BREAKING:
ঘরের মাঠে সুরুচি-বধ মহামেডানের, তবুও চিন্তার ভাজ কপালে ডার্বি হারের পর জয়ে ফেরার মিশন বিসিসিআই-এর সেন্টার অব এক্সিলেন্সে তামিম ইকবাল চেন্নাই ছেড়ে ইংল্যান্ডের হেড কোচ ফ্লেমিং, ফের টেস্ট অধিনায়ক জো রুট নীরজের সঙ্গে ফাইনালে রোহিত-যশবীরও, জ্যাভলিনে ভারতের ট্রিপল ধামাকা সিলসের পেসে ছারখার পাকিস্তান, ১২০ রানে শেষ বাবরদের ইনিংস ১ আগস্ট ইস্টবেঙ্গলের ১০৭-তম প্রতিষ্ঠা দিবস চরম নির্যাতন ও দারিদ্র্যকে হারিয়ে সোনা, অদম্য ইচ্ছাশক্তির নতুন নাম শর্মিলা ধনকর মোহনবাগান-ইউনাইটেড নাটকীয় ম্যাচে ২ লাল কার্ড! সুহেলের গোলে জয় মোহনবাগানের ডুরান্ডে উড়ন্ত সূচনা মহামেডানের গ্লাসগোর রিং ও বারবেলে ভারতের জয়গাথা ফুটবলের রাজা এবার পর্দায়, নতুন ড্রামা সিরিজে সিআরসেভেন-আঁরি জুটি দিল্লিতে আফগানদের ‘হোম’ সিরিজ অনিশ্চিত, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের হাতে মাছ ধরার ছিপে জড়িয়ে ব্যাধপাড়ার জীবন-জীবিকা বর্ষায় বেহাল ক্যানিং জামতলা রাজ্য সড়ক ডেঙ্গু রুখতে রানাঘাট পৌরসভার অভিনব উদ্যোগ, বিদ্যালয়ে কর্মশালা ও কুইজ প্রতিযোগিতা তৃনমূল নেতার পুকুর থেকে উদ্ধার একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র জাল পরিচয়পত্র-সহ সাগরদিঘীতে ধৃত বাংলাদেশি যুবক ফেনসিডিল পাচারের আগেই সীমান্তে আটক চক্র আবগারি কর্মী সেজে চায়ের দোকানে হানা অনাস্থায় অপসারিত জঙ্গিপুরের পুরপ্রধান ঘরে বসে টাকা নিচ্ছেন তৃণমূল নেতা, মালদহে ‘প্রতিজ্ঞা অভিযান’-এর সূচনা, উচ্চশিক্ষা-পেশা নির্বাচনে পড়ুয়াদের পাশে জেলা প্রশাসন বিপ্লবী কানাইলাল ভট্টাচার্যের ৯৬তম আত্মাহুতি দিবস পালন জয়নগরে  চুঁচুড়ায় পঞ্চায়েত মন্ত্রী, ভিবি-জি রামজী প্রকল্প ও বন্যা মোকাবিলায় বৈঠক ডুরান্ডে নতুন চ্যালেঞ্জ! সোমবার যুবভারতীতে এফসি বেনারস ভাগপতের বিরুদ্ধে নামছে মহামেডান বিশ্বকাপ আউট, ক্লাব ইন: বেজে গেল ক্লাব ফুটবলের দামামা, আগস্টে লড়াই শুরু কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের জয়যাত্রা: মীরাবাই ও ঋষিকান্তের রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স বৈভবের ব্যাটে আগুন! জিম্বাবুয়েকে ৩-০-তে হোয়াইটওয়াশ করে সিরিজ ভারতের ‘জাগ্রত প্রহরী’ প্রকাশে নতুন অধ্যায়, ২২তম সাহিত্য সেতুতে সম্মানিত গুণীজন লোহরপুরের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা নুরুল ইসলাম কাশেমী আর নেই হাবড়ায় ২ চানাচুর কারখানায় খাদ্য সুরক্ষা দফতরের হানা, বাজেয়াপ্ত বিপুল সামগ্রী রায়চকে বিশ্ব ম্যানগ্রোভ দিবস উদযাপন ও কুলতলীতে আন্তর্জাতিক বাদাবন দিবস পালন শঙ্করপুর ট্রলার দুর্ঘটনায় নিহত মৎস্যজীবীদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা সহায়তা মুখ্যমন্ত্রীর বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সামশেরগঞ্জের বিধায়ক নুর আলম রবীন্দ্র নজরুল জন্ম শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠান ও বিনামূল্যে বিশ্বমানের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পরিষেবা মৎস্য কর্মাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও মারধরের অভিযোগ বারুইপুর থানায় ম্যানগ্রোভ রক্ষায় পর্যটনের ভূমিকা, কান্দি মহকুমা হাসপাতালে চালু ‘মা আহার’, ৫ টাকায় মিলছে মাছ-ভাত অবশেষে গ্রেফতার  উপপ্রধান নির্মল ঘোষ  শ্রাবণের দ্বিতীয় সোমবারে তারকেশ্বরমুখী পুণ্যার্থীদের ঢল, কড়া নিরাপত্তা বার নজির, জগদগুরু কৃপা সেবা মিশনের প্রথম রক্তদান শিবিরে ব্যাপক সাড়া ভয়েস পাবলিক স্কুলে আন্তঃক্যাম্পাস ইলোকিউশন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত সবজি বিক্রেতা থেকে কমনওয়েলথে পদক! ডার্বির রঙ সবুজ মেরুন, সাহালের গোলে ফ্যাকাশে লাল হলুদ ঈশান-ঝড়ে উড়ে গেল জিম্বাবুয়ে, বোলিংয়ে নজর কাড়লেন অভিষেক অপরাজেয় সুফিয়া: বীর জওয়ানদের উৎসর্গ করে ৫ হাজার কিমি পথ জয়ের লক্ষ্যে ১০টি খেলাতেও ১০০টা স্বপ্ন: লভলিনা-নীরজদের হাত ধরে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে ভারত নিজ ভূমে পরবাসী! দিল্লিতে ভারতের বিরুদ্ধেই ‘হোম’ সিরিজ খেলবে আফগানিস্তান গ্লাসগোর গ্যালারিতে ভারতের নতুন অধ্যায়: কমনওয়েলথ গেমসের রোমাঞ্চকর সূচনা ২০২৬ বিশ্বকাপের স্বপ্নের একাদশে মেসি-সহ আর কারা এশিয়ান গেমস ক্রিকেট: সরাসরি নকআউটে ভারত- পাকিস্তান, অপেক্ষায় আফগানিস্তান আজ জিতলেই সিরিজ পকেটে; নজরে বৈভব,মায়াঙ্ক, প্রিন্সরা ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, গ্রেফতার ৫ অভিযুক্ত সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  দীঘা জগন্নাথ মন্দিরে উল্টো রথযাত্রা ঘিরে ভক্তদের ঢল, ভক্তিমুখর পরিবেশে পালিত মহোৎসব উল্টোরথের রশিতে প্রথম টান গুপ্তিপাড়ায়, ভক্তসমাগমে মুখর ৩৬ ফুটের ঐতিহ্যের রথযাত্রা ওন্দায় তৃণমূল নেতাকে ‘ডিম থেরাপি’ ‘লাভ জিহাদ’ এর নামে হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি, জনগণনার কাজে যুক্ত হলে ‘অন্ ডিউটি ‘ হবে কিনা ধন্দে সরকারি কর্মী ও শিক্ষকরা গুন্ডা দমন আইন ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে কলকাতায় নাগরিক কনভেনশন নীতি আয়োগের তালিকায় নদীয়া: সেপ্টেম্বরেই শুরু মূল্যায়ন, সেরা হলে মিলবে ১০ কোটির বিশেষ ফান্ড গাড়ির ব্যাটারি চুরি চক্রের পর্দাফাঁস, মোট পাঁচ অভিযুক্ত গ্রেফতার, উদ্ধার ১৫টি চুরি যাওয়া ব্যাটারি সুন্দরবনে মাছ ধরার নৌকায় অস্ত্র পাচারের ঘটনায় গ্রেফতার চার, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র  পুলিশের ধাওয়ায় মাঝ নদীতে পাথরবোঝাই ট্রাক্টর ফেলে চম্পট জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রের নথি খতিয়ে দেখতে হুগলি-চুঁচুড়া ও বৈদ্যবাটি পুরসভায় পুলিশি অভিযান হেরিটেজ কলেজের রক্তদান শিবির ও গুণীজন সংবর্ধনা  গোবিন্দপুর রেল দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণ তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী, দিলেন চাকরির আশ্বাস মেজর সত্য গুপ্ত: নেতাজীর বিপ্লবী অভিযাত্রার এক অবিস্মরণীয় সহযোদ্ধা যন্তরমন্তরে ৬ বছরের শিশুর মন্তব্য ঘিরে আলোচনা লাঠির ঘায়ে কি আস্থা ফেরে? নিট বিতর্ক: গণতন্ত্রের কঠিন পরীক্ষা ক্ষমতার অহংকার ইতিহাসের কাছে কখনো জয়ী হয়নি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতে বিক্ষোভ, সহায়ককে মারধরের অভিযোগ সেবকে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা! নন্দী সেতুর নিচে পড়ল গাড়ি, নিহত ২, আহত ৩ নিটে ৬২১ নম্বর, অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্ক ৪৮৭৪: চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নপূরণের পথে রায়নার কৃষক-কন্যা বিপাশা হারারেতে টি-টোয়েন্টি যুদ্ধ, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভারতের প্রথম পরীক্ষা রানাঘাট বিজ্ঞান মঞ্চের উদ্যোগে সফলভাবে পালিত হলো অরণ্য সপ্তাহ কর্মসূচি চন্দননগরে ৭০ হাজার চারা বিতরণের দাবি বন দপ্তরের বাঁকুড়ায় এসএফআই-এর প্রতীকী অনশন, শিক্ষা ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের দাবি বাঘ সংরক্ষণ বিষয়ক কর্মশালা  নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র-যুবদের প্রতীকী অনশন চাকরি বিক্রির অভিযোগে অনুব্রত মণ্ডল-সহ ৬ জনের নামে মামলা ধুলিয়ানে সম্প্রীতির মঞ্চে নানা ধর্মের প্রতিনিধিরা, ঐক্য-সৌহার্দ্যের বার্তা সদ্ভাবনা মঞ্চের সময়ের ক্যানভাসে স্বপ্নের তুলি, নিউ জার্সিতে ফেরান তোরেসের মহাকাব্যিক অমরত্ব ট্রফি জয়ের পাশাপাশি একগুচ্ছ ব্যক্তিগত পুরষ্কার জিতলেন স্পেনের খেলোয়াড়রা গলি থেকে রাজপথ-লামিনে ইয়ামালের উত্থানের গল্প দৈনিক জনকণ্ঠের পাতায় দাম পেল না রোহিতের দুরন্ত শতরান, ইংল্যান্ডের কাছে ম্যাচ ও সিরিজ হারলো ভারত মালদা মুসলিম ইনস্টিটিউটে সভা ও বই প্রকাশ প্রথম বছরেই নিটে সাফল্য, কালিয়াচক ক্রিসেন্ট অ্যাকাডেমির জোড়া কৃতিত্ব কুলপির নাসিফার স্বর্ণপদক জয় মদ্যপ গেটম্যানের গাফিলতিতে রেল দুর্ঘটনা, চার শিশু-সহ নিহত ৫ অবসান হল একটি যুগের, জীবনাবসান স্যর গ্যারি সোবার্সের পাকিস্তান ক্রিকেটে আবার অন্ধকার, ডোপ টেস্টে ধরা পড়লেন মহম্মদ নওয়াজ একগুচ্ছ রেকর্ডের সামনে ফুটবলের বরপুত্র, ফাইনালেই গড়তে পারেন ১১ রেকর্ড! রিশাদের ঘূর্নি আর তানজিদ, তামিমের ব্যাটিংয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল টাইগাররা কাজে এল না বিরাটের দারুন ব্যাটিং, রুটের ব্যাটে হার ভারতের, সিরিজে সমতা ফেরাল ব্রিটিশরা গ্রন্থাগারিক দিবসের প্রাক্কালে ‘রবীন্দ্র দৃষ্টিতে গ্রন্থাগার’ শীর্ষক আলোচনা সভা জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে আজ আবারও মাঠে সাদাকালো শিবির, সামনে এরিয়ান

ডিএ মামলার রায় এত প্রলম্বিত হচ্ছে কেন?

প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, বিকাল ৫:৪২ | আপডেট: ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:০০
ডিএ মামলার রায় এত প্রলম্বিত হচ্ছে কেন — এ প্রশ্নটি আজ আর কেবল আইনি কৌতূহলের বিষয় নয়; বরং তা পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীর দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক গভীর সামাজিক ও নৈতিক প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।

মহম্মদ মফিজুল ইসলাম: ডিএ মামলার রায় এত প্রলম্বিত হচ্ছে কেন — এ প্রশ্নটি আজ আর কেবল আইনি কৌতূহলের বিষয় নয়; বরং তা পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীর দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক গভীর সামাজিক ও নৈতিক প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। প্রায় এক দশক ধরে চলা এই মামলা নানা পর্যায় পেরিয়ে অবশেষে শুনানি সম্পূর্ণ হয়েছে প্রায় তিন মাস আগে। আদালতের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর প্রত্যাশা ছিল, এবার অন্তত একটি চূড়ান্ত রায় মিলবে। অথচ সেই রায় এখনও অধরা। এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার কারণ কী? কোথায় আইনি জটিলতা? পক্ষে ও বিপক্ষে কোন যুক্তিগুলি আদালতের বিবেচনায় রয়েছে? এবং এই অনিশ্চয়তা রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্ককে কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছে — এ প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতেই আজ এই আলোচনা।
ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা কোনও দয়া বা অনুগ্রহ নয়, এটি কর্মচারীর বেতনেরই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা মূল্যবৃদ্ধির অভিঘাত থেকে ন্যূনতম সুরক্ষা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত। সংবিধানের ১৪ ও ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের আলোকে ‘সমান কাজের জন্য সমান বেতন’ এবং সম্মানজনক জীবনযাপনের অধিকার এই ভাতার নৈতিক ভিত্তি তৈরি করে। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা যখন মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নির্দিষ্ট হারে ডিএ পাচ্ছেন, তখন রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বৈষম্য স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দেয়। এই বৈষম্য থেকেই মামলার সূত্রপাত, যা ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে এক জটিল সাংবিধানিক ও আর্থিক বিতর্কে।
এই মামলার প্রধান আইনি প্রশ্নটি খুব সরল দেখালেও তার অন্তর্গত স্তরগুলি অত্যন্ত জটিল। রাজ্যের যুক্তি হল, রাজ্য সরকার কেন্দ্রের সমান ডিএ দিতে সাংবিধানিকভাবে বাধ্য নয়। রাজ্যের আর্থিক সক্ষমতা, রাজস্ব কাঠামো ও দায়বদ্ধতা কেন্দ্রের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। অতএব কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে রাজ্য হারের তুলনা করা যুক্তিসঙ্গত নয়। অপরদিকে কর্মচারী পক্ষের যুক্তি বলছে, মূল্যবৃদ্ধি দিল্লি ও কলকাতার জন্য আলাদা হয় না, বাজারের আগুনে পুড়তে হয় সবাইকেই। একই দেশে বসবাস করে একই মুদ্রাস্ফীতির চাপ সহ্য করে যদি এক শ্রেণি পূর্ণ ডিএ পায়, তবে অন্য শ্রেণিকে বঞ্চিত করার নৈতিক ও সাংবিধানিক ভিত্তি কোথায়?
এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই আদালতকে দাঁড় করাতে হয়েছে নিজেকে। কারণ, এটি কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বৈধতা যাচাইয়ের মামলা নয়; বরং এর প্রত্যক্ষ আর্থিক প্রভাব রাজ্যের কোষাগারের উপর বিপুল। আদালতের একটিমাত্র নির্দেশে রাজ্য সরকারকে কয়েক হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত দায় নিতে হতে পারে — এই বাস্তবতা অস্বীকার করার উপায় নেই। বিচারব্যবস্থার ইতিহাস বলছে, যে সব মামলার রায়ের সঙ্গে বৃহৎ আর্থিক দায় জড়িয়ে থাকে, সেখানে আদালত স্বাভাবিকভাবেই অধিক সতর্ক হয়। তড়িঘড়ি রায় দেওয়ার বদলে প্রতিটি যুক্তি, প্রতিটি নজির, প্রতিটি সাংবিধানিক ব্যাখ্যা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হয়।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল, এই মামলার নজিরমূলক চরিত্র। ডিএ সংক্রান্ত এই রায় ভবিষ্যতে শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, অন্যান্য রাজ্যগুলির ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে। যদি আদালত কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে রাজ্য ডিএ-র সামঞ্জস্য বাধ্যতামূলক বলে ঘোষণা করে, তবে বহু রাজ্য একই দাবির মুখে পড়বে। ফলে এটি কার্যত একটি জাতীয় স্তরের নীতি নির্ধারণের প্রশ্নে পরিণত হচ্ছে। বিচারপতিরা ভালভাবেই জানেন, এই রায়ের প্রতিটি বাক্য ভবিষ্যতে অসংখ্য মামলায় উদ্ধৃত হবে।
শুনানি শেষ হওয়ার পর রায় সংরক্ষিত থাকার অর্থ এই নয় যে, বিচারকরা নিষ্ক্রিয় রয়েছেন। বাস্তবে এই সময়টাই বিচার প্রক্রিয়ার সবচেয়ে কঠিন ও শ্রমসাধ্য পর্যায়। একাধিক বিচারপতির বেঞ্চ হলে প্রত্যেকের আলাদা আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি, ব্যাখ্যা ও নোট থাকে। কখনও কখনও সংখ্যাগরিষ্ঠ মত ও সংখ্যালঘু মতের খসড়া তৈরি হয়। এই মতপার্থক্য মেটাতে সময় লাগে। তাছাড়া সুপ্রিম কোর্ট ও বিভিন্ন হাই কোর্টের পূর্ববর্তী রায়গুলি বিশদে পর্যালোচনা করে দেখতে হয়, কোন নজির এখানে প্রযোজ্য, কোনটি নয়।
এখানে আরেকটি সূক্ষ্ম আইনি জটিলতা রয়েছে। ডিএ কি মৌলিক অধিকার, নাকি এটি সম্পূর্ণরূপে নীতিগত সিদ্ধান্ত? যদি আদালত একে নীতিগত সিদ্ধান্ত বলে মেনে নেয়, তবে সরকারের বিবেচনাধিকার অনেকটাই অক্ষুণ্ণ থাকে। আবার যদি আদালত মনে করে, ডিএ বঞ্চনা জীবনযাত্রার অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করছে, তবে হস্তক্ষেপ অবশ্যম্ভাবী। এই দুই ব্যাখ্যার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আদালতকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিতে হচ্ছে।
রায় বিলম্বিত হওয়ার পেছনে প্রশাসনিক বাস্তবতাও রয়েছে। আদালতের উপর মামলার চাপ, বিচারপতির স্বল্পতা, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক মামলার একসঙ্গে শুনানি — সব মিলিয়ে বিচারব্যবস্থার সময়সূচি অত্যন্ত ঘন। তবে এই যুক্তি যতই বাস্তব হোক, দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ কর্মচারীদের কাছে তা সান্ত্বনা দিতে পারে না। তাঁদের কাছে প্রতিটি মাস মানে আরও কিছু আর্থিক ক্ষতি, আরও কিছু অনিশ্চয়তা।
এই দীর্ঘসূত্রিতা রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের আস্থাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে। যখন একটি মামলা শুনানি শেষ হওয়ার পরেও মাসের পর মাস রায় ঝুলে থাকে, তখন সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ জন্মায়, কোথাও কি অদৃশ্য চাপ কাজ করছে? যদিও এই ধারণার পক্ষে সরাসরি প্রমাণ নেই, তবু গণতন্ত্রে আস্থার সংকট তৈরি হওয়াটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক।
সমাধানের পথ একাধিক। প্রথমত, বিচারব্যবস্থার পরিকাঠামো শক্তিশালী করা জরুরি, যাতে সংরক্ষিত রায় দীর্ঘদিন ঝুলে না থাকে। দ্বিতীয়ত, সরকার ও কর্মচারী সংগঠনের মধ্যে আন্তরিক আলোচনার মাধ্যমে অন্তর্বর্তী কোনও সমাধান খোঁজা যেতে পারে, যাতে চূড়ান্ত রায়ের আগেই কিছুটা স্বস্তি মেলে। তৃতীয়ত, ডিএ নির্ধারণের জন্য একটি স্বচ্ছ ও স্থায়ী সূত্র প্রণয়ন করা প্রয়োজন, যা রাজনৈতিক সদিচ্ছার উপর নির্ভরশীল থাকবে না।
ডিএ মামলার রায় কেবল একটি অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত হবে না; এটি হবে রাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থানের ঘোষণা। এই রায়ের মাধ্যমে আদালত জানিয়ে দেবে, মূল্যবৃদ্ধির যুগে শ্রমের মর্যাদা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই রায়ের প্রতীক্ষা শুধু আদালতের করিডোরে নয়, প্রতিটি কর্মচারীর রান্নাঘরে, প্রতিটি পরিবারের মাসিক বাজেটে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। যত দেরিই হোক, প্রত্যাশা একটাই — রায় হবে যুক্তিনিষ্ঠ, মানবিক ও ন্যায়সঙ্গত। কারণ, বিচার দেরিতে হলেও তা যেন অস্বীকারে পরিণত না হয়।

আরও পড়ুন
Copyright © Jano Kantho
Developed by eTech Builder