নতুন পয়গাম, তেহরান, ৩০শে ডিদিসেম্বর: ইরানের জাতীয় মুদ্রা রিয়াল মার্কিন ডলারের বিপরীতে সর্বকালের সর্বনিম্ন মূল্যে নেমে গেছে। রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) প্রতি ডলারের মূল্যমান ছিল প্রায় ১.৪৪ মিলিয়ন রিয়াল, যা সোমবার কিছুটা কমে ১.৩৮ মিলিয়ন রিয়ালে লেনদেন হয়েছে ।এই নাটকীয় দরপতনের ফলে মুদ্রাস্ফীতি ডিসেম্বরে বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতির হার ৪২.২ শতাংশে পৌঁছেছে। খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে ৭২% এবং স্বাস্থ্যসেবার খরচ বেড়েছে ৫০%।
সাধারণ মানুষের সঞ্চয় এবং বেতনের মান কমে যাওয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। একজন সাধারণ কর্মচারীর বেতন দুই মাসে ৩০০ ডলার থেকে কমে ২০০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অনেক সমালোচক এই পরিস্থিতিকে হাইপারইনফ্লেশনের পূর্বলক্ষণ হিসেবে দেখছেন।রাজধানী তেহরানসহ মাশহাদ, ইসফাহান এবং সিরাজের মতো বড় শহরগুলোতে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে ধর্মঘট পালন করছেন ঐতিহ্যবাহী গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীরা, যারা ১৯৭৯ সালের বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন, তারা ধর্মঘটে যোগ দিয়েছেন। তারা রাস্তায় নেমে “ভয় পেয়ো না, ভয় পেয়ো না, আমরা সবাই একসাথে” স্লোগান দিচ্ছেন।

কিছু এলাকায় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করতে হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।পরিস্থিতি সামাল দিতে ইরান সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। চাপের মুখে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোহাম্মদ রেজা ফারজিন পদত্যাগ করেছেন এবং তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবদোলনাসের হেম্মাতিকে।প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্বীকার করেছেন যে মানুষের জীবনযাত্রার মান নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন এবং সমস্যার সমাধানে অর্থনৈতিক সংস্কার এবং বিক্ষোভকারীদের সাথে আলোচনার কথা বলেছেন ।
বছরের পর বছর ধরে চলা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, বিশেষ করে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার পর পুনরায় আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো ইরানের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে। এছাড়া, সম্প্রতি ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে নতুন করে সৃষ্ট ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।