। প্রথমটি হল, মুর্শিদাবাদ একসময় বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার সমৃদ্ধশালী রাজধানী ছিল। দ্বিতীয়টি হল, মুর্শিদাবাদ স্বাধীন ভারতের সবচেয়ে পশ্চাৎপদ জেলাগুলোর অন্যতম। অতীতের গৌরব আর বর্তমানের গ্লানি নিয়ে মুর্শিদাবাদের পথ পরিক্রমা অব্যাহত রয়েছে। তবে গ্লানির পরিমাণ কমিয়ে গৌরবের ঘটনা বৃদ্ধির লড়াই মুর্শিদাবাদবাসী জারি রেখেছে।
‘মুর্শিদাবাদ’ নামের উদ্ভব ১৭০৪ সালে নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ-র নামানুসারে। মুর্শিদাবাদের পূর্বনাম ছিল ‘মুকসুদাবাদ’ বা ‘মুখসুদাবাদ’; আর মুর্শিদকুলি খাঁ-র পূর্বনাম ছিল করতলব খাঁ (১৬৬০-১৭২৭)। করতলব খাঁ ১৭০৪ সালে বাংলার দেওয়ানখানা ঢাকা থেকে ভাগীরথীর তীরবর্তী মুকসুদাবাদে স্থানান্তর করেন। একটি বিস্তীর্ণ জনপদের প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্র হওয়ার কারণে মুর্শিদাবাদে রাজ-কর্মচারী, অভিজাত ও বণিক শ্রেণির বসতি বৃদ্ধি পায়। উপমহাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত এবং ইউরোপ থেকে বহু মানুষ বাণিজ্য করতে এখানে আসেন। ফলে, মুর্শিদাবাদ একটি কসমোপলিটন শহরে পরিণত হয়। নবাবি আমলে মুর্শিদাবাদের আর্থিক বিকাশ ছিল চোখে পড়ার মতো। নবাবদের কোষাগার বিপুল ধন-সম্পদে পরিপূর্ণ থাকত। জগৎশেঠ, উমিচাঁদ ও খোজা ওয়াজিদদের মতো বণিকরাজরা সমগ্ৰ এশিয়া মহাদেশের অর্থনীতির অন্যতম নিয়ন্ত্রক ছিলেন। লর্ড ক্লাইভের বর্ণনা অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদ তখন লন্ডনের মতোই উন্নত ছিল। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশিতে নবাবের সেনাবাহিনীর সঙ্গে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সেনাবাহিনীর সংঘটিত যুদ্ধে নবাবের বাহিনী পরাজিত হয়। সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় তথা রবার্ট ক্লাইভের বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলা তথা ভারতীয় উপমহাদেশে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আর্থিক ও প্রশাসনিক আধিপত্যের সূচনা হয়।
১৭৭২ সালে গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় স্থানান্তর করেন। তবে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি অথবা ব্রিটিশ শাসনের অধীনে মুর্শিদাবাদের নবাবদের স্বাধীনতা না থাকলেও তাঁদের শাসনাধিকার পুরোপুরি কেড়ে নেওয়া হয়নি। প্রকৃতপক্ষে, ১৯৭১ সালে ২৬তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে ‘রাজন্য ভাতা’ বিলোপ পর্যন্ত খাতা-কলমে কেউ না কেউ ‘নবাব’ থেকেছেন।
উপমহাদেশে বিদেশি শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শনে মুর্শিদাবাদ কখনও পিছিয়ে থাকেনি। ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ প্রবর্তনের বিরুদ্ধে রেশম চাষিদের বিদ্রোহ (১৭৯৩), ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ (১৭৬০-১৮০০), সাঁওতাল বিদ্রোহ (১৮৫৫), সিপাহী বিদ্রোহ (১৮৫৭), নীল বিদ্রোহ (১৮৫৯-৬২), বঙ্গভঙ্গ বিরোধী স্বদেশী আন্দোলন (১৯০৫-১১), অসহযোগ আন্দোলন (১৯২০-২২) ও ভারত ছাড় আন্দোলনে (১৯৪২) মুর্শিদাবাদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্ৰহণ থেকেছে। ১৯৪৭ সালের ১৪-১৫ আগস্ট ভারত ভাগ ও স্বাধীনতা অর্জনের মুহূর্তে মুর্শিদাবাদকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে ১৮ আগস্ট মুর্শিদাবাদ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য তথা ভারত রাষ্ট্রের একটি জেলা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।
ভারতের সংসদীয় রাজনীতিতে মুর্শিদাবাদ জেলার একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। বহু বছরের সাংসদ ত্রিদিব চৌধুরী (১৯১১-৯৭) আরএসপি-র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী ছিলেন। এই জেলার ভূমিপুত্র এ.কে.এম জাকারিয়া ও সৈয়দ বদরুদ্দোজা কলকাতার মেয়র ছিলেন যথাক্রমে ১৯৩৮-৩৯ ও ১৯৪৩-৪৪ সালে। ১৯৯১ সালে ‘ধর্মস্থান আইন’ প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন জঙ্গিপুরের সাংসদ জয়নাল আবেদীন। জঙ্গিপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হন প্রণব মুখার্জী, যিনি বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন এবং ২০১২-১৭ দেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন। অধীররঞ্জন চৌধুরী রেল প্রতিমন্ত্রী ও লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতাছিলেন। ১৯৭২-৭৭ এরাজ্যে সিদ্ধার্থ শংকর রায় সরকারে সবচেয়ে প্রভাবশালী মন্ত্রী ছিলেন লালগোলার আব্দুস সাত্তার।
৫৩২৪ বর্গকিমি. আয়তনবিশিষ্ট মুর্শিদাবাদ এই মুহূর্তে দেশের নবম ঘনবসতিপূর্ণ জেলা। ২০২৫ সালে জনসংখ্যা আনুমানিক ৯০ লাখ। ১৯০১ সালে মুর্শিদাবাদ জেলার জনসংখ্যা ছিল ১৩ লক্ষ ২৩ হাজার ৪৭৯। সর্বশেষ ২০১১ সালের সেন্সাস অনুয়ায়ী ৭১ লক্ষ ৩ হাজার ৮০৭। ২০১১ আদমশুমারি অনুসারে এই জেলার জনসংখ্যার ৩৩.২১ শতাংশ হিন্দু ও ৬৬.২৭ শতাংশ মুসলমান, ১২.৯৮ শতাংশ তপশিলি জাতি এবং ১.২০ শতাংশ তপশিলি উপজাতি। এই জেলায় রয়েছে তিনটি লোকসভা, ২২টি বিধানসভা, আটটি পৌরসভা, পাঁচটি মহকুমা ও ২৬টি ব্লক।
মুর্শিদাবাদ জেলা কৃষিপ্রধান। বৃটিশ আমলে কয়েকটি চিনিকল স্থাপিত হলেও বর্তমানে সেগুলো অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে। ১৯৮৬ সালে ফারাক্কায় এবং ২০০৮ সালে সাগরদীঘিতে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। জঙ্গিপুর মহকুমা তথা মুর্শিদাবাদ জেলা এই মুহূর্তে রাজ্যের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ বিড়ি উৎপাদন কেন্দ্র। এই জেলার রাজমিস্ত্রিদের দেশব্যাপী খ্যাতি রয়েছে। এখানকার পরিযায়ী শ্রমিকরা দেশের সীমানা ছাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এই জেলার রেশম শিল্প ও কাঁসা শিল্প বিখ্যাত।
মুর্শিদকুলি খাঁ-র আমলে মুর্শিদাবাদ আরবি, ফার্সি ও সংস্কৃত শিক্ষার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র ছিল। রানি ভবানীর (১৭৪৮-১৮০৩) পৃষ্ঠপোষকতায় ও অর্থানুকূল্যে বহু অবৈতনিক টোল ও চতুষ্পাঠী স্থাপিত হয়। ব্রিটিশ আমলে খ্রিস্টান মিশনারিরা এই জেলায় বেশ কয়েকটি স্কুল গড়েন। রাজা রামমোহন রায় (১৭৭২-১৮৩৩) বিদ্যাচর্চা করতে মুর্শিদাবাদ আসেন। রাজা কৃষ্ণনাথ রায়ের (১৮২২-৪৪) বিধবা পত্নী রানি স্বর্ণময়ীর (১৮২৭-৯৭) উদ্যোগে ১৮৫৩ সালে স্থাপিত হয় কৃষ্ণনাথ কলেজ স্কুল ও বহরমপুর কলেজ। ১৯০২ সালে বহরমপুর কলেজের নামকরণ হয় কৃষ্ণনাথ কলেজ। ১৯০৯ সালে নবাব ওয়াসেফ আলী মির্জা (১৮৭৫-১৯৫৯) স্থাপন করেন নবাব বাহাদুর ইনস্টিটিউশন।
১৯২৭ সালে স্থাপিত হয় ‘গভর্নমেন্ট কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেক্সটাইল টেকনোলজি’। বর্তমানে এই জেলায় ১০টিরও বেশি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হলপিটাল’। ‘মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়’ স্থাপিত হয় ২০২১ সালে। দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া প্রতিটি ব্লকে এক বা একাধিক সরকারি ডিগ্ৰি কলেজ রয়েছে। প্রায় প্রতিটি পাড়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিশু শিক্ষা কেন্দ্র অথবা অঙ্গন ওয়াড়ি কেন্দ্র রয়েছে। প্রতিটি গ্ৰাম পঞ্চায়েতে রয়েছে হাইস্কুল। পশ্চিমবঙ্গের ৬১৪টি মাদ্রাসার মধ্যে মুর্শিদাবাদ জেলাতেই রয়েছে ১০২টি। বিগত ১০-১২ বছরে রাজ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রচুর সরকারি প্রকল্প চালু করা হয়েছে। তবে এগুলো মুর্শিদাবাদ জেলায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাঙ্গনে ধরে রাখতে খুব একটা সফল হয়নি। এজন্য এই জেলায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে না। নাবালিকা বিবাহে রাশ টানা যায়নি। K2 কন্যাশ্রী প্রাপকদের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ বিবাহিতা। মুর্শিদাবাদ জেলায় সাক্ষরতার হার ছিল ১৯৫১ সালে ১২.৬৮ শতাংশ, ২০১১ সালে ৬৬.৫৯ শতাংশ। উল্লেখ্য, ২০১১ সালে রাজ্যে সাক্ষরতার হার ছিল ৭৬.২৬ শতাংশ।
উর্দুভাষী নবাবদের আমলে মুর্শিদাবাদ জেলায় বাংলা ভাষায় ভালই সাহিত্য সৃষ্টি হত। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-৯৪), মদনমোহন তর্কালঙ্কার (১৮১৭-৫৮), দীনবন্ধু মিত্র (১৮৩০-৭৩) প্রমুখ বহু বিশিষ্ট সাহিত্যিক কর্মসূত্রে মুর্শিদাবাদ জেলায় অবস্থান করে জেলার সাহিত্যচর্চাকে সমৃদ্ধ করেন। মহারাজা মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দীর পৃষ্ঠপোষকতায় ১৯০৭ সালে কাশিমবাজারে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সভাপতিত্বে ‘বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হয়। মুর্শিদাবাদ জেলার মানুষ আচার্য রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী, সরোজ কুমার রায় চৌধুরী, রেজাউল করিম, মণীশ ঘটক, সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ, শরৎচন্দ্র পণ্ডিত, নিরুপমা দেবী, মহাশ্বেতা দেবী, আবুল বাশার ও নজরুল ইসলাম প্রমুখ বাংলা সাহিত্যের স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব। কবি, ছড়াকার, ছোটগল্পকার, ঔপন্যাসিক, সংবাদপত্রের লেখক, প্রবন্ধকার অথবা মুর্শিদাবাদ জেলার গবেষক হিসেবে এই জেলার অনেকেই দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন, যেমন- বিজয় বন্দ্যোপাধ্যায়, রামপ্রসাদ পাল, অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়, জয়নাল আবেদীন, সৌম্যেন্দ্র কুমার গুপ্ত, পুলকেন্দু সিংহ, জগৎবন্ধু বিশ্বাস, কমল কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় ও দীপঙ্কর চক্রবর্তী। এখন ভাল লিখছেন দুলাল কুমার বসু, কাজী আমিনুল ইসলাম, শক্তিনাথ ঝা, খাজিম আহমেদ, সাবিত্রী প্রসাদ গুপ্ত, নিখিল কুমার সরকার, সমীর কুমার ঘোষ, জয়নূল আবেদীন, অরূপ চন্দ্র, কুণাল কান্তি দে, মইনুল হাসান, চন্দ্র প্রকাশ সরকার, প্রকাশ দাস বিশ্বাস ও নীহারুল ইসলাম।
মুর্শিদাবাদ জেলায় অনেক স্থাপত্য রয়েছে, যা পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ নির্মিত কাটরা মসজিদ, নবাব হুমায়ূন জা নির্মিত হাজার দুয়ারী, নবাব মনসুর আলী খান নির্মিত ইমামবাড়া, রাজা ধনপৎ সিং দুগার ও লক্ষ্মীপৎ সিং দুগার নির্মিত নসিপুর কাঠগোলা বাগানবাড়ি, রামশঙ্কর রায় নির্মিত লালগোলা রাজবাড়ি, যা ১৯৮৭ সাল থেকে ‘মুক্ত সংশোধনাগার’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং নিমতিতা রাজবাড়ি, ২০২২ সালে হেরিটেজ ঘোষিত হয়েছে। বাংলার ছোটলাট স্যার জন পিটার গ্ৰ্যান্টের নামানুসারে নির্মিত ‘গ্ৰ্যান্ট হল’, বর্তমানে যা ‘যোগেন্দ্রনারায়ণ মিলনী’ এখনও মুর্শিদাবাদ জেলার অন্যতম প্রধান সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্র।
১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের উৎসস্থল ‘ব্যারাক স্কোয়ার’ মুর্শিদাবাদ জেলার একটি বিশেষ সম্পদ হিসেবে স্বীকৃত। ১৯৭৫ সালে চালু হওয়া ফারাক্কা ব্যারেজ একটি দর্শনীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্ব সম্পন্ন নদী বাঁধ। একবিংশ শতকে নির্মিত মতিঝিল পার্ক ও রঘুনাথগঞ্জে ভাগীরথীর তীরে নির্মিত ‘সুভাষদ্বীপ’ অত্যন্ত আকর্ষণীয় পিকনিক স্পট।
মুর্শিদাবাদ জেলায় সম্প্রতি প্রচুর স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে উঠেছে। তারা বছরভর সেবামূলক কাজ করছে। বিভিন্নভাবে দুস্থদের পাশে দাঁড়াচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপন্ন মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছে। সবুজায়নের প্রচারে চারাগাছ বিতরণ করছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করে সুন্দর সমাজ গঠনের বার্তা দিচ্ছে। কিছু সংগঠন ব্যাপক সংখ্যায় স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরের আয়োজন করে মুর্শিদাবাদ জেলা তথা গোটা রাজ্যেই সাড়া ফেলে দিয়েছে। জন্মদিবস, বিবাহ ও অন্নপ্রাশনের অনুষ্ঠানেও রক্তদান শিবির অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। সংগঠনগুলো সঙ্কটাপন্ন রোগীদের জন্য রাতবিরেতে সরাসরি হাসপাতালে রক্তদাতা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ জেলার ব্লাড ব্যাংকগুলোতে রক্তের জোগান দিতে দুর্দান্ত কাজ করে চলেছে। শত শত ‘রক্তযোদ্ধা’ শহরে ও গ্ৰামে মানুষের ভরসার পাত্র হয়ে উঠেছেন। মানবদেহের রক্ত সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য সরবরাহ করে রক্তদানকে জনপ্রিয় কর্মসূচি করে তুলেছেন তাঁরা।
সাগরদীঘির তরঙ্গ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট, উইনার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ও সাগরদীঘি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা রক্তদান আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রক্তদান আন্দোলনে সাগরদীঘি তথা মুর্শিদাবাদ জেলার উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১০-১১ জানুয়ারি, ২০২৬ সাগরদীঘিতে রক্তদাতাদের রাজ্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন:

ঋণ-স্বীকার: স্বাধীনোত্তর মুর্শিদাবাদের সমাজ ও সংস্কৃতি / দুলাল কুমার বসু।
(লেখক: প্রধানশিক্ষক, কাবিলপুর হাইস্কুল, মুর্শিদাবাদ)

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder