ফারাক্কা গেলেই নিখোঁজ! চার মাসে কালিয়াচক থেকে রহস্যজনকভাবে উধাও ৬ নাবালক ও যুবক

নতুন পয়গাম, আবু রাইহান, কালিয়াচক: মালদহ জেলার কালিয়াচক থানার অন্তর্গত একের পর এক নাবালক ও যুবক নিখোঁজের ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। গত চার মাসে কালিয়াচক থানা এলাকা থেকে অন্তত ছয়জন নাবালক ও যুবক রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছে বলে জানা গেছে। আশঙ্কার বিষয়, প্রতিটি ঘটনার সঙ্গেই কোনও না কোনওভাবে ফারাক্কার যোগসূত্র উঠে আসায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
সর্বশেষ ঘটনায় কালিয়াচক থানার সুজাপুর এলাকার তিনজন একসঙ্গে নিখোঁজ হয়েছেন। তাঁরা হলেন – হাসানুর শেখ (১৭), তৌসিফ কাজী (১৭) ও রিয়াজ খান (২৬)। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পুরাতন ভাঙাচোরা প্লাস্টিক ও লোহা-লক্কর কেনাবেচার কাজের জন্য প্রতিদিনের মতো শনিবার সকালেও তাঁরা ঝাড়খণ্ডের ফারাক্কা সংলগ্ন এলাকায় যান। পরিবারের দাবি, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে আটটার সময় শেষবার তাঁদের সঙ্গে ফোনে কথা হয়। তখন তাঁরা জানিয়েছিলেন, ফারাক্কায় নেমে বাড়ির পথে রওনা দিচ্ছেন। এরপর থেকেই তাঁদের মোবাইল ফোন সুইচ অফ হয়ে যায়। রাতভর অপেক্ষা করেও তাঁরা বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা চরম উদ্বেগে পড়েন। পরদিন কালিয়াচক থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়।
পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, সুজাপুর এলাকায় পুরাতন প্লাস্টিকের ব্যবসা ব্যাপকভাবে চলে। সেই সূত্রেই গত এক মাস ধরে তিনজন একসঙ্গে ফারাক্কা ও ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করছিলেন। কিন্তু এভাবে হঠাৎ তিনজনের একসঙ্গে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া তাঁদের কাছে অত্যন্ত রহস্যজনক। এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও একাধিক নাবালক ফারাক্কা সংলগ্ন এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়েছে।
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে নিখোঁজ কালিয়াচক থানার গুদুয়াগ্রাম বাঁধ এলাকার ১৩ বছরের নূর আলম। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কাঠের কারখানায় কাজ করা নূর আলম নিখোঁজের দিন সকালে টোটোতে করে কাঠের সামগ্রী নিয়ে ফারাক্কায় গিয়েছিল, তারপর আর বাড়ি ফেরেনি।
এছাড়াও, কালিয়াচক থানার পুরাতন ১৬ মাইল এলাকার ১৮ বছরের ইমরান আলি ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে নিখোঁজ। পরিবারের দাবি, নিখোঁজের একদিন আগে সে ফারাক্কায় গিয়েছিল এবং পরদিন দুপুরে ১৭ মাইল জাতীয় সড়কের আশেপাশের এলাকা থেকে সে নিখোঁজ হয়ে যায়। আরও একটি ঘটনায়, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে নিখোঁজ কালিয়াচক থানার কারারি চাঁদপুর এলাকার ১৩ বছরের আলী হোসেন। পরিবারের দাবি, বন্ধুরা জানিয়েছিল আলী হোসেন ফারাক্কার দিকে গিয়েছিল, কিন্তু সেও আর বাড়ি ফেরেনি।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, প্রতিটি নিখোঁজের ঘটনাতেই কালিয়াচক থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়েছে এবং সব ক্ষেত্রেই নিখোঁজ হওয়ার আগে বা নিখোঁজের সময় ফারাক্কা পর্যন্ত যাওয়ার তথ্য সামনে এসেছে। এলাকার বিশিষ্টজনদের প্রশ্ন, “কেন বারবার ফারাক্কা থেকেই কালিয়াচকের নাবালক ও যুবকরা নিখোঁজ হচ্ছে? এর পেছনে কি কোনও চক্র সক্রিয়?”
একাধিক ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে এলাকাবাসীর মনে তৈরি হয়েছে ভয় ও নানা আশঙ্কা। স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে পুলিশ প্রশাসনের তরফে বিশেষ তদন্ত দল গঠন করে বিষয়টির গভীরে তদন্ত করা হোক এবং ফারাক্কা ও সংলগ্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হোক। নচেৎ এই রহস্যজনক নিখোঁজের ঘটনা আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।















































































































